জাতীয়

জামায়াতের সঙ্গে নির্বাচনি ঐক্য: অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে এনসিপি ছেড়েছেন তাসনিম জারা, তাজনূভা ও সামান্তা শারমিন

ঢাকা, ০৬ নভেম্বর – জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে রাজনৈতিক জোট ও আসন সমঝোতা নিয়ে তীব্র অভ্যন্তরীণ বিরোধের জেরে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে একে একে পদত্যাগ করেছেন দলটির তিন জনপ্রিয় ও শীর্ষস্থানীয় নারী নেত্রী—ডা. তাসনিম জারা, তাজনূভা জাবীন এবং সর্বশেষ সামান্তা শারমিন। জামায়াতের সঙ্গে আদর্শিক দ্বন্দ্ব, নারী অধিকার ও জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনা ক্ষুণ্ন হওয়ার অভিযোগ তুলে দল ছেড়েছেন তারা।

এনসিপির ভাঙন ও পদত্যাগী নেত্রীদের ক্ষোভের কারণ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে এনসিপির নির্বাচনি ঐক্য ও আসন সমঝোতা দলের ভেতরে বড় ধরনের ফাটল ধরায়। শীর্ষ নেতাদের এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে একে একে পদত্যাগ করেন দলটির শীর্ষ নারী নেতৃত্ব:

ডা. তাসনিম জারার পদত্যাগ ও স্বতন্ত্র অবস্থান:

গত বছরের ২৭ ডিসেম্বর দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. তাসনিম জারা এনসিপি থেকে পদত্যাগ করেন। ফেসবুক পোস্টে তিনি জানান, কোনো নির্দিষ্ট দল বা জোটের প্রার্থী না হয়ে তিনি ঢাকা-৯ আসনে স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচন করবেন। জামায়াতের সঙ্গে জোট গঠনে আপত্তি জানিয়ে নাহিদ ইসলামকে ৩০ নেতার দেওয়া চিঠিতে সইও করেছিলেন তিনি। দলের সঙ্গে না থাকার সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে দলীয় কর্মী বাহিনী বা প্রশাসনিক সুরক্ষা পাওয়া কঠিন হলেও আদর্শের সঙ্গে আপস না করতেই তিনি এই পথ বেছে নেন।

তাজনূভা জাবীনের তীব্র সমালোচনা:

তাসনিম জারার পদত্যাগের ঠিক একদিন পর, ২৮ ডিসেম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক পদ থেকে পদত্যাগ করেন তাজনূভা জাবীন। তিনি অভিযোগ করেন, জামায়াতের সঙ্গে জোট গঠনের বিষয়টি কোনো সাধারণ রাজনৈতিক কৌশল নয়, বরং এটি একটি ‘পরিকল্পিত’ প্রক্রিয়া। দলের প্রথম নির্বাচনেই কেন জোট করতে হবে—এই প্রশ্ন তুলে তিনি জানান, এনসিপি নিজের স্বকীয়তা বজায় রাখলে ভবিষ্যতে অন্যান্য দলের সঙ্গে জোটে যাওয়া যেত। অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও অবিশ্বাসকেই তিনি দল ছাড়ার মূল কারণ বলে উল্লেখ করেন।

সামান্তা শারমিনের সর্বশেষ প্রস্থান:

সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দলের অন্যতম শীর্ষ নেত্রী সামান্তা শারমিনও এনসিপি ছেড়ে যান। প্রায় এক বছর ধরে জামায়াতের সঙ্গে জোটের বিরোধিতা করে আসা সামান্তা বলেন, জামায়াত ইসলামী নীতি বা কৌশল—কোনো দিক থেকেই মিত্র হওয়ার যোগ্য নয়। ‘সংস্কারের বন্ধু জামায়াত হতে পারে কি না’—এই শিরোনামে দেওয়া ব্যাখ্যায় তিনি জানান, জামায়াতের দার্শনিক ভিত্তি গণতান্ত্রিক নয় এবং তাদের সঙ্গে জোট করার কারণে উদার গণতান্ত্রিক মূল্যবোধে বিশ্বাসী সাধারণ মানুষ এনসিপির দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে।

নির্বাচনি ফলাফল ও ভবিষ্যৎ গন্তব্য:

দলের ভেতরে তীব্র বিরোধিতা এবং ৩০ জন নেতার আপত্তি সত্ত্বেও নাহিদ-আখতার-হাসনাতরা জামায়াতের সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচনে অংশ নেন এবং দলটি ছয়টি আসনে জয়লাভ করে। তবে জুলাই অভ্যুত্থানের মূল রাজনৈতিক বন্দোবস্ত থেকে এনসিপি সরে এসেছে অভিযোগ করে তাজনূভা জাবীনসহ অন্য নেত্রীরা পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন, তারা এনসিপিতে আর ফিরছেন না এবং অচিরেই একটি নতুন বিকল্প রাজনৈতিক শক্তি গড়ে তুলবেন।

এনএন/ ০৬ নভেম্বর ২০২৬

Back to top button
🌐 Read in Your Language