মাদারীপুরে একের পর এক বোমা ও ককটেল বিস্ফোরণ, আতঙ্কে স্থানীয় বাসিন্দারা

মাদারীপুর,০৭ নভেম্বর-মাদারীপুরে বোমা ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা থামছে না। জেলার বিভিন্ন এলাকায় একের পর এক বিস্ফোরণের ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টার পর সদর উপজেলার নয়ারচর ব্রিজ ও চরমুগরিয়া এলাকার পিটিআই সড়কের কাছে একাধিক বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। তবে এসব ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে হতাহত বা সম্পদের ক্ষয়ক্ষতির কোনো খবর পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মাদারীপুর সদর ও কালকিনি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় আধিপত্য বিস্তার, মাদক ব্যবসা, অবৈধ বালু উত্তোলন, সামাজিক বিরোধ এবং বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে গ্রুপিংকে কেন্দ্র করে প্রায়ই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে। এসব সংঘর্ষের পাশাপাশি বোমা ও ককটেল বিস্ফোরণও ঘটছে। কখনো সংঘর্ষের সময়, আবার কখনো পরিত্যক্ত ঘর কিংবা বসতবাড়ির আশপাশ থেকে বিস্ফোরক উদ্ধারের ঘটনা ঘটছে। এতে এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, গত তিন বছরে জেলায় অর্ধশতাধিক বোমা ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় আহত হয়ে অন্তত তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও অনেকে। তাদের মধ্যে কয়েকজন পঙ্গুত্বও বরণ করেছেন।
সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনায় নতুন করে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। গত ২৮ মার্চ মাদারীপুর পৌর শহরের প্লানেট কমিউনিটি সেন্টারে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে বসাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে প্রথমে কথা-কাটাকাটি হয়। পরে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। এ সময় একের পর এক ককটেল বিস্ফোরণে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরদিন ভোররাতেও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে পাকদী এলাকায় প্রায় ১৫টি বসতঘর ভাঙচুর করা হয়।
এ ছাড়া গত ৪ সেপ্টেম্বর সদর উপজেলার পশ্চিম পেয়ারপুরে একটি বাড়ির পেছনের কক্ষে হাতবোমা বিস্ফোরণে দুজন আহত হন। ১৫ আগস্ট কালকিনির গোপালপুর দারুসসুন্নাহ মহিলা মাদরাসায় হাতবোমা বিস্ফোরণে আহত হন চারজন। অন্যদিকে, ১৩ সেপ্টেম্বর সদর উপজেলার ভদ্রখোলার একটি পরিত্যক্ত ঘরে মজুত করে রাখা দুটি হাতবোমা বিস্ফোরিত হয়।
মাদারীপুর জজ কোর্টের আইনজীবী জামিনুর হোসেন মিঠু বলেন, ‘ঘটনার পর গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা জানতে পারলেই হবে না। তাদের আরও তৎপর হতে হবে এবং বোমা তৈরির উৎস খুঁজে বের করতে হবে। কারা এসব বোমা তৈরি ও সরবরাহ করছে, তা শনাক্ত করা জরুরি।’
মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বিশেষ শাখা) শেখ সাব্বির হোসেন জানান, গত দুই মাসে চারটি ঘটনায় চারটি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় আটজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ২০ জনকে আসামি করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। একই সঙ্গে জেলা গোয়েন্দা শাখার নজরদারি ও তদারকি জোরদার করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসক মর্জিনা আক্তার বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে কাজ করছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা যথাযথভাবে নেওয়া হবে।
এস এম/ ০৭ নভেম্বর ২০২৬







