এশিয়া

প্রশিক্ষণ চলাকালে ফিলিপাইনে দুই বিমানের সংঘর্ষ, নিহত ৪ পাইলট

বিমানের সংঘর্ষ

ম্যানিলা, ২৪ অক্টোবর-ফিলিপাইনে প্রশিক্ষণ ফ্লাইট চলাকালে বিমানবাহিনীর দুটি বিমানের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। দেশটির রাজধানী ম্যানিলার দক্ষিণাঞ্চলের একটি বিমানঘাঁটিতে ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনায় বিমানে থাকা চার পাইলটের সবাই প্রাণ হারিয়েছেন।

ফিলিপাইন কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে শনিবার আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গত শুক্রবার বিকেলে রাজধানী ম্যানিলার দক্ষিণে উপকূলীয় বাটাঙ্গাস প্রদেশের লিপা শহরের ফার্নান্দো এয়ার বেসে এ দুর্ঘটনা ঘটে। ইতালি থেকে সংগ্রহ করা ‘এসএফ-২৬০’ মডেলের দুটি বিমান তুলনামূলক কম উচ্চতায় উড়ার সময় মাঝআকাশে একে অপরের সঙ্গে ধাক্কা খায়। এরপর বিমান দুটি বিমানঘাঁটির ভেতরেই ভেঙে পড়ে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, দুই আসনবিশিষ্ট একটি বিমান বিমানঘাঁটির ভেতরে সামরিক কর্মীদের ব্যারাকের কাছে আছড়ে পড়ে। তবে এই ভয়াবহ ঘটনায় মাটিতে থাকা কোনো সামরিক বা বেসামরিক ব্যক্তি হতাহত হননি বলে দেশটির কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন।

ফিলিপাইন বিমানবাহিনীর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘটনাটিকে আকস্মিক দুর্ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করা হলেও ঠিক কী কারণে এটি ঘটেছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দেশটির দায়িত্বশীল দুই কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বিমান দুটি মাঝআকাশেই মুখোমুখি সংঘর্ষের শিকার হয়েছিল। দুর্ঘটনার পরপরই এর কারণ অনুসন্ধানে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ফিলিপাইন বিমানবাহিনীর বহরে থাকা বাকি সব এসএফ-২৬০ বিমানের উড্ডয়ন সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে ফিলিপাইনের বিমানবাহিনীর জন্য এ ধরনের দুর্ঘটনা নিয়মিত উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইতালি থেকে আনা এই ‘এসএফ-২৬০’ প্রশিক্ষণ বিমানগুলো এর আগেও বেশ কয়েকটি প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে। চলতি বছরের মে মাসে নেভিগেশন প্রশিক্ষণ চলাকালে উত্তরাঞ্চলের পাহাড়ি বেঙ্গুয়েত প্রদেশে বিমানবাহিনীর একটি এসএফ-২৬০ বিমান বিধ্বস্ত হয়। এতে দুই পাইলট নিহত হন। এর আগে, ২০২৩ সালেও ম্যানিলার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের বাতান প্রদেশের একটি ধানক্ষেতে একই মডেলের বিমান বিধ্বস্ত হয়ে দুই ক্রু সদস্য প্রাণ হারান।

শুক্রবারের এই দুর্ঘটনাকে অর্থসংকটে থাকা ফিলিপাইনের সামরিক বাহিনীর জন্য আরও একটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। পর্যাপ্ত বাজেটের অভাবে দেশটির সামরিক বাহিনী দীর্ঘদিন ধরেই বিমানবাহিনী, নৌবাহিনী ও সেনাবাহিনীকে আধুনিকায়ন করতে হিমশিম খাচ্ছে।

একদিকে অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা, অন্যদিকে কয়েক দশক ধরে চলা কমিউনিস্ট ও মুসলিম চরমপন্থী বিদ্রোহ দমন—সব মিলিয়ে প্রতিরক্ষা খাতকে আধুনিক করে তোলা দেশটির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পাশাপাশি, সাম্প্রতিক সময়ে দক্ষিণ চীন সাগরে বেইজিংয়ের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান আঞ্চলিক সীমান্ত বিরোধের মুখোমুখি হতে গিয়ে দেশটির সীমিত সামরিক সক্ষমতা বারবার বড় ধরনের পরীক্ষার মুখে পড়ছে।

এস এম/ ২৪ অক্টোবর ২০২৬

Back to top button
🌐 Read in Your Language