এলপিজির দাম বাড়ায় ক্ষোভ জামায়াতের: অব্যবস্থাপনার দায় জনগণের ওপর চাপানো চলবে না—মিয়া গোলাম পরওয়ার

ঢাকা, ০২ নভেম্বর – এক মাসের ব্যবধানে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম অস্বাভাবিকভাবে ২২৩ টাকা বাড়িয়ে ২ হাজার ৬০ টাকা নির্ধারণ করার তীব্র প্রতিবাদ ও ক্ষোভ জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার সোমবার (২ নভেম্বর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক কড়া বিবৃতিতে এই মন্তব্য করেন।
দুর্ভোগে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবার:
বিবৃতিতে গোলাম পরওয়ার উল্লেখ করেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে দেশের সাধারণ মানুষ যখন আগে থেকেই দিশেহারা, ঠিক সেই মুহূর্তে এলপিজির এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি জনজীবনে নতুন করে গভীর দুর্ভোগ ডেকে আনবে। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর মাসিক পারিবারিক ব্যয় এর ফলে বহুগুণ বেড়ে যাবে, যা সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার সম্পূর্ণ বাইরে।
সিন্ডিকেট ও বাজার অব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন:
সরকার নির্ধারিত দামের ব্যত্যয় ঘটিয়ে বাজারে বর্তমানে আরও চড়া দামে গ্যাস বিক্রির তীব্র সমালোচনা করেন জামায়াত নেতা। তিনি অভিযোগ করেন, রাজধানীতেই ১২ কেজির একেকটি সিলিন্ডার ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অথচ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর কোনো বাজার তদারকি বা জবাবদিহি নিশ্চিত করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। আমদানিকারক, ডিলার ও খুচরা বিক্রেতাদের কমিশন বাড়ানোর হাস্যকর অজুহাতে ভোক্তাদের ওপর এই অতিরিক্ত ব্যয়ের বোঝা চাপানো কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
জামায়াতের সুনির্দিষ্ট দাবি:
জনগণের কাঁধে জ্বালানি খাতের অব্যবস্থাপনা ও বাজার নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার দায় না চাপানোর আহ্বান জানিয়ে বিবৃতিতে অবিলম্বে কয়েকটি জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানানো হয়:
- এলপিজির মূল্যবৃদ্ধির বিতর্কিত ও জনদুর্ভোগ সৃষ্টিকারী সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসা।
- খুচরা বাজারে সরকার নির্ধারিত মূল্যে গ্যাস বিক্রি শতভাগ নিশ্চিত করা।
- এলপিজি খাতের সিন্ডিকেট ও অযৌক্তিক মুনাফাখোরদের দৌরাত্ম্য বন্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া।
- সাধারণ ভোক্তাদের স্বার্থ সুরক্ষায় নিয়মিত ও জোরালো বাজার মনিটরিং বা তদারকি চালু রাখা।
এনএন/ ০২ নভেম্বর ২০২৬







