উত্তর আমেরিকা

হোয়াইট হাউজের নতুন চিফ অব স্টাফ হচ্ছেন কট্টর অভিবাসনবিরোধী স্টিফেন মিলার

ওয়াশিংটন, ০৭ নভেম্বর – মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে এক বড় ধরনের নীতিনির্ধারণী রদবদল ঘটিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি তাঁর দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত ও অত্যন্ত প্রভাবশালী উপদেষ্টা স্টিফেন মিলারকে হোয়াইট হাউজের নতুন চিফ অব স্টাফ হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে নিয়োগের ঘোষণা দিয়েছেন। ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসনবিরোধী কঠোর নীতির মূল রূপকার হিসেবে পরিচিত ৪১ বছর বয়সী মিলারের এই আগমনকে মার্কিন প্রশাসনের নীতিতে আরও কঠোর অবস্থানের পরিষ্কার সংকেত হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

গত শুক্রবার (৬ নভেম্বর) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক বিশেষ বার্তায় এই পরিবর্তনের কথা নিশ্চিত করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেখানে তিনি মিলারকে তাঁর অন্যতম বিশ্বস্ত ও আস্থাভাজন সহযোগী হিসেবে বর্ণনা করেন। আগামী সোমবার (৯ নভেম্বর) থেকে তিনি বিদায়ী চিফ অব স্টাফ সুসি ওয়াইলসের স্থলাভিষিক্ত হবেন।

‘গেটকিপার’ বা ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে মিলার

মার্কিন শাসনব্যবস্থায় হোয়াইট হাউজের চিফ অব স্টাফ পদটিকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও শক্তিশালী ধরা হয়। মূলত এই পদের অধিকারীকে প্রেসিডেন্টের ক্ষমতার ‘দ্বাররক্ষক’ বা ‘গেটকিপার’ বলা হয়ে থাকে।

কারণ, প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের প্রশাসনিক ও নীতিনির্ধারণী সমস্ত কার্যক্রম পরিচালনা করা, কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের তদারকি, প্রেসিডেন্টের দৈনন্দিন কর্মসূচি ও বৈঠকের সূচি নির্ধারণের দায়িত্ব পালন করেন চিফ অব স্টাফ। এমনকি প্রেসিডেন্টের কাছে কোন তথ্যটি পৌঁছাবে এবং কারা সরাসরি রাষ্ট্রপতির সাক্ষাত পাবেন—সেই নিয়ন্ত্রণও থাকে তাঁর হাতেই।

মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের পরাজয় ও নতুন সমীকরণ

সদ্য সমাপ্ত মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টি বড় ধরনের ধাক্কা বা পরাজয়ের মুখোমুখি হয়েছে। আগামী জানুয়ারি থেকেই মার্কিন কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ (সিনেট) ও নিম্নকক্ষ (প্রতিনিধি পরিষদ)—উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ চলে যাচ্ছে ডেমোক্র্যাটদের হাতে।

ডেমোক্র্যাটরা ক্ষমতায় এসেই ট্রাম্প প্রশাসনের পূর্ববর্তী নীতি ও বিভিন্ন পদক্ষেপের ওপর কড়া তদন্ত চালাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই চরম রাজনৈতিক অস্থিরতা ও কোণঠাসা পরিস্থিতির মুখেই ট্রাম্প তাঁর বিশ্বস্ত ও কট্টর কৌশলবিদ স্টিফেন মিলারকে এত গুরুত্বপূর্ণ পদে বসালেন। ফলে আগামী দিনগুলোতে হোয়াইট হাউজ থেকে আরও আগ্রাসী ও কঠোর সিদ্ধান্ত আসবে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ মহল।

এনএন/ ০৭ নভেম্বর ২০২৬

Back to top button
🌐 Read in Your Language