নতুন বিশ্বব্যবস্থা ও ‘স্বাধীনতা জোট’ গঠনের আহ্বান ম্যাক্রোর

প্যারিস, ৪ এপ্রিল – বিশ্বে চলমান অস্থিরতা মোকাবিলা করে একটি নতুন বিশ্বব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রো। একইসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের অনিশ্চয়তা এবং চীনের আধিপত্য রুখতে তিনি একটি স্বাধীনতা জোট গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন।
দক্ষিণ কোরিয়া সফরকালে ইয়োনসেই বিশ্ববিদ্যালয় ও একটি অর্থনৈতিক ফোরামে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এই জোটের কথা তুলে ধরেন।
ম্যাক্রো জানান সক্ষম ও ইচ্ছুক দেশগুলোর সহযোগিতার ভিত্তিতে এই জোট গড়ে উঠবে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন এই উদ্যোগ কারও বিরুদ্ধে নয় বরং অন্যদের সঙ্গে একত্রে কাজ করার একটি প্রয়াস।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন বর্তমান বৈশ্বিক অস্থিরতার মধ্যে নিষ্ক্রিয় থাকা মোটেও সমীচীন নয়। দীর্ঘদিন ধরে বিশ্ব যে আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা ও স্থিতিশীলতার ওপর নির্ভর করে আসছিল তা বর্তমানে অনেকটাই নড়বড়ে হয়ে পড়েছে। তাই একটি নতুন ব্যবস্থা গড়ে তোলা অপরিহার্য।
অর্থনৈতিক ফোরামে বক্তৃতাকালে ম্যাক্রো উল্লেখ করেন আমেরিকান শুল্ক নীতি এবং চীনের অতিরিক্ত উৎপাদন ক্ষমতার মাঝে ইউরোপকে নিজস্ব উৎপাদন সক্ষমতা ধরে রাখতে হবে।
তিনি জোর দিয়ে বলেন চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মতো প্রভাবশালী শক্তির অধীনস্থ হওয়া উচিত নয়। দেশগুলোকে একদিকে চীনের আধিপত্য নির্ভরতা এড়াতে হবে অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের অনিশ্চয়তার ঝুঁকি থেকে নিজেদের মুক্ত রাখতে হবে।
ফরাসি প্রেসিডেন্টের মতে চীন বর্তমানে ভর্তুকি অতিরিক্ত উৎপাদন এবং গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদের নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলে নিজেদের প্রভাব বাড়ানোর চেষ্টা করছে। বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্র শুল্ক ও অন্যান্য ব্যবস্থার মাধ্যমে ভারসাম্য আনার প্রয়াস চালাচ্ছে।
আন্তর্জাতিক সহযোগিতার গুরুত্ব তুলে ধরে ম্যাক্রো বলেন সাম্প্রতিক বছরগুলোতে গবেষণা ও বিজ্ঞান খাতে বৈশ্বিক সহযোগিতায় বড় ধরনের ফাটল দেখা গেছে। কিছু দেশ পারস্পরিক সহায়তা প্রায় বন্ধ করে দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে কিছু সময়ের জন্য হলেও প্রতিযোগিতা থামিয়ে সঠিক সমঝোতার মাধ্যমে একসঙ্গে কাজ করার উপায় বের করা প্রয়োজন।
ইউরোপকে একটি অত্যন্ত আকর্ষণীয় মহাদেশ হিসেবে বর্ণনা করে তিনি বলেন এটি বর্তমানে আধুনিকায়ন ও সংস্কারের মধ্য দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে যেখানে আইন ও নিয়মের কঠোর অনুশাসন রয়েছে। উত্তর আমেরিকার নীতির আদলে ইউরোপ এখন মেড ইন ইউরোপ নীতি বাস্তবায়নের পথে অগ্রসর হচ্ছে বলেও তিনি জানান।
এনএন/ ৪ এপ্রিল ২০২৬









