ইউরোপ

ইউক্রেনজুড়ে রাশিয়ার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত ২০

রাশিয়ার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

কিয়েভ,৩০ অক্টোবর-ইউক্রেনের বিভিন্ন শহরে রাশিয়ার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ২০ জন নিহত হয়েছেন। দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় শহর দনিপ্রোর প্রধান রেলস্টেশনে ড্রোন হামলায় ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই দিন চেরনিহিভ ও ক্রেমেনচুক শহরে হামলায় আরও পাঁচজন নিহত হন। রাতে রাজধানী কিয়েভে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় একজনের মৃত্যু হয়। দেশটির কর্মকর্তারা এসব তথ্য জানিয়েছেন। এ ছাড়া আহত হয়েছেন আরও অনেকে। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) এসব হামলার ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে রয়টার্স।

ইউক্রেনের রাষ্ট্রীয় রেলওয়ে সংস্থা উক্রজালিজনিৎসিয়া জানায়, দনিপ্রো শহরের প্রধান রেলস্টেশনের একটি প্ল্যাটফর্মে জেটচালিত ড্রোন আঘাত হানে। ওই সময় সেখান থেকে একটি যাত্রীবাহী ট্রেন ছেড়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। হামলার পর প্ল্যাটফর্মজুড়ে হতাহতদের দেহ ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে থাকে। বিস্ফোরণের আঘাতে আশপাশের ফুটপাত ও স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে পুলিশ মরদেহগুলো উদ্ধার করে।

দনিপ্রোতে আরেকটি হামলায় একটি ছাত্রাবাসে আগুন ধরে যায়। আঞ্চলিক গভর্নর ওলেক্সান্দর হানজা জানান, এক দিনের হামলায় শহরটির প্রায় সাড়ে তিন লাখ পরিবারের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।

এদিকে রাজধানী কিয়েভেও নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। রাত ১১টার কিছু আগে চালানো এই হামলায় অন্তত একজন নিহত হন। শহরের বিভিন্ন গুদামে আগুন ধরে যায়। দনিপ্রো নদীর পূর্ব তীরের একটি ভবনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে শহরের সামরিক প্রশাসন।

ইউক্রেনের প্রধানমন্ত্রী সের্গেই কোরেৎস্কি অভিযোগ করেন, রাশিয়া পরিকল্পিতভাবে বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তু করছে। ট্রেন, রেলস্টেশন ও আবাসিক ভবনেও হামলা চালানো হচ্ছে। এসব হামলার কোনো যুক্তি নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

দনিপ্রো ছাড়াও ইউক্রেনের উত্তরাঞ্চলীয় শহর চেরনিহিভে ড্রোন হামলায় দুই কিশোরী নিহত হয়েছে। শহরের কেন্দ্রস্থলের একটি ব্যস্ত সড়কে চালানো এই হামলায় চার শিশুসহ অন্তত ২৩ জন আহত হয়েছেন।

শহরের সামরিক প্রশাসনের প্রধান দিমিত্রো ব্রাইঝিনস্কি বলেন, সাধারণ শান্তিপ্রিয় মানুষকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। তাদের কেউ কাজে যাচ্ছিলেন, কেউ দৈনন্দিন কাজকর্মে ব্যস্ত ছিলেন, আবার কেউ দিনের পরিকল্পনা করছিলেন। মধ্যাঞ্চলীয় শহর ক্রেমেনচুকে আবাসিক ভবন ও ব্যক্তিগত স্থাপনায় হামলায় তিনজন নিহত এবং ৩২ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন আঞ্চলিক গভর্নর। এ ছাড়া দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় জাপোরিঝিয়ায় রুশ ড্রোনের পৃথক তিনটি হামলায় কয়েকটি বাস ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে আহত হয়েছেন ছয়জন।

এর কয়েক ঘণ্টা আগে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি রাশিয়ার এসব হামলাকে অত্যন্ত নিষ্ঠুর বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, সবাই যখন উত্তেজনা কমানোর উদ্যোগের অপেক্ষায় রয়েছেন, তখনই রাশিয়া হামলা চালাচ্ছে। এটি ইচ্ছাকৃত।

জেলেনস্কি আরও বলেন, রাশিয়া নতুন করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে ইউক্রেনের গোয়েন্দারা তথ্য পেয়েছেন। রাশিয়ার হামলা ও ধ্বংসযজ্ঞ বন্ধ করতে ইউক্রেনের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া দরকার বলেও জানান তিনি। এ বিষয়ে মিত্রদের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন বলে উল্লেখ করেন জেলেনস্কি।

ইউক্রেন ও রাশিয়া—দুই পক্ষই জানিয়েছে, সেখানে মাইন নিষ্ক্রিয় করার কাজ শেষ হয়েছে। এখন শহরটিতে ত্রাণ পৌঁছে দেওয়া এবং যারা যেতে চান, তাদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হবে।

তবে খেরসনে সীমিত পরিসরে যুদ্ধবিরতি চললেও ইউক্রেনের অন্যান্য অঞ্চলে রুশ ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা অব্যাহত রয়েছে। বিশেষ করে রেলপথসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে হামলার কারণে দেশটির স্বাভাবিক জনজীবন ও অর্থনীতি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থায় ক্ষেপণাস্ত্রের ঘাটতিও ইউক্রেনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের সবচেয়ে প্রাণঘাতী সংঘাতের অবসানে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনে শান্তি আলোচনা আবার শুরু করার উদ্যোগ চলছে। আগামী মাসে নতুন করে ত্রিপক্ষীয় আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। এই প্রক্রিয়ার মধ্যেই ইউক্রেনের কর্মকর্তারা মস্কোর ওপর আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

এস এম/ ৩০ অক্টোবর ২০২৬

Back to top button
🌐 Read in Your Language