ভারত-বাংলাদেশ পাইপলাইনের মাধ্যমে দেশে আবারও ডিজেল আমদানি শুরু

দিল্লী, ২৯ মার্চ – ভারত এবং বাংলাদেশের মধ্যকার ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইনের মাধ্যমে দেশে পুনরায় ডিজেল আমদানি শুরু হয়েছে। উত্তরাঞ্চলে জ্বালানি তেলের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে চলতি বছরে চতুর্থবারের মতো এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শনিবার সন্ধ্যা থেকে ভারতের আসামে অবস্থিত নুমালিগড় রিফাইনারি থেকে দিনাজপুরের পার্বতীপুর রেলহেড অয়েল ডিপোর উদ্দেশ্যে ডিজেল পাম্পিং শুরু হয়। মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেডের অপারেশনস ম্যানেজার কাজী মো. রবিউল আলম জানান, এবারের চালানে মোট ৭ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল আসবে।
পাম্পিং শুরু হওয়ার পর পাইপলাইনের মাধ্যমে এই জ্বালানি গন্তব্যে পৌঁছাতে সাধারণত ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টা সময় লাগে। আশা করা হচ্ছে, আগামী ৩১ মার্চের মধ্যে পুরো ৭ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল পার্বতীপুর রিসিপ্ট টার্মিনালে এসে পৌঁছাবে। পার্বতীপুর রেলহেড অয়েল ডিপোর ইনচার্জ আহসান হাবিব জানিয়েছেন, এর আগে গত শুক্রবার ৫ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল আসার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরে মোট চার দফায় ২২ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল এই পাইপলাইনের মাধ্যমে দেশে আনা হলো।
ভারত থেকে আসা এই জ্বালানি তেল পদ্মা, মেঘনা এবং যমুনার মতো রাষ্ট্রীয় তেল বিপণন কোম্পানির মাধ্যমে উত্তরাঞ্চলে সরবরাহ করা হচ্ছে। ১৩১ দশমিক ৫৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এই পাইপলাইন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর ২০১৮ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর স্থাপন করা হয়েছিল। পরবর্তীতে ২০২৩ সালের ১৮ মার্চ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এর মাধ্যমে ডিজেল আমদানি শুরু হয়।
এর ফলে আগে যেখানে খুলনা ও চট্টগ্রাম থেকে রেলে তেল আনতে ৬ থেকে ৭ দিন সময় লাগত, এখন তা অতি অল্প সময়ে সম্পন্ন হচ্ছে। দুই দেশের মধ্যকার চুক্তি অনুযায়ী, আগামী ১৫ বছর এই পাইপলাইনের মাধ্যমে ভারত থেকে ডিজেল সরবরাহ অব্যাহত থাকবে। বর্তমানে বছরে ২ থেকে ৩ লাখ টন আমদানির লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও ভবিষ্যতে তা বাড়িয়ে ১০ লাখ মেট্রিক টন পর্যন্ত উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
এস এম/ ২৯ মার্চ ২০২৬









