জাতীয়

জামায়াতের ‘অসৎ আচরণের’ কারণেই জোট ছেড়েছে ইসলামী আন্দোলন: চরমোনাই পীর

ঢাকা, ৫ ফেব্রুয়ারি – জামায়াতে ইসলামীর অসৎ আচরণের কারণেই তাদের সঙ্গ ত্যাগ করতে হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম।

বুধবার বিকেলে রাজধানীর পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচনি ইশতেহার প্রকাশ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

রেজাউল করীম বলেন, দেশ গড়ার লক্ষ্য নিয়ে এবং ইসলামের পক্ষে একটি ভোট ব্যাংক তৈরির আশায় তারা একত্রিত হয়েছিলেন। কিন্তু জামায়াতের অসৎ আচরণ এবং জোটের মধ্যে দেশের স্বার্থ ও অভ্যন্তরীণ সৌহার্দ্যের অভাব দেখা দেওয়ায় তারা সেই জোট থেকে বেরিয়ে আসেন।

জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট প্রসঙ্গে চরমোনাই পীর স্পষ্ট করেন যে, শুরুতে তারা ১১ দলীয় জোট করেননি বরং ৮ দলীয় সমঝোতা করেছিলেন। সমঝোতা ও জোটের পার্থক্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, জোটে একজন নেতা থাকেন কিন্তু সমঝোতায় সবার পরামর্শের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

অভিযোগ করে তিনি বলেন, আলোচনা ছাড়াই জামায়াতে ইসলামী এই সমঝোতাকে জোটের রূপ দিয়ে সেখানে অন্যান্য দলকে অন্তর্ভুক্ত করে।

পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন এবং সংসদ নির্বাচনের আগে গণভোটের দাবিতে ধর্মভিত্তিক দলগুলোর মধ্যে এই সমঝোতার সূচনা হয়েছিল। শুরুতে জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলনসহ মোট আটটি দল এই মোর্চায় ছিল। নির্বাচনের সময় ঘনিয়ে এলে জাতীয় নাগরিক পার্টি, এলডিপি ও এবি পার্টিকে এই জোটে যোগ করানো হয় যা নিয়ে ইসলামী আন্দোলন আপত্তি তোলে।

রেজাউল করীম অভিযোগ করেন, ২৮ ডিসেম্বর দায় এড়ানোর জন্য তাদের জানানো হয় যে অন্য দলগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। অথচ মূল আট দলের আলোচনার টেবিলে নতুন তিন দলের নেতাদের কখনো দেখা যায়নি। জামায়াত ও ওই তিন দল ভিন্নভাবে আলোচনা সেরেছে এবং ইসলামী আন্দোলনকে অন্ধকারে রেখেছে।

এছাড়া জামায়াত মার্কিন প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে ইসলামী আন্দোলনকে উগ্রবাদী হিসেবে উপস্থাপন করেছে বলেও অভিযোগ করেন চরমোনাই পীর। তিনি বলেন, বাংলাদেশের কোনো দলীয় নেতা আজ পর্যন্ত দেশের কাউকে জঙ্গি বা উগ্রবাদী হিসেবে বিদেশিদের কাছে তুলে ধরেননি যা জামায়াত করেছে।

এনএন/ ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language