জাতীয়

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের সামনে পাহাড়সম অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ

ঢাকা, ১৪ ফেব্রুয়ারি – দীর্ঘ আন্দোলন ও সংগ্রামের পর দেশ পুনর্গঠনের গুরুদায়িত্ব কাঁধে তুলে নিতে যাচ্ছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বিগত ১৭ বছরের রাজনৈতিক চড়াই উত্রাই পার করে তিনি এমন এক সময়ে দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে চলেছেন যখন অর্থনীতি গভীর সংকটে নিমজ্জিত।

ব্যাংক খাতে লুটপাট, বিপুল ঋণের বোঝা, রাজস্ব ঘাটতি এবং বিনিয়োগে মন্দা পরিস্থিতি বিরাজ করছে। একইসঙ্গে উচ্চ মূল্যস্ফীতির চাপে সাধারণ মানুষ দিশেহারা এবং কর্মসংস্থানের অভাবে লাখো তরুণ হতাশায় ভুগছেন। অন্তর্বর্তী সরকারের গত দেড় বছরে ব্যবসায়ীরা নানাভাবে নিগৃহীত হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বিনিয়োগে আস্থাহীনতা এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে অর্থনীতির চাকা কাঙ্ক্ষিত গতিতে ঘোরেনি। বিএনপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ায় ব্যবসায়ী ও অর্থনীতিবিদরা এখন রাজনৈতিক সরকারের দিকে তাকিয়ে আছেন।

তাঁরা আশা করছেন তারেক রহমান দায়িত্ব নিয়েই অর্থনীতির ইঞ্জিন সচল করতে ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের আস্থায় নেবেন। ফিন্যানশিয়াল এক্সিলেন্স লিমিটেডের চেয়ারম্যান ও অর্থনীতি বিশ্লেষক মামুন রশীদ মনে করেন নতুন সরকারের প্রধান কাজ হবে ভেঙে পড়া অর্থনৈতিক কাঠামো মেরামত করা। তিনি বলেন দীর্ঘদিনের লুণ্ঠনমূলক অর্থনীতি ও সুশাসনের অভাবে বিনিয়োগকারীদের মনে যে আস্থাহীনতা তৈরি হয়েছে তা দূর করাই হবে বড় চ্যালেঞ্জ। ব্যবসায়ীদের আশ্বস্ত করতে হবে যে তাঁদের বিনিয়োগ সুরক্ষিত থাকবে এবং তাঁরা রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত হয়ে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারবেন।

ব্যবসায়ী নেতারা বলছেন গত দেড় দশকের অনিয়ম ও ব্যাংক খাতের অব্যবস্থাপনা দূর করতে নতুন সরকারকে যুগান্তকারী কৌশল নিতে হবে। কেবল সংস্কার যথেষ্ট নয় বরং রাষ্ট্র কাঠামোর পরিবর্তনের মাধ্যমে ব্যবসায়ীদের আস্থা ফেরাতে হবে। ব্যাংক খাতের পুনর্গঠন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত করা এবং খেলাপি ঋণের সংস্কৃতি বন্ধ করার ওপর জোর দিচ্ছেন তাঁরা। এছাড়া ডিজিটাইজেশনের মাধ্যমে পেপারলেস ইকোনমি প্রতিষ্ঠা করা গেলে ব্যবসা শুরুর খরচ ও দুর্নীতি কমবে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে বাজার সিন্ডিকেট ভাঙা এবং টিসিবির কার্যক্রম স্বচ্ছ করার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে। রাজস্ব বাড়াতে করের হার না বাড়িয়ে করের আওতা বাড়ানোর কথা বলছেন উদ্যোক্তারা।

বিকেএমইএর সাবেক সভাপতি ফজলুল হক বলেন অন্তর্বর্তী সরকার ব্যবসায়ীদের দূরে রাখলেও রাজনৈতিক সরকার তাঁদের সমস্যাগুলো বুঝবে বলে তাঁরা আশা করেন। বিশেষ করে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি, মব কালচার নিয়ন্ত্রণ, ব্যাংক ঋণের সুদ কমানো এবং জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার বিষয়ে তারেক রহমানের আন্তরিকতা প্রত্যাশা করছেন তাঁরা। এছাড়া ডলার সাশ্রয়ে নিজস্ব গ্যাস অনুসন্ধান, পুঁজিবাজারে সুশাসন এবং রপ্তানি বহুমুখীকরণে নতুন সরকারকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিশ্লেষকরা। তাঁরা মনে করেন প্রথম ১০০ দিনের জন্য একটি জরুরি অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার রোডম্যাপ বাস্তবায়ন করা বিএনপির নেতৃত্বের সরকারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এস এম/ ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language