জাতীয়

প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে মোংলা বন্দরে নতুন দুটি কনটেইনার জেটি নির্মাণের উদ্যোগ

প্রধানমন্ত্রী

ঢাকা,০৪ নভেম্বর=প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর দ্বিতীয়বারের মতো মোংলা বন্দর সফরে যাচ্ছেন তারেক রহমান। আগামীকাল বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকালে তার এই সফরকে ঘিরে বন্দরে নতুন দুটি কনটেইনার জেটি নির্মাণসহ অবকাঠামো উন্নয়নের বেশ কয়েকটি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এদিন নতুন দুটি কনটেইনার জেটি নির্মাণ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে মোংলা বন্দরে পণ্য ওঠানামা ও কনটেইনার পরিবহনের সক্ষমতা বাড়বে। এর ফলে দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে।

এর আগে গত ২২ অক্টোবর মোংলা বন্দর ও সুন্দরবন পরিদর্শন করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী।

মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল আরিফ আহম্মেদ মোস্তফা জানান, বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় প্রধানমন্ত্রী মোংলা বন্দরে পৌঁছাবেন।

এরপর বন্দরের সুবিধা সম্প্রসারণ ও উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় নতুন দুটি কনটেইনার জেটি নির্মাণ এবং এর সঙ্গে প্রয়োজনীয় অন্যান্য সুবিধা উন্নয়নকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন তিনি।

বন্দর চেয়ারম্যান বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের মধ্য দিয়ে প্রকল্পটির নির্মাণকাজ শুরু হবে।

গত ১০ অক্টোবর বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে এই প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। প্রকল্পটির মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ হাজার ৬৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে বাংলাদেশ সরকার দেবে ৪৭৫ কোটি টাকা। বাকি ৩ হাজার ৫৯৩ কোটি টাকা দেবে চীন।

প্রকল্পের আওতায় ৩৬৮ মিটার দৈর্ঘ্যের একটি কনটেইনার টার্মিনাল ও ইয়ার্ড নির্মাণ করা হবে। পাশাপাশি বিপজ্জনক পণ্য (ডেঞ্জারাস কার্গো) ওঠানামার ব্যবস্থাও রাখা হবে। নতুন কনটেইনার ইয়ার্ডে ৪৯টি যন্ত্রপাতি যুক্ত করা হবে। এসব যন্ত্রপাতির মাধ্যমে ঘণ্টায় ৩০টির বেশি কনটেইনার খালাস করা সম্ভব হবে। সব মিলিয়ে বছরে চার লাখ টিইইউ (২০ ফুট সমমানের কনটেইনার) হ্যান্ডলিংয়ের সক্ষমতা তৈরি হবে মোংলা বন্দরের।

এদিকে একই দিন প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে বন্দরের ৯ নম্বর জেটিতে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) এবং চায়না রেলওয়ে কনস্ট্রাকশন করপোরেশনের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হওয়ার কথা রয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকালে মোংলা বন্দরের নির্ধারিত কর্মসূচি শেষ করে সড়কপথে বাগেরহাটে যাবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে হজরত খানজাহান আলীর মাজার জিয়ারত করবেন তিনি। এরপর খুলনায় গিয়ে ‘নতুন কুঁড়ি সিজন-২’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। সব কর্মসূচি শেষ করে ঢাকায় ফিরবেন প্রধানমন্ত্রী।

সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে মোংলা বন্দরের কনটেইনার পরিবহনের সক্ষমতা বাড়ার পাশাপাশি দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য এবং রেলপথে পণ্য পরিবহনে নতুন গতি আসবে।

এস এম/ ০৪ নভেম্বর ২০২৬

Back to top button
🌐 Read in Your Language