
ঢাকা, ১৩ মার্চ – আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপ-কমিটিতে বিতর্কিত সাহেদ করিমদের যুগ শেষ হলেও অবসান হয়নি বিতর্কের। এবারও উপ-কমিটি গঠনে মানা হয়নি গঠনতন্ত্র এবং সাধারণ সম্পাদকের নির্দেশনা। জায়গা পেয়েছেন বিতর্কিত অনেকেই। পদায়নে মানা হয়নি সিনিয়র-জুনিয়র। তবে বেশ কয়েকটি কমিটি তুলনামূলক ভালো হয়েছে বলে জানা গেছে।
আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্রের ৬ ধারায় বিভাগীয় উপ-কমিটি গঠনের বিধান রয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, প্রত্যেক সম্পাদকীয় বিভাগের কার্যক্রম অধিকতর গতিশীল ও সমন্বিত করার লক্ষ্যে একটি করে উপ-কমিটি গঠিত হবে। একজন চেয়ারম্যান, একজন সম্পাদক (সংশ্লিষ্ট বিষয়ক, গঠিত কমিটিতে সদস্য সচিব), প্রয়োজনীয় সংখ্যক বিশেষজ্ঞ সদস্য, সংশ্লিষ্ট সহযোগী সংগঠনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এবং নির্দিষ্ট সংখ্যক সদস্যের সমন্বয়ে তা গঠিত হবে। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্যরাও পদাধিকার বলে এই কমিটির সদস্য হবেন।
এই উপ-কমিটির সদস্য সংখ্যা কত হবে, তা সুনির্দিষ্ট করে বলা নেই ওই বিধানে। বলা হয়েছে, এটি সভাপতি নির্ধারণ করবেন। গত বছর আওয়ামী লীগের সম্পাদকমণ্ডলীর এক সভায় এ উপ-কমিটির সদস্য সংখ্যা ৩৫ নির্ধারণ করে দিয়েছিলেন দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।
সম্প্রতি গঠিত আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপ-কমিটিগুলো বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, কোনোটাতেই মানা হয়নি গঠনতন্ত্রের পূর্ণাঙ্গ নির্দেশনা। এমনকি সাধারণ সম্পাদক যে ৩৫ সংখ্যা নির্ধারণ করে দিয়েছেন, সেটিও কেউ মানেননি। এর দ্বিগুণ, তিনগুণ বা চার-পাঁচগুণ সদস্য নিয়েও কমিটি হয়েছে। এছাড়া উপ-কমিটির পদায়নে মানা হয়নি বয়স বা সাংগঠনিক সিনিয়রিটি-জুনিয়রিটি। প্রাধান্য পেয়েছে চেয়ারম্যান ও সদস্য সচিবের মর্জি। যোগ্যতায় আসেন না, কিন্তু নিজ এলাকার লোক, ব্যক্তিগত সহকারী, জীবনে রাজনীতি করেননি—এমন লোককেও রাখা হয়েছে কমিটিতে। কয়েকটি আর্থিক লেনদেনেরও অভিযোগ পাওয়া গেছে।
আরও পড়ুন : সড়ক দুর্ঘটনা ও মৃত্যু কমাতে ডিএনসিসি’র নতুন উদ্যোগ
এসব বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ব্যাপক নেতিবাচক আলোচনা পরিলক্ষিত হয়েছে। সমালোচনা হয়েছে রাজনৈতিক আড্ডায়ও। জানতে চাইলে কোনোটারই সদুত্তর দিতে পারেননি সংশ্লিষ্ট সম্পাদক অর্থাৎ সদস্য সচিবরা। তবে, তাদের জমা দেয়া কমিটিতে অনুমোদনের সময় নতুন সদস্য যুক্ত করারও অভিযোগ পাওয়া গেছে।
জানা গেছে, আওয়ামী লীগের ১৯টি সম্পাদকীয় বিভাগের অধীনে উপ-কমিটি হয়। এর মধ্যে ধর্ম ও দফতর ছাড়া সব বিভাগের উপ-কমিটির অনুমোদন হয়েছে। এগুলোর মধ্যে অধিকাংশই মানেনি সদস্যের নির্ধারিতসীমা। এর মধ্যে যুব ও ক্রীড়া উপ-কমিটিতে সদস্য সংখ্যা ৮৫, তথ্য ও গবেষণা উপ-কমিটিতে ১৬০, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ বিষয়ক উপ-কমিটিতে ১৩৫, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপ-কমিটিতে ৫৪, মহিলা বিষয়ক উপ-কমিটিতে ৫০, বন ও পরিবেশ উপ-কমিটিতে ১০০, শিক্ষা ও মানবসম্পদ বিষয়ক উপ-কমিটিতে ৪০, শ্রম ও জনশক্তি উপ-কমিটিতে ৮৩, শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক উপ-কমিটিতে ৬০, স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক উপ-কমিটিতে ৪২, সাংস্কৃতিক বিষয়ক উপ-কমিটিতে ৪৫, কৃষি ও সমবায় বিষয়ক উপ-কমিটিতে ৫৫, আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপ-কমিটিতে ৫৬ এবং আইন বিষয়ক উপ-কমিটিতে সদস্য সংখ্যা ৬১।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়া উপ-কমিটিতে সদস্য সচিব হারুনুর রশিদের নিজ জেলা লক্ষ্মীপুর থেকে নয় জনকে রাখা হয়েছে। এর মধ্যে হারুনের উপজেলা রায়পুরেরই সাতজন। এরা হলেন- রায়পুরের বাসিন্দা হারুনের রশীদ, আক্তার হোসেন, আলমগীর হোসেন, মিরাজ মুক্তাদির, গিয়াস উদ্দিন রুবেল ভাট, আবদুল কাদের, হাওলাদার নূরে আলম জিকু, রামগতির আবদুজ্জাহের সাজু ও লক্ষ্মীপুর সদরের আদনান চৌধুরী। অনুমোদনকৃত কমিটির তালিকায় তারা ১৭, ৩০, ৩৬, ৩৭, ৩৮, ৩৯, ৪১, ৪২ ও ৪৩ নম্বর সদস্য পদে রয়েছেন।
এদিকে তথ্য ও গবেষণা উপ-কমিটি নিয়েও আলোচনার শেষ নেই। কমিটি প্রকাশের সাতদিনের মাথায় বিতর্কের মুখে ওই কমিটির সদস্য অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিনকে বাদ দেয়া হয়েছে। তার পরিবর্তে সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট মনসুরুল হক চৌধুরীকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। কমিটির বিতর্কের অবসান করতে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে সদস্য সচিব ড. সেলিম মাহমুদ বলেছেন, ‘আমরা লক্ষ্য করেছি, অনেকে ভুলভাবে ব্যাখ্যা দিয়ে আওয়ামী লীগের উপ-কমিটিকে বিতর্কিত করার অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়েছেন।’
তথ্য ও গবেষণা উপ-কমিটিতে একাধিক মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, ব্যাংকের চেয়ারম্যান, বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, চিকিৎসক, আইনজীবী, ব্যবসায়ী, পত্রিকার প্রকাশক, সম্পাদক, সাবেক আমলা, সাবেক সেনা কর্মকর্তা এবং ডাকসাইটে সাবেক ছাত্রনেতাদের পদায়ন করা হয়েছে। পাশাপাশি কমিটির সদস্য সচিবের এলাকার উপজেলা-ইউনিয়ন পর্যায়ের একাধিক নেতাকেও রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সূত্র : জাগো নিউজ
এন এইচ, ১৩ মার্চ









