শরীর চর্চা

‘কিডনি প্রতিস্থাপন আইনে সংশোধন প্রয়োজন’

কিডনি প্রতিস্থাপনে দেশের বিদ্যমান আইন সংশোধন প্রয়োজন বলে মত দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলেন, ‘‘আইন যেহেতু মানুষের জন্য সুতরাং মানুষের প্রয়োজনেই আইন পরিবর্তন কিংবা পরিবর্ধন করা যেতে পারে।’’

শনিবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক গোলটেবিল আলোচনায় বক্তারা এসব মতামত জানান। কিডনি নিয়ে আলোচনার আয়োজন করে কিডনী অ্যাওয়ারনেস মনিটরিং অ্যান্ড প্রিভেনশন সোসাইটি (ক্যাম্পস)।এতে ‘কিডনী সংযোজন: প্রতিকূলতা উত্তরণে করণীয়’ শীর্ষক প্রবন্ধ পাঠ করেন ক্যাম্পস এর অধ্যাপক ডা. এম এ সামাদ।

আলোচনায় আরো অংশ নেন বারডেম হাসপাতালের অধ্যাপক একে আজাদ খান, জাফর উল্যাহ, অধ্যাপক হারুনুর রশীদ, তারানা হালিম এমপি প্রমুখ।

ডা. এম এ সামাদ বলেন, “দেশে প্রায় দুই কোটি লোক কোন না কোন কিডনিরোগে আক্রান্ত। প্রতি বছর ৩৫-৪০ হাজার লোক সম্পূর্ণ কিডনি বিকল হয়ে অকাল মৃত্যূবরণ করে।”

কিডনী সম্পূর্ণ বিকল হলেও বাঁচার একমাত্র উপায় ডায়ালাইসিস। কিন্তু এর খরচ বেশি হওয়ায় শতকরা ১০ জন দীর্ঘমেয়াদী কিডনিরোগী চিকিৎসা চালাতে পারেন না। এতে শতকরা ৯০ ভাগেরও বেশি কিডনিরোগীর বিনা চিকিৎসায় মৃত্যু হয় ।

ডা. এম এ সামাদ বলেন, “মানবদেহে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজনে ১৯৯৯ সালের আইন মতে, রক্ত সম্পর্কীয় স্বজন ও স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে অঙ্গ লেনদেন চলবে। কিন্তু আইনটিতে সম্পর্ক নির্ণয়ের সুস্পষ্ট বিধান না থাকায় অনেকেই কাগজে সম্পর্ক তৈরি করে নিয়ে আসে। এতে অঙ্গ সংযোজনের সঙ্গে সম্পৃক্ত ডাক্তারদের সম্পর্ক বিষয়ে ঘোষণার সত্যতা নিরুপণের কোনো মাপকাঠি বা উপায় থাকে না।”

তিনি আরো বলেন, “আইনটির অত্যন্ত দুর্বল দিক হলো, আইনানুগ কিডনিদাতা সংকট ও সীমাবদ্ধতা। যে কেউ চাইলেও কৌশলগত কারণে আরেকজনকে কিডনি দিতে পারে না।”

দালাল চক্র এই সুযোগে আইনের ফাঁক গলিয়ে অবৈধভাবে অঙ্গ কেনা-বেচার ব্যবসার সুযোগ করে নিয়েছে বলেও জানান তিনি।

আলোচনায় অধ্যাপক হারুনুর রশীদ বলেন, ‘‘কিডনি বিকলের প্রধান কারণ নেফ্রাইটিস। এছাড়া ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ উল্লেখযোগ্য। এ থেকে মুক্তি পেতে প্রথম করণীয় প্রস্রাব ও রক্ত পরীক্ষা করা। এরপর মাইক্রো অ্যালবোমিন পরীক্ষা করতে হবে।’’

তিনি বলেন, ‘‘৮০ ভাগ অকেজো হওয়ার পর রোগীরা জানতে পারেন যে, তার কিডনি অকেজো হচ্ছে।’’

আইন অনুযায়ী আত্নীয় স্বজনরা কিডনি দিতে চায় না উল্লেখ করে তিনি বলেন, “কিডনি দিলে কেউ অসুস্থ হয় না। এ ব্যাপারে সবাইকে সচেতন হতে হবে। সমাজে এ বিষয়ে ভুল ব্যাখ্যা প্রচার হয়।”

অধ্যাপক হারুন বলেন, ‘‘দেশে মাত্র ১০ থেকে ১২ জন ডাক্তার আছেন যারা কিডনি প্রতিস্থাপন করতে জানেন। যেসব হাসপাতালে কিডনি প্রতিস্থাপনের চিকিৎসা করে সেগুলো বেশিরভাগ সরকারি। এতে সন্তোষজনক অর্থ না পাওয়ায় ওইসব ডাক্তার কিডনি অপারেশনে উৎসাহী হন না।’’

অধ্যাপক একে আজাদ খান বলেন, কিডনিদাতা অসুস্থ হয়ে যায়- বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় এমন প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ায় এখন দেশের কিডনিদাতাদের অভাব দেখা দিয়েছে। এটি সম্পূর্ণ ভুল ব্যাখ্যা।

তারানা হালিম এমপি বলেন, “আইন যেহেতু দেশের মানুষের জন্য তাই মানুষের প্রয়োজনেই আইন সংশোধন করা দরকার।”

কিডনি সুস্থ রাখতে আলোচকরা বিভিন্ন পরামর্শ দিয়েছেন। যেমন, ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত রোগীদের কিডনির কার্যকারিতা প্রতি ছয় মাস পর পর পরীক্ষা করা, চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক ও তীব্র ব্যথার ওষুধ সেবন না করা, শিশুদের গলা ব্যথা, জ্বর ও ত্বকে খোস পাচড়ার দ্রুত সঠিক চিকিৎসা করা ইত্যাদি।

আডি/ ১৩ নভেম্বর


Back to top button
🌐 Read in Your Language