মধ্যপ্রাচ্য

লেবাননে হামলা বাড়ছে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান অচলাবস্থায় ফের যুদ্ধের শঙ্কা

তেহরান, ০৩ মে – মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আবারও বাড়ছে। দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর প্রাণঘাতী হামলা বৃদ্ধি এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনায় অগ্রগতি না হওয়ায় নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে ইরানের এক সামরিক কর্মকর্তা পুনরায় যুদ্ধ শুরুর শঙ্কা প্রকাশ করে সতর্কবার্তা দিয়েছেন।

অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সর্বশেষ একটি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। তেহরানে অবস্থানরত কূটনীতিকদের জানানো হয়েছে, যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া অথবা আলোচনায় ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত এখন পুরোপুরি যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভর করছে।

ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রত্যাখ্যাত প্রস্তাবে হরমুজ প্রণালিতে নৌযান চলাচল স্বাভাবিক রাখা এবং ইরানের ওপর আরোপিত মার্কিন অবরোধ প্রত্যাহারের কথা বলা হয়েছিল। তবে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা পরবর্তী পর্যায়ে করার প্রস্তাব দিয়েছিল তেহরান। যদিও ট্রাম্প এই প্রস্তাবে ‘কিছুটা অগ্রগতি’ স্বীকার করলেও তাতে সন্তুষ্ট হননি।

এর প্রতিক্রিয়ায় ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতার পথে এগোবে নাকি সংঘাতে ফিরবে—সে সিদ্ধান্ত এখন তাদেরই নিতে হবে। তিনি আরও বলেন, জাতীয় স্বার্থ ও নিরাপত্তা রক্ষায় উভয় পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত রয়েছে ইরান।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া সংঘাত ৮ এপ্রিল থেকে ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে স্থগিত রয়েছে। এরপর পাকিস্তানে এক দফা শান্তি আলোচনা অনুষ্ঠিত হলেও এখনো কোনো স্থায়ী সমাধান আসেনি।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম Axios-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন দূত Steve Witkoff আগের প্রস্তাবে সংশোধনী যুক্ত করেছেন, যার মাধ্যমে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে আবার আলোচনার আওতায় আনার চেষ্টা চলছে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, আলোচনার সময় ইরান যেন ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনা থেকে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সরিয়ে না নেয় বা সেখানে নতুন করে কার্যক্রম শুরু না করে।

পারমাণবিক ইস্যুর পাশাপাশি হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণও দুই পক্ষের মধ্যে বড় বিরোধের কারণ হয়ে উঠেছে। ফ্লোরিডায় এক সমাবেশে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মার্কিন সামুদ্রিক অভিযানের তুলনা করেন জলদস্যুতার সঙ্গে। অবরোধের আওতায় থাকা একটি তেলবাহী ট্যাঙ্কারে অভিযানের বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র অনেকটা জলদস্যুদের মতো জাহাজে উঠে তা দখল করে এবং তেলের কার্গো নিয়ে নেয়—যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।

এদিকে সংকট নিরসনে কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। কাতারের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আব্দুল রহমান বিন জসিম আল থানি ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি
-এর সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলে মধ্যস্থতার আশ্বাস দিয়েছেন এবং সব পক্ষকে সংযত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।

এছাড়া দক্ষিণ কোরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী চো হিউন -এর সঙ্গেও ইরানের কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। তারা আঞ্চলিক পরিস্থিতি ও সংঘাত নিরসনে সম্ভাব্য কূটনৈতিক উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা করেছেন।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি থাকা সত্ত্বেও দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি হামলা এবং হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে উত্তেজনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনায় অচলাবস্থা অব্যাহত থাকলে মধ্যপ্রাচ্য আবারও বড় ধরনের যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এনএন/ ০৩ মে ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language