তিতাস নদী বাঁচাতে কঠোর অবস্থানে প্রশাসন, বুড়িগঙ্গার আদলে সাজানোর পরিকল্পনা

ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ২৩ ফেব্রুয়ারি – কালের পরিক্রমায় হারাতে বসা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ঐতিহ্যবাহী তিতাস নদীকে পুনরুজ্জীবিত করতে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে জেলা প্রশাসন। নদীপাড়ের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং দূষণমুক্ত করতে পানি উন্নয়ন বোর্ড, বিআইডব্লিউটিএ এবং পৌরসভাসহ সংশ্লিষ্ট দফতরগুলো এখন থেকে সমন্বিতভাবে কাজ করবে।
এই কার্যক্রমের অংশ হিসেবে সোমবার সকালে শহরের শিমরাইলকান্দি মসজিদঘাট থেকে মেড্ডা শ্মশানঘাট এলাকা পর্যন্ত প্রায় সাড়ে তিন কিলোমিটার নৌপথে নদী পরিদর্শন করেন জেলা প্রশাসক শারমিন আক্তার জাহান। পরিদর্শনকালে তিনি নদীর দুপাড়ে অবৈধভাবে ভরাট করে গড়ে ওঠা বিভিন্ন স্থাপনা, বাজার ও গৃহস্থালির বর্জ্যে নদী দূষণের চিত্র পর্যবেক্ষণ করেন। এ সময় সাংবাদিকদের তিনি জানান, তিতাস নদীটি বর্তমানে তার ঐতিহ্য হারাতে বসেছে। নদীর দুই পাশে যেভাবে বর্জ্য ফেলা হচ্ছে এবং ভরাট করে অবৈধ দখল করা হচ্ছে তা অত্যন্ত দুঃখজনক। তিনি উল্লেখ করেন, নদীর পাড়ে গড়ে ওঠা স্থাপনার শতকরা ৯০ ভাগই অবৈধ এবং নদীর জায়গায় নির্মিত।
সিএস নকশা অনুযায়ী নদীর সীমানা নির্ধারণ করে এসব বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। জেলা প্রশাসক আরও জানান, ঢাকার বুড়িগঙ্গা নদীর আদলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তিতাস নদীতে প্রকল্প গ্রহণ করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সম্মিলিতভাবে প্রকল্প গ্রহণের মাধ্যমে নদীটি পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে নিতে আইন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা হবে। দখলদারদের উচ্ছেদের পর নদীকে দখল ও দূষণমুক্ত করে দুপাশে ওয়াকওয়ে নির্মাণ করা হবে। এতে নদীর নাব্যতা বাড়বে, স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরে আসবে এবং নৌপথের ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে। পরিদর্শনের সময় স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার প্রশাসক মো. শরীফুল ইসলাম, জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আকাশ দত্ত, বিআইডব্লিউটিএর কর্মকর্তাসহ পুলিশ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এস এম/ ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬









