জাতীয়

কৃষক কার্ডের মাধ্যমে আড়াই হাজার টাকার উপকরণ পাবেন প্রান্তিক কৃষকরা

কুষ্টিয়া, ৩১ মার্চ – কৃষক কার্ডের মাধ্যমে দেশের ভূমিহীন ও প্রান্তিক কৃষকদের আড়াই হাজার টাকার সার, বীজ ও অন্যান্য কৃষি উপকরণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সরকারের নির্বাচনি অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে প্রাথমিক পর্যায়ে এই প্রণোদনা দেওয়া হবে। মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে কুষ্টিয়া এক আসনের সংসদ সদস্য রেজা আহম্মেদের এক প্রশ্নের লিখিত জবাবে কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ এই তথ্য নিশ্চিত করেন। কৃষিমন্ত্রী জানান, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, কৃষকের জীবনমান উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে সরকার বিভিন্ন যুগোপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। শুধুমাত্র ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকরাই এই আড়াই হাজার টাকার প্রণোদনা পাবেন।

কৃষির উন্নয়নে সরকারের কৃষি পুনর্বাসন ও প্রণোদনা কর্মসূচির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, চলতি দুই হাজার পঁচিশ এবং ছাব্বিশ অর্থবছরে এই খাতে সাতশ কোটি টাকা বরাদ্দের মধ্যে ইতোমধ্যে চারশ এক কোটি ষাট লাখ টাকা ছাড় করা হয়েছে। এর ফলে দেশের পঁচিশ লাখ বাইশ হাজার কৃষক সরাসরি উপকৃত হয়েছেন। কৃষকদের ঋণ মওকুফের বিষয়ে মন্ত্রী জানান, সরকারের নির্বাচনি অঙ্গীকার অনুযায়ী ইতোমধ্যে কৃষকপ্রতি সর্বোচ্চ দশ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করা হয়েছে।

এই কার্যক্রমে সরকারের মোট এক হাজার পাঁচশ পঞ্চাশ কোটি টাকা ব্যয় হচ্ছে, যার সুফল পাচ্ছেন দেশের প্রায় বারো লাখ কৃষক। এছাড়া শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রবর্তিত খাল খনন কর্মসূচির ধারাবাহিকতায় কৃষি উৎপাদন বাড়াতে দেশব্যাপী বিশ হাজার কিলোমিটার খাল খনন ও পুনঃখননের বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। কৃষিমন্ত্রী আরও জানান, চলতি অর্থবছরে কৃষি উৎপাদনকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে সার, সেচ, বিদ্যুৎ ও আখসহ বিভিন্ন খাতে ব্যাপক ভর্তুকি দেওয়া হচ্ছে।

ভর্তুকি মূল্যে কৃষকদের মাঝে ছাব্বিশ লাখ মেট্রিক টন ইউরিয়া, সাড়ে নয় লাখ মেট্রিক টন টিএসপি, সাড়ে দশ লাখ মেট্রিক টন এমওপি এবং ষোলো লাখ পঁচাশি হাজার মেট্রিক টন ডিএপি সার সরবরাহ করা হয়েছে। এর পাশাপাশি দেশে সবজি ও ফল সংরক্ষণের জন্য একশ আশিটি মিনি কোল্ড স্টোরেজ, সাতশ তিনটি মডেল আলু সংরক্ষণাগার এবং আটশটি মডেল পেঁয়াজ সংরক্ষণাগার স্থাপন করা হয়েছে। সরকারের এসব বাস্তবসম্মত পদক্ষেপের ফলে দেশে ধান, ভুট্টা, আলু ও সবজিসহ অন্যান্য ফসলের উৎপাদন ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

এস এম/ ৩১ মার্চ ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language