ভারতে ১০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগে নতুন তেল শোধনাগার ও পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্স নির্মাণের পরিকল্পনা

দিল্লি,০৩ নভেম্বর-ভারতের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা মেটাতে প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করে নতুন তেল শোধনাগার ও পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্স নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান ভারত পেট্রোলিয়াম করপোরেশন লিমিটেড (বিপিসিএল)। অন্ধ্রপ্রদেশের রামায়াপত্তনম বন্দরের কাছে এ প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করা হয়েছে। প্রস্তাবিত শোধনাগারটির বার্ষিক তেল পরিশোধন সক্ষমতা হবে ৯ মিলিয়ন মেট্রিক টন (এমএমটিপিএ)।
পলিমার আপডেটের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, নতুন এই স্থাপনায় শুধু পেট্রোলিয়াম পণ্যই নয়, বিভিন্ন ধরনের পেট্রোকেমিক্যাল ও অন্যান্য উপজাতও উৎপাদন করা হবে। বর্তমানে প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা যাচাই, জমি অধিগ্রহণ এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণের বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করছে বিপিসিএল। ইতোমধ্যে প্রকল্পের প্রাথমিক প্রস্তুতিও শুরু হয়েছে।
ভারতের অভ্যন্তরীণ বাজারে জ্বালানির চাহিদা নিয়মিত বাড়ছে। অন্যদিকে, জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে উদ্বেগের কারণে পশ্চিমা দেশগুলোতে তেল পরিশোধনের সক্ষমতা কমছে। এ পরিস্থিতিতে আমদানির ওপর নির্ভরতা কমানো এবং ভবিষ্যতের জ্বালানি চাহিদা মেটাতে নিজস্ব তেল পরিশোধন অবকাঠামো বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে ভারত।
২০২৮ সালের মধ্যে পরিশোধন সক্ষমতা ৪৫ এমএমটিপিএ করার লক্ষ্য
বর্তমানে মুম্বাই, কোচি ও বিনায় অবস্থিত তিনটি শোধনাগারের মাধ্যমে বছরে মোট ৩৫ দশমিক ৩ মিলিয়ন মেট্রিক টন অপরিশোধিত তেল পরিশোধন করে বিপিসিএল। ২০২৮ সালের মধ্যে এই সক্ষমতা বাড়িয়ে ৪৫ এমএমটিপিএ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
রামায়াপত্তনমের প্রস্তাবিত শোধনাগার চালু হলে প্রতিষ্ঠানটির সামগ্রিক উৎপাদন ও তেল পরিশোধনের সক্ষমতা আরও বাড়বে। পাশাপাশি পেট্রোকেমিক্যাল খাতে নতুন নতুন পণ্য উৎপাদনের সুযোগ তৈরি হবে। দীর্ঘ মেয়াদে ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বৈশ্বিক তেল পরিশোধন ও পেট্রোকেমিক্যাল উৎপাদন খাতে দেশটির অবস্থান আরও শক্তিশালী করতেও প্রকল্পটি ভূমিকা রাখতে পারে।
২০৩০ সাল নাগাদ দৈনিক ১০ লাখ ব্যারেল বাড়তে পারে তেলের চাহিদা
ভারতের ভবিষ্যৎ জ্বালানি চাহিদা নিয়ে সম্প্রতি শেয়ারহোল্ডারদের সামনে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেছেন বিপিসিএলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্জয় খান্না।
তিনি জানান, ভারত বর্তমানে বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম তেল আমদানিকারক ও ভোক্তা দেশ। ২০৩০ সাল নাগাদ দেশটিতে প্রতিদিন অতিরিক্ত ১০ লাখ ব্যারেল তেলের প্রয়োজন হতে পারে। বিশ্বের অন্য যেকোনো দেশের তুলনায় ভারতেই তেলের চাহিদা সবচেয়ে বেশি বাড়তে পারে।
সঞ্জয় খান্নার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ভারতে প্রতিদিন অপরিশোধিত তেলের চাহিদা প্রায় ৫৫ লাখ ব্যারেল। পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৩০ সাল নাগাদ বিশ্ববাজারে প্রতিদিন তেলের চাহিদা ২৫ লাখ ব্যারেল বাড়তে পারে। এর একটি উল্লেখযোগ্য অংশের চাহিদা তৈরি হবে ভারতে।
বিপিসিএল প্রধান আরও জানান, ভারতের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও জ্বালানি খাতের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা বিবেচনা করে রামায়াপত্তনম বন্দরের কাছে নতুন শোধনাগার ও পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্স নির্মাণের বিষয়টি পর্যালোচনা করা হচ্ছে। এ লক্ষ্যে প্রকল্পের প্রাথমিক প্রস্তুতিও এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
নতুন উৎপাদন অবকাঠামো নির্মাণের পাশাপাশি বিদ্যমান সক্ষমতা বাড়ানোরও বড় পরিকল্পনা নিয়েছে বিপিসিএল। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে বলেও জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। ভারতের শিল্পভিত্তি আরও শক্তিশালী করা এবং ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা মেটাতে এসব পরিকল্পনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এস এম/ ০৩ নভেম্বর ২০২৬







