ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি আহত ও অক্ষম: মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী

তেহরান, ১৪ মার্চ – যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ দাবি করেছেন, ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় আহত হয়ে সম্ভবত অক্ষম হয়ে পড়েছেন। প্রায় দুই সপ্তাহ আগে চালানো ওই হামলায় মোজতবা খামেনি এই আঘাত পান বলে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রীর ভাষ্য। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার প্রথম দিনেই মোজতবা খামেনির বাবা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি, মা ও স্ত্রীসহ পরিবারের বেশ কয়েকজন সদস্য নিহত হন। বাবার মৃত্যুর পর মোজতবাকে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নির্বাচন করা হয়। তবে এরপর থেকে তার কোনো ছবি বা ভিডিও প্রকাশ্যে আসেনি।
সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর গত বৃহস্পতিবার প্রথমবারের মতো তার একটি বিবৃতি প্রকাশ করা হয়। টেলিভিশনে একজন উপস্থাপক ওই লিখিত বিবৃতিটি পড়ে শোনান। ওই বিবৃতিতে মোজতবা খামেনি হরমুজ প্রণালি বন্ধ রাখার হুঁশিয়ারি দেন। একই সঙ্গে প্রতিবেশী দেশগুলোকে তাদের ভূখণ্ডে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলো বন্ধ করার আহ্বান জানান। অন্যথায় ওই দেশগুলো ইরানের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হতে পারে বলে সতর্ক করা হয়। এ বিষয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে তথ্য রয়েছে যে নতুন নেতা আহত এবং সম্ভবত অক্ষম হয়ে পড়েছেন।
তার দেওয়া বিবৃতিটিকে অত্যন্ত দুর্বল আখ্যা দিয়ে হেগসেথ প্রশ্ন তোলেন, ইরানের কাছে পর্যাপ্ত অডিও ভিজ্যুয়াল সরঞ্জাম থাকা সত্ত্বেও কেন শুধু লিখিত বিবৃতি দেওয়া হলো। তিনি মন্তব্য করেন, মোজতবা খামেনি ভীত ও আহত অবস্থায় লুকিয়ে আছেন এবং তার কোনো বৈধতা নেই। এদিকে ইরানের পক্ষ থেকেও নতুন সর্বোচ্চ নেতার সামান্য আহত হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করা হয়েছে। গত বুধবার এক ইরানি কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানান, মোজতবা খামেনি সামান্য আঘাত পেয়েছেন। গতকাল শুক্রবার জাপানে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত পেইমান সাদাতও বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
আসাহি টিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, হামলায় সর্বোচ্চ নেতা আহত হলেও তা গুরুতর নয় এবং তিনি কার্যকরভাবে নেতৃত্ব দিতে সক্ষম। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলনে জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইনও উপস্থিত ছিলেন। তারা জানান, মার্কিন সামরিক বাহিনী বর্তমানে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন সক্ষমতা এবং নৌবাহিনী ধ্বংসের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। হেগসেথ স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র কোনো ধরনের ছাড় বা দয়া দেখাবে না। তিনি যুদ্ধে নো কোয়ার্টার বা কোনো ধরনের আত্মসমর্পণের সুযোগ না দেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন, যা আন্তর্জাতিক আইনে নিষিদ্ধ। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, গত প্রায় ১৪ দিনের এই সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ছয় হাজারের বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। এসব হামলায় প্রায় দুই হাজার ইরানি প্রাণ হারিয়েছেন।
এস এম/ ১৪ মার্চ ২০২৬









