আসামে শিবমন্দির বানাতে মুসলমানদের উচ্ছেদ, পুলিশের গুলিতে নিহত ২

দিসপুর, ২৪ সেপ্টেম্বর- ভারতের আসাম রাজ্যের দরং জেলায় বিশাল একটি শিবমন্দির নির্মাণের জন্য হাজার হাজার বাংলাভাষী মুসলিমকে ভিটেমাটি থেকে উচ্ছেদ করা হয়েছে। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার আশ্রয়চ্যুতদের বিক্ষোভে পুলিশ গুলি চালিয়েছে।
বিবিসি জানায়, গুলিতে অন্তত দুজনের মৃত্যু ও আরও বেশ কয়েকজনের আহত হয়েছে।
রাজ্যের বিরোধী দল কংগ্রেসের সভাপতিও এই হত্যাকাণ্ডের খবর টুইট করেছেন।
ধলপুর হিলস ও সিপাহঝাড় এলাকায় প্রায় ৭৭ হাজার বিঘা জমি দখল করে বিশাল একটি শিবমন্দির কমপ্লেক্স বানানোর লক্ষ্যে রাজ্য সরকার সেখানে উচ্ছেদ অভিযান চালাচ্ছে বেশ কয়েক মাস ধরেই।
ভিটেমাটি-হারানো সংখ্যালঘুদের দাবি, তাদের কাছে সব ধরনের সরকারি নথি ও পরিচয়পত্রই আছে।
সেই অভিযানের সবশেষ ধাপে গত সোমবার প্রায় ৮০০ পরিবারের কয়েক হাজার মানুষকে তাদের ভিটে থেকে উচ্ছেদ করা হয়।
এর প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার দরংয়ে উচ্ছেদ-বিরোধী কমিটির জমায়েতে পুলিশ গুলি চালালে অনেকে হতাহত হয়েছেন।
এ দিন বিকেল সাড়ে চারটা নাগাদ আসামের কংগ্রেস প্রধান ভূপেন কুমার বোরা এই হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা করে বিবৃতি দেন। তবে তখনো পুলিশ বা রাজ্য সরকার গুলি চালনার কথা স্বীকার করেনি। নিহত একজনের ছবিও টুইট করেন বোরা।
উচ্ছেদ হওয়া মানুষেরা প্রায় সবাই বাংলাভাষী মুসলিম যারা অনেক দশক ধরে ধলপুরের চরাঞ্চলেই বসবাস করছেন।
উচ্ছেদের বিরুদ্ধে গড়ে তোলা সেলের নেতারা জানান, তারা প্রত্যেকে দেশের বৈধ নাগরিক ও অনেক বছর ধরে সরকারি খাজনা দিয়ে আসছেন, এনআরসিতেও সবার নাম আছে। এখন তারা বিজেপির রাজনৈতিক চক্রান্তের শিকার।
আসামের একটি নামী নিউজ পোর্টালের সম্পাদক আফরিদা হুসেইন মনে করেন, এখানে আর যাই হোক— সরকারের উদ্দেশ্য সৎ নয়।
তিনি বলেন, ‘সরকারের উদ্দেশ্যকে আমি সঠিক বলতে পারব না— সংখ্যাগুরু সম্প্রদায়কে খুশি করতেই এই সব পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।’
‘আমি নিজে ধলপুরে গেছি, কিন্তু সেই মন্দির সুপ্রাচীন যুগের এমন কোনো প্রমাণই পাইনি।’
‘তা ছাড়া মন্দিরটিকে ঘিরে হাজার হাজার মুসলিম পরিবার অনেক বছর ধরে বাস করছে, আগে কোনোদিন অশান্তি হয়নি। এমনকি মন্দির কর্তৃপক্ষ অনেক মুসলিম পরিবারকে চাষবাস ও খামার করার জন্য জমিও দিয়েছিল।’
জুন মাসে প্রথম দফা উচ্ছেদের পর আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা ঘটনাস্থল পরিদর্শনেও যান। ফিরে এসে তিনি টুইট করেন, ধলপুর শিবপুরের কাছে বিস্তীর্ণ এলাকা কীভাবে অবৈধ বসতি স্থাপনকারীরা দখল করে রেখেছিল তা আমি সরেজমিনে দেখে এসেছি!
সুত্রঃ দেশ রূপান্তর
আর আই









