জাতীয়

ডেঙ্গু পরিস্থিতিতে হাহাকার: ২৪ ঘণ্টায় আরও ৬ প্রাণহানি, আক্রান্ত প্রায় দুই হাজার

ঢাকা, ০২ নভেম্বর – দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতির অবনতি ঘটে চলেছে দ্রুত গতিতে. শীতের দোরগোড়ায় এসেও মশার প্রকোপ ও মৃত্যুর মিছিল থামার কোনো লক্ষণ নেই. দেশের চিকিৎসাসেবা ব্যবস্থার ওপর বাড়ছে চরম চাপ.

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ ডেঙ্গুবিষয়ক বুলেটিন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে আরও ৬ জনের করুণ মৃত্যু হয়েছে. একই সময়ে ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়ে নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৯৭০ জন রোগী, যার সিংহভাগই রাজধানীসহ দেশের প্রধান বিভাগীয় শহরগুলোর.

মৃত্যুর সংখ্যা ৪৩০ ছাড়াল, সবচেয়ে আশঙ্কাজনক অক্টোবর:

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, চলতি বছরে ডেঙ্গুতে এ পর্যন্ত মোট ৪৩৩ জনের মৃত্যু হয়েছে. এর মধ্যে বিদায়ী অক্টোবর মাসেই রেকর্ড ১৭৪ জনের প্রাণ গেছে, যা পুরো বছরের মোট মৃত্যুর ৪০ শতাংশেরও বেশি. এর আগে সেপ্টেম্বরে ১৪৮ জন, আগস্টে ৪৩ জন, জুলাইয়ে ৩৬ জন এবং জুনে ১৩ জনের মৃত্যু হয়. চিকিৎসকদের মতে, অক্টোবরে সংক্রমণ এবং মৃত্যুর রূপ ছিল ভয়াবহ, যার জের নভেম্বরের শুরুতেও অব্যাহত রয়েছে.

বিভাগভিত্তিক সংক্রমণ চিত্র: শীর্ষে ঢাকা ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল

গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ১ হাজার ৯৭০ জনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি রোগী শনাক্ত হয়েছেন ঢাকা বিভাগে—প্রায় ৯০০ জন. অন্যান্য বিভাগের মধ্যে চট্টগ্রামে ২৫২ জন, খুলনায় ২৯৪ জন, বরিশালে ১৮৩ জন, রাজশাহীতে ১৫৩ জন, ময়মনসিংহে ৯৫ জন, রংপুরে ৭১ জন এবং সিলেট বিভাগে ২২ জন ভর্তি হয়েছেন.

চলতি বছর দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মোট হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৯৯ জনে, যার মধ্যে ইতোমধ্যেই ১ লাখ ৩২ হাজার ৪৪৯ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন.

বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা:

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডেঙ্গু এখন আর নির্দিষ্ট কোনো মরশুমে সীমাবদ্ধ নেই. অসময়ে বৃষ্টিপাত ও বাসাবাড়িতে জমে থাকা পরিষ্কার পানিতে এডিস মশার প্রজনন অব্যাহত থাকায় আক্রান্তের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে. বিশেষ করে ঢাকা এবং খুলনা-বরিশাল অঞ্চলে ডেঙ্গুর প্রভাব সবচেয়ে তীব্র.

হাসপাতালগুলোতে বেড সংকট এবং তরল স্যালাইনের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ রোগীরা পড়েছেন চরম দুশ্চিন্তায়. চিকিৎসকরা এখন সাধারণ জ্বর এলেই অবহেলা না করে দ্রুত এনএস১ (NS1) অ্যান্টিজেন পরীক্ষা করানোর পরামর্শ দিচ্ছেন. একই সাথে ডেঙ্গুর বিপজ্জনক লক্ষণ—যেমন অনবরত বমি, তীব্র পেট ব্যথা, মাড়ি বা নাক দিয়ে রক্তপাত এবং অতিরিক্ত প্লাটিলেট কমে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিলে দেরি না করে হাসপাতালে ভর্তির তাগিদ দেওয়া হচ্ছে.

এনএন/ ০২ নভেম্বর, ২০২৬

Back to top button
🌐 Read in Your Language