৩ দফা দাবিতে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক স্তব্ধ: সাভারে পোশাকশ্রমিকদের তীব্র বিক্ষোভ

ঢাকা, ০৪ নভেম্বর – ন্যূনতম বেতন বৃদ্ধি, শ্রমিকদের কালো তালিকাভুক্তি বন্ধ এবং অন্যায় ছাঁটাই বাতিলের ৩ দফা দাবিতে ফের উত্তাল হয়ে উঠেছে সাভার। আজ বুধবার (৪ নভেম্বর) সকাল ৯টার দিকে সাভারের হেমায়েতপুর বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন কয়েকটি পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা।
শ্রমিকদের এই আকস্মিক অবরোধে মহাসড়কের উভয় পাশে প্রায় ২ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। কর্মব্যস্ত সকালে হঠাৎ পথ আটকে যাওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ যাত্রী, পথচারী ও দূরপাল্লার পরিবহনের যাত্রীরা।
৩ দফা দাবির পেছনের চিত্র
আন্দোলনরত শ্রমিকদের পরিষ্কার বক্তব্য—নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের চড়া দাম ও বাড়ি ভাড়ার লাগামহীন বৃদ্ধিতে বর্তমান সাড়ে ১২ হাজার টাকার ন্যূনতম মজুরিতে সংসার চালানো প্রায় অসম্ভব। এ পরিস্থিতিতে তাদের প্রধান দাবি তিনটি:
১. পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম বেতন এক লাফে ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা।
২. বেআইনিভাবে শ্রমিকদের কালো তালিকাভুক্ত (ব্ল্যাকলিস্ট) করা বন্ধ করা।
৩. কোনো প্রকার যৌক্তিক কারণ ছাড়া অযৌক্তিক ছাঁটাই অবিলম্বে বাতিল করা।
আন্দোলন যেভাবে ছড়ালো রাজপথে
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র থেকে জানা গেছে, সকালে সাভারের তেঁতুলঝড়া ইউনিয়নের পদ্মার মোড় এলাকার কয়েকটি কারখানার শ্রমিকেরা প্রথমে একজোট হয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। পরবর্তীতে একেএইচ (AKH) পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা সকালে যথারীতি কাজে যোগ দিলেও কিছুক্ষণ পরই তারা কারখানা থেকে বের হয়ে হেমায়েতপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এসে মূল মহাসড়ক আটকে দেন।
প্রতিবেদন তৈরি হওয়া পর্যন্ত (সকাল ৯টা ২০ মিনিট) শ্রমিকেরা মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে তাদের দাবির পক্ষে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন।
হাইওয়ে পুলিশ ও প্রশাসনের অবস্থান
ঘটনাস্থলে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে ও আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশ ও শিল্প পুলিশের অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
সাভার হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসাদুজ্জামান নূর জানান, ৩ দফা দাবিকে কেন্দ্র করে শ্রমিকেরা ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে অবস্থান নিয়েছিলেন। যেকোনো ধরনের সহিংসতা এড়াতে পর্যাপ্তসংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন রয়েছে এবং মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করতে আলোচনা চালানো হচ্ছে।
সংঘাত বনাম সমাধানের পথ
শিল্পাঞ্চলগুলোতে একে একে নতুন নতুন পয়েন্টে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়া গার্মেন্টস খাতের উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থার জন্য বড় ধরনের শঙ্কা তৈরি করছে। শ্রমিকদের জীবনযাত্রার বাস্তব সংকট বিবেচনা করে দ্রুত কার্যকর মধ্যস্থতা না হলে এই অসন্তোষ সাভার-আশুলিয়া ছাড়িয়ে আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এনএন/ ০৪ নভেম্বর ২০২৬







