মোংলা বন্দরের আধুনিকায়নে ৪ হাজার ৬৮ কোটি টাকার প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

খুলনা,০৪ নভেম্বর-মাত্র দুই সপ্তাহের ব্যবধানে আগামীকাল আবারও মোংলা বন্দরে আসছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এদিন তিনি ৪ হাজার ৬৮ কোটি টাকা ব্যয়ে নতুন দুটি জেটি ও ইয়ার্ডসহ আনুষঙ্গিক নির্মাণকাজের উদ্বোধন করবেন।
এর আগে গত ২২ অক্টোবর মোংলা বন্দরের উন্নয়ন কার্যক্রম দেখতে বন্দরটি পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর এই সফরে খুশি বন্দর ব্যবহারকারীসহ এলাকার সব শ্রেণি-পেশার মানুষ।
মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল আরিফ আহমেদ মোস্তফা জানান, মোংলা বন্দরের আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ প্রকল্পের অংশ হিসেবে নতুন দুটি কনটেইনার জেটি ও ইয়ার্ড নির্মাণকাজের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরের সময় এ উন্নয়ন প্রকল্পের চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এরপর গত ১০ অক্টোবর বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক এবং ঋণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় প্রধানমন্ত্রী এই উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন করতে যাচ্ছেন।
তিনি আরও জানান, ৪ হাজার ৬৮ কোটি টাকার এই প্রকল্পের আওতায় নতুন দুটি কনটেইনার জেটি ও কনটেইনার ইয়ার্ড নির্মাণ করা হবে। পাশাপাশি পণ্য ওঠানো-নামানোর কাজে ৪৯টি আধুনিক যন্ত্রপাতি যুক্ত করা হবে। প্রকল্পের মোট ব্যয়ের মধ্যে সরকার ৪৭৫ কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে। বাকি অর্থ দেবে সংশ্লিষ্ট চীনা কোম্পানি।
মোংলা বন্দর বার্থ শিপ অপারেটর অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. জুলফিকার আলী বলেন, বন্দর ব্যবহারকারীদের দাবি হলো, বন্দরের চ্যানেলের নাব্যতা বাড়াতে পরিকল্পিতভাবে ড্রেজিং ও সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা, সড়ক ও রেল যোগাযোগের উন্নয়ন, ফয়লা বিমানবন্দর চালু করা এবং দ্রুত বন্দরের আকরাম পয়েন্টে এলএনজি স্টেশন নির্মাণ করা।
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী লায়ন ডক্টর শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, প্রধানমন্ত্রী মোংলা বন্দরে চীনা কোম্পানির নতুন দুটি কনটেইনার জেটি নির্মাণকাজের উদ্বোধনের পাশাপাশি ইনভেস্ট বাংলাদেশ ও চায়না রেলওয়ে কনস্ট্রাকশন করপোরেশনের মধ্যে রেলওয়ে চুক্তি স্বাক্ষর করবেন। এর ফলে মোংলা বন্দর দিয়ে কনটেইনার পরিবহনে রেল চলাচল শুরু হবে। এতে ব্যবসায়ীদের আগ্রহ ও বিনিয়োগ বাড়বে।
মাত্র দুই সপ্তাহের ব্যবধানে প্রধানমন্ত্রীর মোংলা বন্দর সফর উন্নয়ন কার্যক্রমে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগে এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে মোংলা বন্দর চট্টগ্রাম বন্দরের বিকল্প হিসেবে গড়ে উঠবে।
এস এম/ ০৪ নভেম্বর ২০২৬







