পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে বিশ্ব মুসলিমকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঈদের শুভেচ্ছা ও বিশেষ বার্তা

ঢাকা, ২৭ মে – পবিত্র ঈদুল আজহা বা কুরবানির ঈদের পুণ্যময় আবহে মুখরিত গোটা দেশ। ত্যাগের মহিমায় ভাস্বর এই বিশেষ দিনটিকে সামনে রেখে দেশবাসীসহ সমগ্র বিশ্ব মুসলিম উম্মাহকে ঈদের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বুধবার (২৭ মে) এক বিশেষ ভিডিও বার্তায় তিনি কুরবানির প্রকৃত শিক্ষা হিসেবে আত্মশুদ্ধি, তাকওয়া (আল্লাহভীতি) এবং মানবিক সহমর্মিতার ওপর বিশেষভাবে গুরুত্বারোপ করেন।
ভিডিও বার্তার শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত আবেগঘন ও তাত্ত্বিক ভাষায় কুরবানির মূল চেতনাকে স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, “ত্যাগের পরাকাষ্ঠা, তাকওয়ার মহিমান্বিত পথনির্দেশনা এবং আত্মশুদ্ধির অনন্য বার্তা নিয়ে বছর ঘুরে বিশ্ব মুসলিমের দুয়ারে আবারও হাজির পবিত্র ঈদুল আজহা। কুরবানি কেবল লোকদেখানো পশু জবাইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ কোনো উৎসব নয়; বরং মানুষের ভেতরের অন্তহীন লোভ-লালসা, হিংসা-বিদ্বেষ, অহংকার ও পশুত্বকে চিরতরে পরাভূত করার শিক্ষাই কুরবানির মূল তাৎপর্য।”
তিনি আশা প্রকাশ করেন, আল্লাহর কাছে পূর্ণ আত্মসমর্পণের এই পবিত্র উৎসব প্রত্যেকটি মানুষকে সত্য, সুন্দর ও ন্যায়ের পথে এগিয়ে নিতে অনন্য ভূমিকা পালন করবে।
যাদের সামর্থ্য রয়েছে এবং যারা এবার কুরবানি দিচ্ছেন, তাদের প্রতি একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল ও মানবিক আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। সমাজের কোনো দরিদ্র, অসহায় ও অসচ্ছল মানুষ যেন ঈদের আনন্দ থেকে বঞ্চিত না হয়, তা নিশ্চিত করতে তিনি বলেন, কুরবানির গোশত যেন ফ্রিজে জমিয়ে না রেখে সমাজের সুবিধাবঞ্চিত ও দরিদ্র প্রতিবেশীদের সাথে অকৃপণভাবে ভাগাভাগি করা হয়।
একে অপরের পাশে দাঁড়িয়ে সুখ-দুঃখ ভাগ করে নেওয়ার এই সংস্কৃতিই কুরবানির অন্যতম প্রধান সামাজিক শিক্ষা।
ঈদের আনন্দ উদযাপনের পাশাপাশি নাগরিক দায়িত্ব ও পরিবেশ সুরক্ষার বিষয়টিও প্রধানমন্ত্রীর বার্তায় জোরালোভাবে উঠে এসেছে।
বর্ষা ও গ্রীষ্মের এই বৈরী আবহাওয়ায় রোগব্যাধি ছড়ানো রোধে তিনি তিনটি সুনির্দিষ্ট অনুরোধ জানান:
১. বর্জ্য অপসারণে সহযোগিতা: কুরবানির পর পশুর রক্ত, হাড় ও বর্জ্য যত্রতত্র না ফেলে সিটি করপোরেশন বা স্থানীয় প্রশাসনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের দ্রুত বর্জ্য সরাতে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করতে হবে।
২. জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ: সম্ভব হলে সাধারণ নাগরিক ও তরুণ সমাজকে নিজ নিজ এলাকার পরিচ্ছন্নতা অভিযানে স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে অংশ নেওয়ার অনুরোধ জানান তিনি।
৩. চামড়া সংরক্ষণ: দেশের অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক সম্পদ পশুর চামড়া যেন অযত্নে নষ্ট না হয়, সেজন্য তা যথাযথ ও বৈজ্ঞানিক উপায়ে সংরক্ষণ করার তাগিদ দেন।
ভিডিও বার্তার সমাপনী অংশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশসহ সমগ্র মুসলিম বিশ্ব এবং গোটা মানবজাতির শান্তি, নিরাপত্তা, পারস্পরিক সম্প্রীতি ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা কামনা করে মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের দরবারে বিশেষ দোয়া করেন। বর্তমান বৈশ্বিক অস্থিরতার মাঝে পৃথিবী জুড়ে যেন শান্তি ও ভ্রাতৃত্ববোধ পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়—সেই প্রত্যাশা ব্যক্ত করে তিনি আবারও সবাইকে বলেন, “ঈদ মোবারক”।
এনএন/ ২৭ মে ২০২৬









