সেই রাতে তরুণীসহ বারে ছিলেন তাহসিফ! সিসিটিভি ফুটেজে মিলল শেষ রাতের চাঞ্চল্যকর গতিবিধি

ঢাকা, ৩১ অক্টোবর – বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরি হত্যা মামলার তদন্তে একের পর এক চাঞ্চল্যকর ও রোমহর্ষক তথ্য সামনে আনছেন তদন্তকারীরা। গত ২৭ অক্টোবর রাতে নিখোঁজ ও পরবর্তীতে তুরাগ নদ থেকে মরদেহ উদ্ধারের ওই ঘটনায় সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে মামলার তদন্তে নতুন মোড় এসেছে। জানা গেছে, হত্যাকাণ্ডের শিকার হওয়ার ঠিক আগে উত্তরার একটি রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড বারে বান্ধবী ও জুনিয়র বন্ধু দীপকে নিয়ে দীর্ঘ সময় কাটিয়েছিলেন তাহসিফ।
সিসিটিভি ক্যামেরায় শেষ রাতের গতিবিধি
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে জানা যায়, গত ২৭ অক্টোবর রাতে মর্মান্তিক ওই ঘটনার পূর্বে রাজধানীর উত্তরার একটি অভিজাত বারে সময় কাটিয়েছিলেন তারা:
বারে প্রবেশ: ওই দিন রাত ১০টা ১৭ মিনিটে উত্তরার ১১ নম্বর সেক্টরের ‘নেস্ট রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড বার’-এ প্রবেশ করেন তাহসিফ ও তার বান্ধবী। তারা একটি মোটরসাইকেলে করে সেখানে পৌঁছান।
দীপের যোগদান: এর কিছুক্ষণ পর আরেকটি মোটরসাইকেলে করে সেখানে এসে যোগ দেন মামলার অন্যতম সন্দেহভাজন ও গ্রেপ্তারকৃত জুনিয়র বন্ধু আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপ।
লিফটের সামনে অপেক্ষা: সিসিটিভি ফুটেজে আরও দেখা যায়, তাহসিফ ও তার বান্ধবী লিফটের সামনে দাঁড়িয়ে দীপের জন্য অপেক্ষা করছেন। পরবর্তীতে হেলমেট পরা অবস্থায় দীপ সেখানে পৌঁছালে তিনজন একসঙ্গে বারের লিফটে ওঠেন।
সেখানে প্রায় দেড় ঘণ্টা সময় কাটানোর পর তারা সবাই আবার মোটরসাইকেলে করে ওই বার থেকে বেরিয়ে যান। তদন্তসংশ্লিষ্টরা জানান, বার থেকে বের হওয়ার পর প্রথমে তাহসিফের বান্ধবীকে তার নিজ বাসায় নিরাপদে পৌঁছে দেওয়া হয়। এরপরই তাহসিফ ও দীপকে চলে যেতে দেখা যায় টঙ্গীর মাজার বস্তি এলাকার দিকে।
দীপের ৪ দিনের রিমান্ড ও মামলার অগ্রগতি
এদিকে চাঞ্চল্যকর এই হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপকে শনিবার (৩১ অক্টোবর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হাসিব উল্লাহ পিয়াসের আদালতে হাজির করা হয়। শুনানি শেষে আদালত তার চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
নৌ পুলিশের টঙ্গী ফাঁড়ির পরিদর্শক ও তদন্তকারী কর্মকর্তা সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করলেও আদালত চার দিন মঞ্জুর করেন। রিমান্ড আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টার দিকে দীপ বাসা থেকে ডেকে নিয়ে যান তাহসিফকে। এরপর ২৮ অক্টোবর বিকেলে উত্তরখানের রাজাবাড়ী ঘাট সংলগ্ন তুরাগ নদী থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পকেটে থাকা আইফোনের সূত্র ধরে তার পরিচয় নিশ্চিত করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে দীপ স্বীকার করেছেন যে তাহসিফ তার সিনিয়র ভাই ছিলেন এবং তাকে নিয়ে মাজার বস্তি এলাকায় যাওয়া হয়েছিল। এখন বারে কাটানো সেই দেড় ঘণ্টার সিসিটিভি ফুটেজ এবং গ্রেপ্তার দীপের রিমান্ডে পাওয়া তথ্যের ওপর ভিত্তি করে এই হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য ও মোটিভ খুব দ্রুত উন্মোচিত হবে বলে আশা করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
এনএন/ ৩১ অক্টোবর ২০২৬







