জাতীয়

মহাখালীর সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে হামের প্রকোপ, শয্যা সংকটে মেঝেতে চিকিৎসা

ঢাকা, ৪ এপ্রিল – রাজধানীর মহাখালীর সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে হামের প্রকোপে চরম শয্যা সংকট দেখা দিয়েছে। ওয়ার্ডে জায়গা না থাকায় রোগীরা বাধ্য হয়ে বারান্দা এবং মেঝেতে বিছানা পেতে চিকিৎসা নিচ্ছেন। ১০০ শয্যার এই হাসপাতালে বর্তমানে হামে আক্রান্ত ১১৫ জন রোগী ভর্তি আছেন। এর মধ্যে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র বা আইসিইউ এবং হাই ডিপেন্ডেন্সি ইউনিট বা এইচডিইউ মিলিয়ে ১১ জন গুরুতর অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। হামের জন্য নির্ধারিত শয্যা মাত্র ১০টি থাকায় অন্যান্য ওয়ার্ডেও রোগীদের ভর্তি করতে হচ্ছে।

হাসপাতালের পক্স ওয়ার্ডে বরিশালের বাসিন্দা গোলাম রাব্বি তার আট মাসের শিশু হুমায়রাকে নিয়ে গত নয়দিন ধরে ভর্তি আছেন। তিনি জানান, ঈদের পরদিন থেকে শিশুর জ্বর এবং গায়ে গুটি উঠতে শুরু করে। এলাকায় হামের টিকা দেওয়া হয়নি এবং এ বিষয়ে কোনো প্রচারণাও ছিল না বলে তিনি অভিযোগ করেন। একইভাবে টঙ্গীর বাসিন্দা শরীফুল ইসলাম শিশু হাসপাতালে জায়গা না পেয়ে এখানে এসেছেন এবং বারান্দায় মেঝেতে অবস্থান করছেন। কামরাঙ্গীরচরের আয়েশা বেগমও তার নয় মাস বয়সী মেয়ে মীমকে নিয়ে সংকীর্ণ পরিবেশে চিকিৎসা করাচ্ছেন। তাদের ক্ষেত্রেও এলাকায় হামের টিকা সম্পর্কে সচেতনতার অভাব ছিল।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে এখন পর্যন্ত ২৬ জন রোগী হাম এবং হাম পরবর্তী বিভিন্ন জটিলতায় মারা গেছেন। চিকিৎসকরা এই পরিস্থিতির জন্য টিকাদানে ঘাটতি ও সচেতনতার অভাবকে দায়ী করছেন। হাসপাতালের শিশুস্বাস্থ্য কনসালট্যান্ট ডা. এ আর এম সাখাওয়াত হোসেন জানান, প্রতি পাঁচ থেকে ছয় বছর পর পর দেশে হামের প্রকোপ বাড়ে। ২০১৯ সালেও এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। নয় মাস এবং ১৫ মাস বয়সে হামের টিকা দেওয়ার পর অনেক অভিভাবক বুস্টার ডোজ দেওয়ার ক্ষেত্রে উদাসীন থাকেন।

২০২০ সালের পর ২০২৫ সালের শুরুতে বুস্টার ডোজ দেওয়ার কথা থাকলেও তা না দেওয়ায় বর্তমান পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে তিনি মনে করেন। হামের সরাসরি মৃত্যুহার কম হলেও এর জটিলতা মারাত্মক হতে পারে। চিকিৎসকদের মতে, হাম হলে শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। ফলে নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়ার মতো রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। শিশুদের গায়ে জ্বর, সর্দি ও কাশির সঙ্গে তিলের মতো গুটি উঠলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং আক্রান্ত শিশুকে আলাদা রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বর্তমান সংকট মোকাবেলায় সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালকে ৫০০ শয্যায় উন্নীত করা এবং চিকিৎসক ও নার্সের সংখ্যা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

এস এম/ ৪ এপ্রিল ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language