আইন-আদালত

সারা দেশে বিয়ে ও তালাক নিবন্ধন ডিজিটাল করার নির্দেশ হাইকোর্টের

ঢাকা, ২৮ জানুয়ারি – সারা দেশে বিয়ে ও তালাক নিবন্ধনের প্রক্রিয়াটি আধুনিকায়ন করার লক্ষ্যে একটি কেন্দ্রীয় ডিজিটাল ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং তা পুরোপুরি কার্যকর করার জন্য আইন মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। সম্প্রতি প্রকাশিত রায়ের পূর্ণাঙ্গ কপিতে বলা হয়েছে যে, নথিপত্র নির্ভুল, সহজে অনুসন্ধানযোগ্য এবং কারসাজিমুক্ত রাখা নিশ্চিত করতেই আদালত এই নির্দেশনা দিয়েছেন।

একই সঙ্গে দেশের নাগরিকদের, বিশেষ করে নারীদের, বিয়ে ও তালাকসংক্রান্ত নথির প্রত্যয়িত ডিজিটাল কপিতে ন্যায্য, সহজ ও সাশ্রয়ী প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার জন্যও আইন মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া এই নির্দেশনা বাস্তবায়নে এ পর্যন্ত কী কী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের সময়সূচি উল্লেখ করে আগামী তিন মাসের মধ্যে হাইকোর্টে একটি প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।

বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আশিফ হাসানের হাইকোর্ট বেঞ্চ রায়ের পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করেছেন যে, ডিজিটাল নিবন্ধন ব্যবস্থা কেবল একটি প্রশাসনিক সুবিধাই নয়, বরং এটি নির্ভুলতা, স্বচ্ছতা ও পারিবারিক জীবনের সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য অপরিহার্য। রাষ্ট্র তার নাগরিকদের মৌলিক অধিকার রক্ষায় এমন একটি ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে দায়বদ্ধ, যা বিয়ে নিবন্ধন ব্যবস্থার অপব্যবহার রোধ করতে সক্ষম হবে।

এর আগে গত বছরের ১১ ডিসেম্বর ‘এইড ফর মেন ফাউন্ডেশন’ এবং তিনজন ভুক্তভোগীর পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইশরাত হাসানের দায়ের করা রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রায় প্রদান করেন। ২০২১ সালের ৪ মার্চ হাইকোর্টে দাখিল করা ওই রিট আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছিল যে, দেশে বিদ্যমান আইন অনুযায়ী বিয়ে ও তালাক নিবন্ধন সম্পূর্ণ অ্যানালগ পদ্ধতিতে করা হয়, যেখানে প্রযুক্তিগত সহায়তার অভাব রয়েছে।

রায়ের পূর্ণাঙ্গ কপিতে হাইকোর্ট বেঞ্চ আরও বলেন, মুসলিম বিবাহ ও তালাক (নিবন্ধন) আইনের ২১(ক) ধারায় অনলাইন নিবন্ধনের সুযোগ রাখা হলেও একটি কার্যকর ডিজিটাল ব্যবস্থা চালু করতে সরকারের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে প্রতীয়মান হয়।

আদালত রায়ে উল্লেখ করেন, রিট আবেদনকারীরা বিশ্বাসযোগ্যভাবে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছেন যে, ম্যানুয়াল, খণ্ডিত ও পরিবর্তনযোগ্য নয় এমন একটি প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করার ফলে বারবার প্রতারণা, আগের বিয়ে গোপন করা এবং নারীদের নিবন্ধন নথিতে প্রবেশাধিকার থেকে বঞ্চিত করার মতো ঘটনা ঘটছে। এছাড়া সন্তানের বৈধতা নিয়েও জটিল বিরোধ তৈরি হচ্ছে। এসব ঘাটতির কারণে নাগরিকদের মর্যাদা, পারিবারিক জীবনের স্থিতিশীলতা ও শিশুদের অধিকার মারাত্মকভাবে লঙ্ঘিত হচ্ছে। কারণ যাচাইযোগ্য নথির অভাবে তাদের বৈধতা অনেক সময় অনিশ্চিত হয়ে পড়ে।

রায়ে আরও বলা হয়, আদালতের সামনে আসা অসংখ্য ফৌজদারি মামলা পর্যালোচনায় দেখা যায় যে, কেন্দ্রীয় ডিজিটাল ব্যবস্থা না থাকার সুযোগেই এই ধরনের প্রতারণা বারবার ঘটছে। এর ফলে নাগরিকদের মর্যাদা সরাসরি ক্ষুণ্ন হচ্ছে এবং সংবিধানের ২৭, ৩১, ৩২ অনুচ্ছেদ ও প্রস্তাবনায় নিশ্চিত করা অধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে।

এসএএস/ ২৮ জানুয়ারি ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language