চাপাইনবাবগঞ্জ

বকুল স্ত্রী-সন্তান নিয়ে সুখে থাকুক: প্রথম স্ত্রী

চাঁপাইনবাবগঞ্জ, ২০ ফেব্রুয়ারি – ভালোবাসা দিবসে (১৪ ফেব্রুয়ারি) গণমাধ্যমে সোহেল আর রওশন দম্পতির নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। যা দেশে খুব আলোচিত হয়। এরপর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে ফোন করে এই দম্পতির খবর নেয়া হয়। জেলা প্রশাসকের নির্দেশে ত্রিশাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আক্তারুজ্জামান যান ওই দম্পতির বাড়িতে। তাদের থাকার ঘর, মেয়ের লেখাপড়া ও জীবিকার ব্যবস্থা করে দেয়ার আশ্বাস দেন তিনি।

ভালোবাসার সম্পর্কে জড়িয়ে ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার শারীরিক প্রতিবন্ধী রওশন আরাকে ২০০৭ সালে বিয়ে করেন সোহেল মিয়া। সেই থেকে স্ত্রীকে পিঠে চড়িয়ে সংসারের কাজ, বিভিন্ন জায়গায় যাওয়া, ঘুরে বেড়ানো আর স্ত্রীর সব দায়িত্ব পালন করে চলেছেন সোহেল। ভালোবাসার অনন্য নিদর্শন সোহেল-রওশন দম্পতি।

এই দম্পতি গণমাধ্যমে আলোচনায় আসার পর সোহেল মিয়ার আসল পরিচয় বেরিয়ে আসে। রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলায় বাড়ি পরিচয় দেয়া সোহেল মিয়া প্রকৃতপক্ষে চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুরের বাঙ্গাবাড়ী ইউনিয়ের শ্যামপুর গ্রামের আব্দুল হান্নানের ছেলে মোখলেসুর রহমান। তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চশিক্ষিতও নন, তিনি অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত পড়াশুনা করেছেন। নিজ এলাকায় তিনি বকুল নামে পরিচিত। পাওনাদারের হাত থেকে বাঁচতে চার সন্তান রেখে বাড়ি ছাড়েন বকুল। এখন গণমাধ্যমের কাছে প্রথম স্ত্রী ও সন্তানের কথা স্বীকারও করেছেন। তিনি বলেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চশিক্ষার খবরও সত্য নয়। এসএসসি পরীক্ষাও দেয়া হয়নি তার।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বকুলের প্রথম স্ত্রীর নাম সুরাতন বেগম। তিনি গোমস্তাপুরের বাঙ্গাবাড়ী ইউনিয়নের সন্তোষপুর গ্রামে আব্দুল সাজ্জাদ আলীর মেয়ে। তাদের দাম্পত্য জীবনে তিন ছেলে আর এক মেয়ের জন্ম হয়। সম্প্রতি তাদের মেয়ে ববিতার বিয়ে হয়েছে কুড়িগ্রাম জেলায়।

বকুলের প্রথম স্ত্রী সুরাতন বেগম বলেন, ‘বকুলের সঙ্গে ১৯৯২ সালে আমার বিয়ে হয়। ২০০৪ সালের শেষের দিকে ঢাকা যাওয়ার নাম করে বাড়ি থেকে বের হন বকুল। এখন পর্যন্ত আর বাড়ি ফেরেননি। পরিবারেরও খবর রাখেননি। আমরা সাধ্যমতো তাকে খোঁজাখুঁজি করেছি, কিন্তু সন্ধান পাইনি।’

বকুলের ভাই শাজাহান আলী বলেন, ‘বকুল আমার ছোট ভাই। তার আসল নাম মোখলেসুর রহমান। স্থানীয় স্কুলে ৮ম শ্রেণী পর্যন্ত পড়ালেখা করেছেন তিনি। পরিবারে আর্থিক সংকটে আর পড়ালেখা হয়নি। বকুল টাকা ধার করে ধান, আম, চাউল আর গরুর ব্যবসা করতেন। ব্যবসায় লোকসান হওয়ায় পাওনাদারের টাকা দিতে পারেনি। তাই বাড়িতে ঢাকা যাওয়ার নাম করে বেরিয়ে যান।’

শাজাহান আলী জানান, বকুলের ছেলে মেয়েরা খুব কষ্টে বড় হয়েছে। তবে এখন তারা অনেক ভালো আছে। তিন ছেলে মিলে হোটেল দিয়ে সংসার চালাচ্ছে। চাচা ও ফুফুরা তাদের সহাযোগিতা করেছে।

শাহজাহান আরও বলেন, ‘আমার ভাইকে এখন আর আমরা চাই না। শুধু দেশের মানুষ জানুক তিনি কত বড় প্রতারক। তবে তিনি ভালো থাকুক। এ ঘটনায় আমরা আইনানুগ ব্যবস্থাও নিতে যাবো না।’

বকুলের ছেলে সোহাগ বলেন, ‘বাবা ফেলে রেখে যাওয়ার পর আমরা খুব কষ্টে বড় হয়েছি। চাচা ও ফুফুরা সব ধরনের সহাযোগিতা করেছেন। এখন হোটেল দিয়েছি। সেখান থেকে যা আয় হয়, তা দিয়ে সংসার চলে।’

বকুলের বড় ছেলে সিহাব বলেন, ‘এতদিন জানতাম আমাদের বাবা নিখোঁজ। এখন তার সন্ধান মিললো। বাবা ব্যবসায় লোকসান করলে ঢাকা যাওয়ার নাম করে বাড়ি থেকে বের হন। এরপর আর খোঁজ নেননি।’

প্রথম স্ত্রী সুরাতন বেগম বলেন, ‘আমরা এখন অনেক ভালো আছি। তিনি (বকুল) এখন তার মতো থাকুক, সুখে থাকুক। আমরা আর তাকে চাই না।’

দ্বিতীয় স্ত্রী রওশন আরা স্বামীর প্রথম বিয়ে ও সন্তানের খবর এখন জানেন। তবে এ নিয়ে তার আক্ষেপ নেই। তিনি বলেন, ‘আমার সংসার নিয়ে আমি সুখী। স্বামীর ভালোবাসায় আমি কৃতজ্ঞ।’

এন এইচ, ২০ ফেব্রুয়ারি


Back to top button
🌐 Read in Your Language