ইরানের সঙ্গে ট্রাম্পের দ্বিমুখী নীতি: একদিকে হামলার হুমকি, অন্যদিকে আলোচনার প্রস্তাব

তেহরান, ৬ এপ্রিল – ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একাধারে হামলার হুমকি এবং আলোচনার প্রস্তাব দিয়ে দ্বিমুখী কৌশল অবলম্বন করেছেন। হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার আলটিমেটামের শেষ মুহূর্তে তিনি বিভিন্ন মার্কিন গণমাধ্যমে এ বিষয়ে কথা বলেছেন। একটি সাক্ষাৎকারে তিনি সতর্ক করে বলেন, হরমুজ প্রণালি খুলে না দিলে ইরানের সবকিছু ধ্বংস করে দেওয়া হবে এবং তাদের তেলের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া হবে। তবে পরক্ষণেই তিনি জানান, যারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় বসতে আগ্রহী তাদের জন্য সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করা হয়েছে।
একাধারে ধ্বংসের হুমকি এবং আলোচনার বার্তা দিয়ে ট্রাম্প বেশ বিভ্রান্তি তৈরি করেছেন। আরেকটি সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, তার ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টা জ্যারেড কুশনার এবং স্টিভ উইটকফ ইরানি প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন। বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, এই আলোচনায় মধ্যস্থতা করছে মিশর, পাকিস্তান ও তুরস্ক। একটি সূত্রের মতে, কুশনার ও উইটকফ সরাসরি খুদে বার্তার মাধ্যমে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সঙ্গে যোগাযোগ করছেন।
যদিও বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি, তবে ট্রাম্পের বক্তব্যের সঙ্গে এর মিল রয়েছে। এদিকে তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ফুয়াদ ইজাদি মন্তব্য করেছেন, ট্রাম্প তার দ্বিমুখী আচরণের কারণে নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছেন। তার মতে, ট্রাম্পের সাম্প্রতিক কথাবার্তা প্রমাণ করে যে তিনি প্রচণ্ড রাজনৈতিক চাপের মধ্যে রয়েছেন এবং কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়ে ক্রমশ ভারসাম্য হারিয়ে ফেলছেন।
রবিবার ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প সরাসরি ইরানের অবকাঠামো গুঁড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেন। তবে তিনি একই সঙ্গে দাবি করেন, ইরানের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা বর্তমানে আলোচনায় যুক্ত রয়েছেন এবং সোমবারের মধ্যে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে তেহরান ট্রাম্পের এই আলোচনার দাবিকে আগেই স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে।
এস এম/ ৬ এপ্রিল ২০২৬









