ক্রিকেট

ওপেনিংয়ের প্রস্তাব পেয়েই খুশি হয়ে যান নারিন

ঢাকা, ১৭ ফেব্রুয়ারি – ব্রায়ান লারা ছিলেন তার ক্রিকেট আইডল। ছোটবেলা থেকে লারা হতে চাওয়া সুনীল নারিন ব্যাটিং করতেন ত্রিনিদাদের রাজপুত্রের মতোই। চার-ছক্কার ফুলঝুরি ছুটত তার ব্যাটে। বোলারদের গোনায় ধরতেন না! কিন্তু ১৮-১৯ বয়সে স্পিনে বাড়তি সাফল্য পাওয়ায় নিজেকে পাল্টে ফেলেন। কিন্তু ব্যাটিং কখনোই ভোলেননি বাঁহাতি ব্যাটসম্যান।

ভোলেননি বলেই বুধবার মিরপুরের ২২ গজে পাওয়া গেল সেই নারিনকে। বড্ড বাড়াবাড়ি করে বললে, ‘লারার আয়নার দেখা মিলল’। তবে স্কোরবোর্ড দেখলে বাড়াবাড়ি মনে হবে না একটুও! ১৩ বলে হাফ সেঞ্চুরি, ১৬ বলে ৫৭ রান। ৫ চার ও ৬ ছক্কায় তার ব্যাটিংয়ের স্ট্রাইক রেট ৩৫৬.২৫! কল্পনা করা যায়?

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের ফাইনালের পথ তৈরি হয়ে যায় তার এই তাণ্ডবে। চট্টগ্রামের দেওয়া ১৪৯ রান তাড়া করতে নেমে মাত্র ২৮ মিনিট ক্রিজে ছিলেন। ১৬ বল খেলে ৫৭ রান তুলে যখন বিদায় নেন তখন কুমিল্লার রান ৭৯। ফাফ ডু প্লেসিস ও মঈন আলীর ৩০ রানের দুটি ইনিংস কুমিল্লার জয়ের পথ সহজ করে দেয়।

১৬ বলের ইনিংসে মাত্র একটি সিঙ্গেল রান। ডট বল মাত্র ৩টা। বাকি সবগুলোই বাউন্ডারি। তার সামনে যারাই বোলিংয়ে এসেছেন প্রত্যেকেই পাঠিয়েছেন সীমানায়। শুরুটা হয়েছিল বাঁহাতি পেসার শরিফুলকে দিয়ে। ছক্কা ও দুই চারে তার প্রথম ওভারেই ঝড়ের আভাস।

দ্বিতীয় ওভারে মিরাজ বল ফেলার জায়গা পাচ্ছিলেন না। যেখানেই বল দিক বাঁহাতি ওপেনার যেন বল উড়াবেন কভার দিয়েই। এরপর আফিফ, মৃত্যুঞ্জয়কে চার, ছক্কায় উড়িয়ে চোখের পলকেই তার রান ফিফটিতে। ১৩ বলে বিপিএলে দ্রুততম ফিফটির রেকর্ড গড়েন। এক বল কম খেলে এই কীর্তি গড়লে বিশ্বরেকর্ড হয়ে যেত। ১২ বলে টি-টোয়ন্টি ফিফটি আছে যুবরাজ সিং, ক্রিস গেইল ও হজরতউল্লাহ জাঝাইয়ের।

ম্যাচসেরার পুরস্কার নিতে এসে নারিন বলেছেন, ‘না (পরিকল্পিত ছিল না) । তবে আমাকে যখন বলা হলো, আমি দারুণ খুশি হয়েছিলাম। কারণ মাত্র ২ জন ফিল্ডার বাইরে থাকে (পাওয়ার প্লে’তে) । একবার শুরুটা ভালো করতে পারলে এরপর ভালো লাগে।’

বিপিএলের আগের আসরগুলোতে ইনিংস উদ্বোধন করলেও কুমিল্লার জার্সিতে আজই প্রথম নতুন ভূমিকায় দেখা যায় তাকে। তবে স্পিনার নারিন ফ্রাঞ্চাইজি ক্রিকেটে বেশ কয়েকবারই ইনিংস উদ্বোধন করেছেন। কলকাতার জার্সিতে তার ১৫ বলে হাফ সেঞ্চুরির রেকর্ড আছে ওপেনিংয়ে নেমে। আজ তেমন উইকেট পেয়ে নিজেকে মেলে ধরেন নারিন, ‘উইকেট ব্যাটিংয়ের জন্য বেশ ভালো। খুব বেশি স্পিন ধরেনি। বিশেষ করে, দিনের বেলার চেয়ে রাতের বেলায় বল ব্যাটে আসে তুলনামূলক বেশি ভালোভাবে।’

দারুণ শুরুর পর হঠাৎ তার ইনিংস থেমে যায়। ৫৭ রানে তাকে থামান মৃত্যুঞ্জয়। ইনিংস বড় করতে না পারার আক্ষেপ নেই তার। দল ফাইনালে যাওয়ায় আনন্দ তার,‘সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো জয়। এটিই সবকিছুর ওপরে। এরকম পারফরম্যান্সের দিনে জয়ী হতে পারাটাই আসল ব্যাপার। ফাইনালে উঠতে পারাটা দারুণ।’

সূত্র : রাইজিংবিডি
এন এইচ, ১৭ ফেব্রুয়ারি


Back to top button
🌐 Read in Your Language