পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন: রাজনীতির সমীকরণে প্রভাব ফেলছেন যারা

কলকাতা, ২২ এপ্রিল – পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বেজে উঠেছে। আগামী ২৩ এপ্রিল বৃহস্পতিবার রাজ্যের ১৬টি জেলার ১৫২টি আসনে প্রথম দফার ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এরপর ২৯ এপ্রিল দ্বিতীয় দফায় বাকি ৮ জেলার ১৪২টি আসনে ভোট সম্পন্ন হবে।
এবারের নির্বাচন রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য ক্ষমতা রক্ষা এবং ক্ষমতা দখলের বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে এই নির্বাচনে বেশ কয়েকজন ব্যক্তিত্ব প্রধান ফ্যাক্টর হিসেবে কাজ করছেন। তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চার দশক ধরে রাজনীতির ময়দানে সক্রিয় এবং বর্তমানে টানা ক্ষমতায় রয়েছেন। তার নারী ভোটার এবং সংখ্যালঘু সমর্থন বড় শক্তি হলেও দুর্নীতি ও নারী নিরাপত্তার মতো ইস্যুগুলো বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অন্যদিকে বিজেপি নরেন্দ্র মোদি ও অমিত শাহ জুটির ওপর ভর করে এগোতে চাইছে। কেন্দ্রীয় সরকারের উন্নয়ন এবং তৃণমূলের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগই তাদের প্রধান হাতিয়ার।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তৃণমূলের তরুণ মুখ হিসেবে দলের রণকৌশল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। সাবেক তৃণমূল নেতা এবং বর্তমান বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী নন্দীগ্রামের পর এবার ভবানীপুরেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন। এছাড়া মুর্শিদাবাদ অঞ্চলে হুমায়ুন কবীরের নতুন দল সংখ্যালঘু ভোট সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
বর্তমানে রাজ্যে এসআইআর ইস্যুটি সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে যা নির্বাচনে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মানুষের মৌলিক চাহিদাগুলো ছাপিয়ে বর্তমানে রাজনৈতিক কৌশলগুলোই মুখ্য হয়ে উঠেছে।
প্রবীণ সাংবাদিক শিখা মুখার্জীর মতে রাজ্যে মমতার গুরুত্ব যেমন অপরিসীম তেমনি বিজেপিও মোদি শাহ জুটির ওপর ভিত্তি করে বাংলা দখলের চেষ্টা করছে।
বিশ্লেষক উজ্জ্বল রায়ের মতে এবারের নির্বাচনে দুর্নীতির ইস্যুর পাশাপাশি এসআইআর এবং ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার বিতর্ক ভোটারদের মেরুকরণে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।
এনএন/ ২২ এপ্রিল ২০২৬









