গাবতলী হাটে পশু বিক্রি বাড়লেও দাম নিয়ে বিক্রেতাদের অসন্তুষ্টি

ঢাকা, ২৭ মে – পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে রাজধানীর গাবতলী গবাদি পশুর হাটে গরু ও মহিষের বেচাকেনা বেড়েছে। তবে বিক্রি বাড়লেও বিক্রেতাদের মধ্যে ব্যাপক অসন্তুষ্টি দেখা গেছে। ঈদের আগ মুহূর্তে গরুর দাম আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে বলে দাবি করছেন বিক্রেতারা।
এর পাশাপাশি বৃষ্টির কারণে ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়কেই চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। বুধবার সকালে গাবতলী হাট এলাকা ঘুরে দেখা যায়, টানা বৃষ্টির ফলে হাটের বিভিন্ন স্থানে পানি জমে কাদা ও কর্দমাক্ত পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। কর্দমাক্ত পথে গবাদি পশু নিয়ে চলাচল করতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।
অনেক স্থানে পা ফেলার মতো জায়গাও নেই। এই বৈরি পরিবেশের কারণে পশু ওঠানামা ও কেনাবেচায় বিঘ্ন ঘটছে। দূর দূরান্ত থেকে আসা খামারি ও ব্যবসায়ীরা দ্রুত পানি নিষ্কাশন করে হাটের পরিবেশ উন্নয়নের জোর দাবি জানিয়েছেন। জামালপুর থেকে আসা বিক্রেতা ফরহাদ হোসেন জানান, তিনি ২২টি গরু নিয়ে হাটে এসেছিলেন এবং এখন পর্যন্ত ১৫টি বিক্রি হয়েছে।
তবে বাজার পরিস্থিতি অনুকূলে না থাকায় তিনি কাঙ্ক্ষিত দাম পাচ্ছেন না। কুষ্টিয়ার ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেনের ভাষ্য অনুযায়ী, ১০ মণ ওজনের একটি গরুর দাম বাড়িতে ৩ লাখ ২০ হাজার টাকা হলেও হাটে ক্রেতারা সর্বোচ্চ ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা বলছেন। এতে বিক্রি নিয়ে তিনি অনিশ্চয়তায় রয়েছেন।
একই অভিযোগ মানিকগঞ্জের সিংগাইর থেকে আসা ইদ্রিস মোল্লার। তিনি দুটি বড় গরু নিয়ে হাটে এলেও বাড়িতে বলা দামের তুলনায় ক্রেতারা কম দাম বলছেন। খাবার ও লালন পালনের ব্যয় বৃদ্ধির কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, কম দামে বিক্রি করলে বড় ধরনের লোকসানে পড়তে হবে।
এদিকে রাজধানীর শ্যামলী থেকে আসা ক্রেতা রফিকুল ইসলাম শান্ত জানান, বৃষ্টির কারণে ভালোভাবে গরু দেখে পছন্দ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। তবে তার মতে দাম কিছুটা সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে। বিক্রেতা আবুল হোসেন বলেন, গত দিনের তুলনায় দাম অনেক কমেছে। দুই লাখ টাকার গরু এখন দেড় লাখ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে। বৃষ্টির কারণে ক্রেতাদের উপস্থিতিও প্রত্যাশার তুলনায় কম বলে জানান তিনি।
এস এম/ ২৭ মে ২০২৬









