মধ্যপ্রাচ্য

ইরানের খরগ দ্বীপ ও হরমুজ প্রণালী নিয়ে ট্রাম্পের দ্বিমুখী অবস্থান, বিশ্ব অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা

তেহরান, ২১ মার্চ – ইরানের প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র খরগ দ্বীপ নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ কোনো পরিকল্পনা রয়েছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রহস্যময় ও রসিকতাপূর্ণ মন্তব্য করেছেন। তিনি জানান, তার কোনো পরিকল্পনা থাকতেও পারে আবার নাও থাকতে পারে এবং একজন সাংবাদিকের কাছে তা প্রকাশ করার কোনো যৌক্তিকতা নেই।

এ সময় তিনি হবু পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর প্রসঙ্গ টেনে প্রশ্নকর্তার সাথে কৌতুক করেন। তবে পেন্টাগন ইতিমধ্যে এই সংঘাতের জন্য অতিরিক্ত ২০০ বিলিয়ন ডলারের বরাদ্দ চেয়েছে, যা যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে। হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প সরাসরি যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা নাকচ করে দেন।

তিনি উল্লেখ করেন, যখন প্রতিপক্ষকে আক্ষরিক অর্থেই নিশ্চিহ্ন করা হচ্ছে, তখন যুদ্ধবিরতির কোনো প্রশ্নই অবান্তর। অন্যদিকে একটি সামাজিক মাধ্যমের পোস্টে ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক অভিযান গুটিয়ে নেওয়ারও ইঙ্গিত দিয়েছেন।

তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র তাদের লক্ষ্য অর্জনের খুব কাছাকাছি পৌঁছে যাওয়ায় এখন সামরিক তৎপরতা কমিয়ে আনার কথা ভাবা হচ্ছে। কৌশলগত দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী নিয়ে ট্রাম্প নতুন অবস্থানের কথা জানিয়েছেন। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, এই জলপথটি পাহারা দেওয়া এবং সুরক্ষিত রাখার মূল দায়িত্ব সেইসব দেশের যারা এটি ব্যবহার করে। যুক্তরাষ্ট্র একা এই দায়িত্ব পালন করবে না।

ট্রাম্পের মতে, একবার ইরানের হুমকি নির্মূল হয়ে গেলে এটি অন্যান্য দেশের জন্য একটি সহজ সামরিক অভিযান হবে এবং যুক্তরাষ্ট্র কেবল অনুরোধ পেলেই তাদের সহায়তা করবে। বিশ্ব অর্থনীতিতে এই প্রণালীটির গুরুত্ব অনেক কারণ বিশ্বের মোট তেলের প্রায় এক পঞ্চমাংশ এই পথে পরিবাহিত হয়। এর সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার প্রভাব সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে পড়ছে।

বেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ইতিমধ্যে ব্যারেল প্রতি ১১২ ডলারে পৌঁছেছে এবং ক্যালিফোর্নিয়ার কিছু এলাকায় পেট্রোলের দাম গ্যালন প্রতি ৮ ডলারে গিয়ে ঠেকেছে। আসন্ন নির্বাচনের আগে এটি ট্রাম্পের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

ব্লুমবার্গের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান বর্তমানে হরমুজ প্রণালী নিয়ে কোনো ধরনের আলোচনায় বসতে রাজি নয়। এছাড়া হোয়াইট হাউস খরগ দ্বীপসহ ইরানের বিভিন্ন জ্বালানি স্থাপনা দখলের জন্য শত শত মেরিন সেনা মোতায়েনের পরিকল্পনা করছে বলেও খবর পাওয়া গেছে।

গোয়েন্দা তথ্যানুযায়ী ব্যাপক ক্ষতির পরও তেহরানের বর্তমান শাসকগোষ্ঠী এখনো পতনোন্মুখ নয়, বরং তারা অবশিষ্ট নেতাদের নেতৃত্বে আরও বেশি ঐক্যবদ্ধ হচ্ছে।

এই পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের অভিযান গুটিয়ে নেওয়ার ঘোষণা এবং একই সঙ্গে স্থল সেনা মোতায়েনের পরিকল্পনা বিশ্ব অর্থনীতি ও রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।

তেলের দাম কমার আশায় বিনিয়োগকারীরা ট্রাম্পের বক্তব্যের দিকে নজর রাখলেও বাজারের অস্থিরতা আপাতত দূর হওয়ার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।

এ এম/ ২১ মার্চ ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language