প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা ২০২৫: পরীক্ষার্থীদের জন্য ১০ নির্দেশনা প্রকাশ

ঢাকা, ২৩ মার্চ – আগামী বছরের এপ্রিলে ২০২৫ সালের সরকারি প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এখনো পরীক্ষার বিস্তারিত সময়সূচি ঘোষণা করা হয়নি। তবে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে পরীক্ষার পূর্ণাঙ্গ নীতিমালা প্রকাশ করেছে। এই নীতিমালায় পরীক্ষার্থীদের জন্য ১০টি বিশেষ নির্দেশনা এবং পরীক্ষা চলাকালীন আচরণবিধি নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের বাংলা, ইংরেজি, গণিত, প্রাথমিক বিজ্ঞান এবং বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় এই পাঁচটি বিষয়ে পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে। এর মধ্যে বাংলা, ইংরেজি ও গণিত বিষয়ের ১০০ নম্বরের পরীক্ষার জন্য সময় বরাদ্দ থাকবে আড়াই ঘণ্টা।
অন্যদিকে প্রাথমিক বিজ্ঞান এবং বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বিষয়ে ৫০ নম্বর করে মোট ১০০ নম্বরের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এর জন্যও আড়াই ঘণ্টা সময় বরাদ্দ থাকবে। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন পরীক্ষার্থীরা নিয়মানুযায়ী অতিরিক্ত ৩০ মিনিট সময় পাবেন। বৃত্তির জন্য বিবেচিত হতে হলে একজন শিক্ষার্থীকে প্রতিটি বিষয়ে অন্তত ৪০ শতাংশ নম্বর পেতে হবে। নীতিমালা অনুযায়ী ট্যালেন্টপুল এবং সাধারণ এই দুটি ক্যাটাগরিতে বৃত্তি প্রদান করা হবে। মেধা তালিকায় ছাত্র ও ছাত্রীদের সমানুপাতিক হারে অর্থাৎ ৫০ শতাংশ করে নির্বাচন করা হবে। এছাড়া মোট বৃত্তির ৮০ শতাংশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য এবং অবশিষ্ট ২০ শতাংশ বেসরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে।
প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার্থীদের বেশ কিছু নির্দেশনা মেনে চলতে হবে। পরীক্ষার্থীকে প্রবেশপত্রসহ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পরীক্ষার হলে উপস্থিত হতে হবে। প্রবেশপত্র ছাড়া কেউ পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবে না। পরীক্ষার হলে প্রবেশপত্র ছাড়া অন্য কোনো অননুমোদিত কাগজপত্র, ক্যালকুলেটর, মোবাইল ফোন বা অন্য কোনো ইলেকট্রনিক ডিভাইস সঙ্গে আনা যাবে না। উত্তরপত্রের কভার পৃষ্ঠার নির্ধারিত স্থানে নাম, বিষয় কোড ও রোল নম্বর ছাড়া অন্য কোনো কিছু লেখা যাবে না। উত্তরপত্রে অবশ্যই পরিদর্শকের স্বাক্ষর থাকতে হবে, অন্যথায় তা বাতিল বলে গণ্য হবে। উত্তরপত্রের ভেতর বা বাইরে পরীক্ষার্থীর নাম, ঠিকানা, রোল নম্বর বা কোনো সাংকেতিক চিহ্ন বা আপত্তিকর কোনো কিছু লেখা যাবে না।
খসড়ার জন্য কোনো অতিরিক্ত কাগজ দেওয়া হবে না, প্রদত্ত উত্তরপত্রেই খসড়ার কাজ করে তা যথাযথভাবে কেটে দিতে হবে। প্রদত্ত উত্তরপত্র ছাড়া টেবিল, স্কেল, নিজ দেহ বা অন্য কোথাও পরীক্ষার্থী কোনো কিছু লিখতে পারবে না। প্রশ্নপত্র বিতরণের পর এক ঘণ্টা পার না হওয়া পর্যন্ত কোনো পরীক্ষার্থী পরীক্ষার হলের বাইরে যেতে পারবে না। পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর কর্তব্যরত পরিদর্শকের কাছে উত্তরপত্র জমা দিয়ে পরীক্ষার হল ত্যাগ করতে হবে। এছাড়া পরীক্ষা চলাকালে আচরণের কিছু নির্দেশিকাও দেওয়া হয়েছে। পরীক্ষার হলে একে অন্যের সঙ্গে কথা বলা নিষেধ। প্রশ্নপত্র বা অন্য কোনো মাধ্যমে কিছু লিখে অন্য পরীক্ষার্থীর সঙ্গে বিনিময় করা যাবে না। অন্যের উত্তরপত্র দেখে লেখা বা অন্যকে দেখানোর কাজে সহযোগিতা করা যাবে না। উত্তরপত্র জমা না দিয়ে পরীক্ষার হল ত্যাগ করা যাবে না। পাশাপাশি উত্তরপত্রের পৃষ্ঠা পরিবর্তন বা বিনষ্ট করাও সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
এস এম/ ২৩ মার্চ ২০২৬









