নরসিংদীর ড্রিম হলিডে পার্কে দর্শনার্থীদের উপচেপড়া ভিড়

নরসিংদী, ২৫ মার্চ – পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে নরসিংদীর বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে দর্শনার্থীদের উপচেপড়া ভিড় দেখা গেছে। বিশেষ করে জেলার পাঁচদোনায় অবস্থিত ড্রিম হলিডে পার্কটি ঈদের দিন থেকেই সব বয়সী মানুষের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে। সকাল থেকেই শিশু, কিশোর ও তরুণসহ নানা শ্রেণি পেশার মানুষ পরিবার পরিজন নিয়ে এই পার্কে ভিড় জমাচ্ছেন। ঢাকা সিলেট মহাসড়কের পাশে পাঁচদোনার চৈতাব এলাকায় প্রায় ৬০ একর জায়গার ওপর নির্মিত এই আধুনিক বিনোদন কেন্দ্রটি প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত খোলা থাকে। এই পার্কে প্রবেশের জন্য প্রাপ্তবয়স্কদের ৩৫০ টাকা এবং শিশুদের ২৫০ টাকা মূল্যের টিকিট সংগ্রহ করতে হয়।
তবে ওয়াটার পার্কে প্রবেশের ক্ষেত্রে প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ৪৫০ টাকা এবং শিশুদের জন্য ৩৫০ টাকা ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়াও পার্কে থাকা লকার ১০০ থেকে ৫০০ টাকায় ভাড়া নেওয়া যায়। পার্কটিতে প্রায় ৩০টির বেশি আকর্ষণীয় রাইড রয়েছে, যেগুলোর প্রতিটির জন্য আলাদাভাবে ৭০ থেকে ২০০ টাকা খরচ করতে হয়। ঈদের আনন্দকে বাড়িয়ে তুলতে পুরো পার্কজুড়ে বিশেষ সাজসজ্জার ব্যবস্থা করেছে কর্তৃপক্ষ। ঢাকা থেকে আসা ফারজানা বেগম জানান, তিনি উত্তরা থেকে স্বামীর সঙ্গে ঈদের ছুটিতে ঘুরতে এসেছেন। বহুদিন ধরে জায়গাটি দেখার ইচ্ছা ছিল বলে এবার সুযোগ পেয়েই চলে এসেছেন। আরেক দর্শনার্থী অনামিকা সাহা বলেন, এখানে ধর্মভেদ নেই, সবাই মিলে একসঙ্গে ঈদ আনন্দ উপভোগ করছেন এবং সুন্দর পরিবেশ পেয়ে তারা দারুণ খুশি।
কাঁচপুর থেকে পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসা সুমাইয়া জানান, তারা প্রতি বছরই এখানে আসেন এবং বিশেষ করে সি ওয়ার্ল্ড রাইডটি তার ভীষণ পছন্দের। পার্কটিতে বুলেট ট্রেন, স্কাই ট্রেন, সোয়ান বোট, রোলার কোস্টারসহ বিভিন্ন রাইডে চড়ার পাশাপাশি ওয়াটার পার্কে ডিজে গানের তালে নেচে গেয়ে উৎসব উদ্যাপন করছেন আগতরা। ঢাকা থেকে আসা কামাল মিয়া জানান, ব্যস্ত শহরের জীবন থেকে দূরে শান্ত পরিবেশে তিনি দারুণ সময় কাটাচ্ছেন। নতুন আকর্ষণ হিসেবে যুক্ত হয়েছে সি ওয়ার্ল্ড ও ড্রিম রিভার ক্যাব।
ড্রিম রিভার ক্যাবে দর্শনার্থীরা পিরামিড, আগ্নেয়গিরি ও সুন্দরবনের প্রাণীকুলের আবহ পাচ্ছেন। ড্রিম হলিডে পার্কের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রবীর কুমার সাহা জানিয়েছেন, প্রতি ঈদে দর্শনার্থীদের জন্য নতুন কিছু উপহার দেওয়ার চেষ্টা থাকে তাদের। এবারও দুটি নতুন রাইড সংযোজন করা হয়েছে এবং পঞ্চাশের দশকের গ্রামীণ জীবনধারাও ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। এছাড়া নিরাপত্তা বজায় রাখতে আনসার সদস্য ও নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবকরা নিরলসভাবে কাজ করছেন। দেশের পর্যটন কেন্দ্রগুলো ঘুরে দেখলে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের পাশাপাশি পর্যটন শিল্পের আরও বিকাশ ঘটবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এস এম/ ২৫ মার্চ ২০২৬









