মধ্যপ্রাচ্য

সিরিয়ায় ইসরায়েলি হামলার তীব্র নিন্দা জানাল সৌদি আরব ও তুরস্ক

দামেস্ক, ২১ মার্চ – সিরিয়ার সরকারি সামরিক স্থাপনায় ইসরায়েলি বিমান হামলাকে নগ্ন আগ্রাসন আখ্যা দিয়ে এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছে সৌদি আরব। শনিবার সৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায় যে এই হামলা আন্তর্জাতিক আইন এবং সিরিয়ার সার্বভৌমত্বের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে রিয়াদ এই আগ্রাসন বন্ধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার এবং ইসরায়েলি আইন লঙ্ঘনের অবসান ঘটানোর আহ্বান জানিয়েছে। তুরস্কও সৌদি আরবের অবস্থানের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে এই হামলাকে একটি বিপজ্জনক উসকানি হিসেবে বর্ণনা করেছে যা পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ফেলেছে। অন্যদিকে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী গত শুক্রবার দাবি করেছিল যে সিরিয়ার সুয়েইদা প্রদেশে দ্রুজ সম্প্রদায়ের ওপর হামলার জবাবে তারা দক্ষিণ সিরিয়ায় এই আক্রমণ চালিয়েছে।

ইসরায়েলের ভাষ্যমতে তারা এই সংখ্যালঘু গোষ্ঠীকে রক্ষার জন্য পদক্ষেপ নিয়েছে এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত রাখবে। তবে সিরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইসরায়েলের এই যুক্তিকে বানোয়াট অজুহাত হিসেবে প্রত্যাখ্যান করেছে। দামেস্কের মতে এটি সিরিয়ার ভূখণ্ড ও সার্বভৌমত্বের ওপর একটি জঘন্য আঘাত। গত বছরও ইসরায়েল একই ধরনের অজুহাতে সিরিয়ায় বিমান হামলা চালিয়েছিল যা ওই অঞ্চলে দীর্ঘমেয়াদী অস্থিরতা তৈরি করেছে।

সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস জানিয়েছে বৃহস্পতিবার সুয়েইদা প্রদেশে সরকারি বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে অন্তত চারজন দ্রুজ যোদ্ধা নিহত হয়েছেন। এরপর ইসরায়েলি গোলাবর্ষণে সুয়েইদা শহরের আবাসিক এলাকাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। যদিও ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান সরাসরি যুদ্ধ থেকে সিরিয়া এখন পর্যন্ত নিজেকে দূরে রাখার চেষ্টা করছে তবে এই নতুন হামলা দেশটিকে আঞ্চলিক সংঘাতের মধ্যে টেনে আনার ঝুঁকি তৈরি করেছে।

বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরান অভিযানের পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় যখন পুরো মধ্যপ্রাচ্য উত্তপ্ত তখন সিরিয়ায় এই নতুন ফ্রন্ট খোলা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও এই ঘটনার কড়া সমালোচনা করে জানিয়েছে যে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত ইসরায়েলের এই বেপরোয়া আচরণ এখনই থামানো।

সিরিয়া এই হামলাকে তাদের আঞ্চলিক অখণ্ডতার ওপর সরাসরি আক্রমণ হিসেবে দেখছে। রিয়াদ ও আঙ্কারার এই যৌথ অবস্থান ইঙ্গিত দিচ্ছে যে মধ্যপ্রাচ্যের প্রভাবশালী দেশগুলো এখন ইসরায়েলের সামরিক তৎপরতা নিয়ে আগের চেয়ে অনেক বেশি সোচ্চার।

যুদ্ধের এই পর্যায়ে সিরিয়ার ভূখণ্ডে নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়লে তা বিশ্ব অর্থনীতি ও নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

এ এম/ ২১ মার্চ ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language