জাতীয়

নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিতে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফিরিয়ে আনার কোনো বিকল্প নেই, সালাহউদ্দিন আহমদ

ঢাকা, ২৮ অক্টোবর – দেশে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন ব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফিরিয়ে আনা আবশ্যক এবং এর কোনো বিকল্প নেই বলে স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন সংবিধান সংশোধন বিশেষ কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) জাতীয় সংসদের কেবিনেট কক্ষে অনুষ্ঠিত সংবিধান সংশোধন বিশেষ কমিটির এক অতি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শেষে সংসদের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা জানান। বৈঠকে সংবিধানের বিভিন্ন সংস্কার, নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকারের রূপরেখা, ‘জুলাই সনদ’-এর প্রস্তাবনা এবং বিগত সময়ে গুমের শিকার হওয়া পরিবারগুলোর নিরাপত্তা ও বিচার পাওয়ার আইনি সুরক্ষার বিষয়টি গুরুত্বের সাথে আলোচনা করা হয়।

রূপরেখা ও নীতিগত সিদ্ধান্তের মূল দিকগুলো:

১. তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাঠামোগত পরীক্ষা-নিরীক্ষা:

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার পক্ষে শক্ত অবস্থান জানালেও এটি ঠিক কী প্রক্রিয়ায় গঠিত হবে, এর সুনির্দিষ্ট মেয়াদ কতদিন হবে এবং ক্ষমতা ও কার্যপরিধি কেমন হবে—তা এখনো পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর্যায়ে রয়েছে। বিশেষ করে সার্চ বডি গঠন বা নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন নিয়ে যাতে পরবর্তীতে কোনো রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি না হয়, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট আইনি পথ খোঁজা হচ্ছে।

২. ‘জুলাই সনদ’ ও র‍্যাঙ্কড চয়েস ভোট:

রাজনৈতিক দলগুলোর প্রস্তাবিত ‘জুলাই সনদ’-এর বিভিন্ন ধারা পর্যালোচনা করা হচ্ছে। বৈঠকে ‘র‍্যাঙ্কড চয়েস ভোট’ (Ranked-choice voting) নিয়ে আলোচনা হলেও কমিটির সদস্যরা এতে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ (ভিন্নমত) প্রকাশ করেন। এই ধরণের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সংসদে জাতীয় বিতর্কের মাধ্যমেই হওয়া উচিত বলে মনে করে কমিটি।

৩. পেশাজীবী ও সুশীল সমাজের প্রস্তাবনা:

সংবিধান বিশেষজ্ঞ, জ্যেষ্ঠ আইনজীবী, সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও সম্পাদকদের কাছ থেকে পাওয়া অসংখ্য গঠনমূলক প্রস্তাব একত্রিত করে আগামী বৈঠকগুলোতে আলোচনা করা হবে।

গুমের শিকার পরিবারগুলোর অশ্রুসজল বক্তব্য ও সংবিধানে সুরক্ষার দাবি

বৈঠকের অন্যতম আবেগঘন মুহূর্ত ছিল বিগত সরকারের আমলে গুমের শিকার হওয়া ব্যক্তিদের স্বজনদের সরাসরি উপস্থিত থেকে তাদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরা। বৈঠকে সংসদ সদস্য সানজিদা ইসলাম, হুমাম কাদের চৌধুরী, আনিছুর রহমান ও মোছা. তাহসিনা রুশদী উপস্থিত থেকে দীর্ঘদিনের আইনি সুরক্ষা না পাওয়া এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে নির্যাতনের রোমহর্ষক বিবরণ দেন।

ভবিষ্যতে স্বাধীন বাংলাদেশে যেন আর কোনো নাগরিককে এভাবে গুম ও মানবতাবিরোধী অপরাধের শিকার হতে না হয়, সে জন্য সংবিধানে অতি শক্ত প্রতিরোধমূলক আইনি ধারা যুক্ত করার তাগিদ দেন তারা।

জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এই পর্যালোচনা বৈঠকে অংশ নেন।

এনএন/ ২৮ অক্টোবর ২০২৬

Back to top button
🌐 Read in Your Language