ঢাবি যুবক হত্যা মামলা: আদালতে আত্মসমর্পণের আবেদন করে আসামির পলায়ন

ঢাকা, ১৫ মার্চ – ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক মুসলিম হলে চোর সন্দেহে তোফাজ্জল হোসেনকে পিটিয়ে হত্যার মামলায় এক আসামি আদালতে আত্মসমর্পণের আবেদন জমা দিয়ে পালিয়ে গেছেন।
রোববার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানার আদালতে এ ঘটনা ঘটে।
অভিযুক্ত রাশেদ কামাল অনিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মৃত্তিকা, পানি ও পরিবেশ বিভাগের শিক্ষার্থী। প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক জিন্নাত আলী জানান, অনিক নামের ওই আসামির আত্মসমর্পণের পাশাপাশি জামিন আবেদন জমা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু শুনানির সময় ডাকা হলে আইনজীবী ও আসামি কাউকেই পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে আসামির আইনজীবী জামাল উদ্দিনের সঙ্গে সাংবাদিকরা যোগাযোগ করলে তিনি নেটওয়ার্কের সমস্যার কথা বলে ফোন কেটে দেন এবং পরে আর সাড়া দেননি।
গত মঙ্গলবার এই মামলায় ২৮ জন আসামির বিরুদ্ধে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) দেওয়া অভিযোগপত্র গ্রহণ করেছে আদালত। আসামিদের মধ্যে দুজন জামিনে এবং চারজন কারাগারে রয়েছেন। রাশেদ কামাল অনিকসহ বাকি ২২ জন আসামি পলাতক।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর রাতে ফজলুল হক মুসলিম হলের অতিথি কক্ষে চুরির সন্দেহে তোফাজ্জল হোসেনকে আটকে রাখা হয়। মানসিক ভারসাম্যহীন ওই যুবককে প্রথমে খাবার খাওয়ানো হয় এবং পরে স্ট্যাম্প ও লাঠি দিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয়। রাত ১২টার দিকে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। পরদিন ১৯ সেপ্টেম্বর শাহবাগ থানায় মামলা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের এস্টেট অফিসের সুপারভাইজার মোহাম্মদ আমানুল্লাহ।
প্রথমে পুলিশ তদন্ত করে ২১ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিলেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নারাজি জানায়। পরে আদালতের নির্দেশে পিবিআই তদন্ত করে নতুন করে আরও সাতজনসহ মোট ২৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে।
তোফাজ্জলের বাড়ি বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলায়। তিনি বরিশাল বিএম কলেজ থেকে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করলেও মানসিক অসুস্থতার কারণে বেকার ছিলেন। ঘটনার পর নিহতের ফুফাতো বোন আসমা আক্তারও হল প্রাধ্যক্ষসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেছিলেন যা বর্তমানে যৌথভাবে তদন্তাধীন রয়েছে।
এনএন/ ১৫ মার্চ ২০২৬









