ব্যবসা

খোলা সয়াবিন তেলের কেজি ২১০ টাকা

খুলনা, ৩০ এপ্রিল – খুলনায় বোতলজাত সয়াবিন তেল উধাও হয়ে গেছে। কেজিতে ডাবল সেঞ্চুরি পার করেছে খোলা তেলের দাম। শনিবার (৩০ এপ্রিল) দুপুরের পর থেকেই খুলনার বাজারে সর্বাধিক বিক্রি হওয়া এই ভোজ্যতেল বিক্রি হয়েছে ২১০ টাকা কেজি দরে।

খুচরা ও পাইকারি দোকান মালিকদের অভিযোগ, আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ও তেলকল মালিকরা কৃত্রিম এ সংকট সৃষ্টি করে তেলের দাম বাড়িয়েছে।

শনিবার বিকেলে নগরীর কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতি কেজি খোলা সয়াবিন তেল বর্তমানে ২১০ টাকায় বিক্রি করছেন দোকানিরা। অথচ গত ২৩ এপ্রিল এ পণ্যটি বিক্রি হয়েছে ১৭৫ টাকায়। বোতলজাত এক লিটার সয়াবিন তেল ১৭৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। যা গত সপ্তাহে বিক্রি হয়েছে ১৬৫ টাকায়। তবে বাজারে মিলছে ২ থেকে ৫ লিটারের বোতলজাত তেল।

বড় বাজারের ব্যবসায়ী আলাউদ্দিন সরদার বলেন, ইন্দোনেশিয়া থেকে শতকরা ৮৫ শতাংশ পাম ওয়েল আমাদের দেশে আমদানি করা হয়। সয়াবিন তেলের প্রভাব কিছুটা পাম ওয়েল দিয়ে পূরণ করা হয়। ইন্দোনেশিয়া হঠাৎ পাম ওয়েলের রপ্তানি বন্ধ করে দিয়েছে। যার প্রভাব পড়ছে সয়াবিন তেলের ওপর। বাজার স্থির হওয়ার কোনো লক্ষণ নেই। মূল্য বাড়ার আগে প্রতি মণ সয়াবিন তেলে ৬ হাজার ৮০০ টাকায় কিনলেও বর্তমানে তা ৭ হাজার ১০০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। অনুরূপভাবে পাম ওয়েল ৬ হাজার টাকায় কিনলে বর্তমানে তা সাড়ে ৬ হাজার টাকায় কিনতে হচ্ছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই বাজারের একাধিক ব্যবসায়ী খোলা সয়াবিন তেলের মূল্য বাড়ার জন্য সরাসরি মিল মালিকদের দায়ী করেছেন। তারা সরকারের কোনো নির্দেশ মানছেন না।

তারা আরও বলেন, রমজানের শুরুতে তেলের দাম বেড়েছিল। কিন্তু সরকারের কঠোর পদক্ষেপের কারণে দাম কমে ১৫৮ টাকায় নেমে যায়। কিন্তু কোনো ঘোষণা ছাড়াই গত এক সপ্তাহ ধরে তেলের বাজার অস্থির হয়ে ওঠে।

টুটপাড়া জোড়াকল বাজারের ব্যবসায়ী আবু বক্কর, আতাহার আলী, আব্দুল্লাহ বলেন, গত এক সপ্তাহ ধরে তেলের বাজার অস্থির। এ সময়ে খোলা তেলের দাম তিনবার বেড়েছে। প্রথমদিকে ১৭২ টাকা পরে ১৮০ টাকা ও সর্বশেষ ১৯২ টাকায় প্রতি কেজি খোলা তেল কিনতে হয়েছে। একই সঙ্গে বাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সংকট দেখা দিয়েছে।

ব্যবসায়ীরা আরও বলেন, বর্তমানে বোতলজাত সয়াবিন তেল কিনতে গেলে কোম্পানির কর্মকর্তারা বিভিন্ন ফর্দ ধরিয়ে দিচ্ছেন। তেল নিতে গেলে চিনিগুড়া চাল, হলুদ না হয় গুড়া মরিচ নিতে হয়। এমনিতে ব্যবসায় লোকসান গুনতে হচ্ছে, এরওপর এসব পণ্য নেওয়ায় আরও লোকসান বাড়ছে। তাই আমরা বোতলজাত সয়াবিন না নিয়ে খোলা তেল বিক্রি করছি। প্রতি কেজি খোলা সয়াবিন তেল ২১০ টাকায় বিক্রি করছি। এ দরে বিক্রি না করলে আমাদের লোকসান গুনতে হবে।

এ বাজারের নিয়মিত ক্রেতা হাজেরা পারভিন, বাদল হাওলাদার, নাসির হোসেন বলেন, প্রতি সপ্তাহে যদি তেলের দাম বেড়ে যায় তাহলে চলবো কী করে। গত সপ্তাহে আমি বাজার থেকে ১৭৮ টাকায় তেল কিনেছি। আজ তেলের দাম শুনে রীতিমতো হতবাক।

তিনি আরও বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম যেভাবে বেড়েছে সেভাবে মানুষের আয় বাড়ছে না। আয়ের তুলনায় ব্যয়ের পরিমাণ বেড়েছে। অভাব শুধু নিম্ন আয়ের মানুষের এককভাবে লাগেনি। এখন মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্তের দরজায় কড়া নাড়ছে। বাজার ব্যবস্থায় সরকারের দৃষ্টির অনুরোধ জানাচ্ছি। না হলে মধ্যবিত্তরা মারা যাবে। কারণ তারা কারও কাছে হাত পাততে পারে না।

তবে নগরীর সব বাজারে প্রায় প্রতিদিন অভিযান চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক শিকদার শাহিনুর আলম। তিনি বলেন, ভোজ্যতেলের দাম বাড়ার কোনো সুযোগ নেই। সরকার তেলের দাম নির্ধারণ করে দিয়েছে। চুরি করে যদি কেউ বিক্রি করে, তাহলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, শুধু বড় বাজারই নয়, নগরীর প্রায় সব বাজারেই অভিযান চালানো হচ্ছে। মূল্যবাড়ার অভিযোগ প্রমাণ পেলেই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

গত ২০ মার্চ ভোজ্যতেলের মূল্য নির্ধারণ করে সরকার প্রজ্ঞাপন জারি করে। সে সময় সরকার এক লিটার সয়াবিন তেলের বোতল ১৬০ টাকা, ৫ লিটারের বোতল ৭৬০ টাকা ও প্রতি কেজি খোলা সয়াবিন তেলের দাম ১৩৬ টাকা নির্ধারণ করে দেয়।

সূত্র: জাগো নিউজ
এম ইউ/৩০ এপ্রিল ২০২২


Back to top button
🌐 Read in Your Language