পর্যটন

পর্যটকদের বরণে প্রস্তুত শ্রীমঙ্গল, রিসোর্টে আগাম বুকিংয়ের হিড়িক

মৌলভীবাজার, ১৯ মার্চ – ঈদের ছুটি উপলক্ষে শহরের যান্ত্রিক কোলাহল এড়িয়ে প্রকৃতির সান্নিধ্যে সময় কাটাতে ভ্রমণপিপাসুরা প্রস্তুত। চা বাগান, পাহাড়, টিলা ও সবুজ অরণ্যঘেরা রিসোর্ট এবং কটেজগুলো পর্যটকদের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ। এরই ধারাবাহিকতায় এবারও পর্যটকদের বরণ করতে পুরোপুরি প্রস্তুত মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল। পর্যটকদের অভ্যর্থনা জানাতে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা প্রায় সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন। দর্শনার্থীদের সার্বিক নিরাপত্তার জন্য পর্যটন পুলিশ প্রস্তুত রয়েছে। পাশাপাশি পর্যটকদের যাতায়াতের সুবিধার্থে চাঁদের গাড়ি বা জিপ প্রস্তুত রাখা হয়েছে। স্থানীয় রিসোর্ট ও কটেজগুলোতেও ব্যাপকভাবে অগ্রিম বুকিং চলছে।

বিভিন্ন রিসোর্ট, কটেজ ও রেস্টুরেন্ট মালিকদের তথ্য অনুযায়ী, তারা প্রায় এক মাস আগে থেকেই নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের সংস্কার কাজ শুরু করেছিলেন যা বর্তমানে শেষ পর্যায়ে রয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলোতে রং করা, পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা এবং সাজসজ্জার কাজ চলছে। রেস্টুরেন্টগুলো তাদের খাদ্যতালিকায় নতুন নতুন মেনু যুক্ত করছে। এছাড়া বিভিন্ন হোটেল রিসোর্ট ও কটেজগুলোতে আকর্ষণীয় অফার ঘোষণা করা হয়েছে। জানা গেছে, আগামী ২২ থেকে ২৪ এপ্রিল পর্যন্ত বিভিন্ন রিসোর্ট ও কটেজের প্রায় নব্বই শতাংশ রুম বুকিং হয়ে গেছে। অন্যদিকে শহরের ভেতরের হোটেলগুলোতে বুকিংয়ের হার চল্লিশ থেকে পঞ্চাশ শতাংশ।

চামুং রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড ইকো ক্যাফের মালিক তাপস দাশ জানান, রেস্টুরেন্টের পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা ও সাজসজ্জার কাজ শেষ হয়েছে। বাংলা, চায়নিজ ও থাই খাবারের পাশাপাশি এবার আদিবাসী খাবারের বিশেষ আয়োজন রাখা হয়েছে। অরণ্যের দিনরাত্রি রিসোর্টের মালিক কুমকুম হাবিবা জানান, আগামী ২২ থেকে ২৬ তারিখ পর্যন্ত তাদের রিসোর্টের প্রায় আশি শতাংশ বুকিং সম্পন্ন হয়েছে। গ্র্যান্ড সুলতান টি রিসোর্ট অ্যান্ড গলফের জেনারেল ম্যানেজার আরমান খান জানান, ঈদের সময় বিদেশি পর্যটকদের চেয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের পর্যটকদের উপস্থিতিও বেশি থাকে এবং বর্তমানে তাদের বুকিং প্রায় শতভাগ পূর্ণ। শ্রীমঙ্গল পর্যটন সেবা সংস্থার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও গ্র্যান্ড সেলিম রিসোর্টের মালিক সেলিম আহমেদ ঈদের পরদিন থেকে ব্যাপক পর্যটক সমাগমের আশা প্রকাশ করেছেন।

টুরিস্ট পুলিশ শ্রীমঙ্গল কমলগঞ্জ জোনের ওসি মো. কামরুল হোসেন চৌধুরী জানান, পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন, টুরিস্ট পুলিশ, র‌্যাব এবং বিজিবি যৌথভাবে নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিচালনা করবে এবং বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্রে সার্বক্ষণিক টহল দল উপস্থিত থাকবে। শ্রীমঙ্গলে দর্শনীয় স্থানগুলোর মধ্যে রয়েছে চা বাগান, হাইল হাওর, চা কন্যার ভাস্কর্য, রমেশ রাম গৌড়ের সাত রঙের চা, বধ্যভূমি ৭১, বাংলাদেশ চা গবেষণা কেন্দ্র, রাবার বাগান, গোলটিলা, হাজমটিলা, লালটিলা, বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশন, খাসিয়া পুঞ্জি, মনিপুরী সম্প্রদায়ের তাঁতশিল্প, গারো পল্লি, ভাড়াউড়া লেক ও শংকর টিলা। প্রকৃতিপ্রেমীরা খুব কাছ থেকে এসব প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করার সুযোগ পাবেন।

এস এম/ ১৯ মার্চ ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language