নেতানিয়াহুর পক্ষে ট্রাম্পের সরাসরি বার্তা: ইসরায়েলের নির্বাচনের ভাগ্য নির্ধারণে মধ্যপ্রাচ্য সমীকরণ

তেল আবিব, ১৯ অক্টোবর – ইসরায়েলের আসন্ন চরম নাটকীয় পার্লামেন্ট (নেসেট) নির্বাচনের লড়াই যখন তুঙ্গে, ঠিক তখনই প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর পক্ষে জোরালো সমর্থন নিয়ে মাঠে নেমেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আগামী ২৭ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যেখানে নেতানিয়াহু ও তাঁর ডানপন্থি লিকুদ পার্টি মারাত্মক রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি, সেখানে ট্রাম্পের এই বার্তা ইসরায়েলের রাজনীতির আন্তর্জাতিক সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ ইসরায়েলি নাগরিকদের উদ্দেশ্যে দেওয়া এক দীর্ঘ বার্তায় ট্রাম্প সরাসরি নেতানিয়াহুকে ‘মহান যোদ্ধা প্রধানমন্ত্রী’ এবং ‘একজন অনন্য অংশীদার’ হিসেবে আখ্যা দেন। ইরানের বিরুদ্ধে যৌথ সামরিক পদক্ষেপ ও হামলা পরিচালনায় নেতানিয়াহুর সাহসিকতার প্রশংসা করে ট্রাম্প তাঁর পূর্ণ ও সর্বাত্মক সমর্থনের কথা জানান।
‘বিবি ছাড়া অন্য কেউ ভুল নেতৃত্ব’: ট্রাম্পের কঠোর বার্তা
ট্রাম্প তাঁর পোস্টে লেখেন, ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ চরম রাজনৈতিক বিরোধিতা সত্ত্বেও নেতানিয়াহু অটল ও শক্তিশালী অবস্থান ধরে রেখেছেন। তিনি ইসরায়েলি ভোটারদের উদ্দেশ্যে বলেন, “ইসরায়েল যদি ভুল কোনো নেতা নির্বাচিত করে—যিনি ‘বিবি’ (নেতানিয়াহু) ছাড়া অন্য কেউ হবেন—তবে আমেরিকাকে হয়তো একা হাতেই সমস্ত কাজ করতে হবে, আর আমি সেটির দিকে যেতে একেবারেই ইচ্ছুক নই।”
ট্রাম্পের এই প্রশংসাসূচক বার্তার জবাবে বিলম্ব না করে এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন নেতানিয়াহু। মার্কিন প্রেসিডেন্টকে ‘প্রিয় বন্ধু ডোনাল্ড’ সম্ভাষণ জানিয়ে তিনি লেখেন, “একসঙ্গে আমরা আমাদের ঐতিহাসিক লক্ষ্য পূরণ করব।”
ইরান যুদ্ধ, বিশ্ববাজার ও মধ্যপ্রাচ্যের টালমাটাল পরিস্থিতি
ইরান ও তাঁর আঞ্চলিক প্রক্সিগুলোর সঙ্গে সরাসরি যুদ্ধের সপ্তম মাসে গড়িয়ে মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
জ্বালানি খাতে প্রভাব: কৌশলগত মহাসড়ক ও জ্বালানি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের বাজারে অস্থিরতা থামছেই না।
আঞ্চলিক অর্থনীতি: সংঘাতের ফলে মধ্যপ্রাচ্যের বাণিজ্যিক রুটগুলো ব্যাহত হয়ে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি চরম চাপের মুখে পড়েছে।
৭ অক্টোবরের হামাস হামলার পর প্রথম ভোট: কার পাল্লা ভারী?
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর গাজা, লেবানন ও ইরান ঘিরে যে বহুমাত্রিক সংঘাত তৈরি হয়েছিল, তার পর এটিই ইসরায়েলের প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচন।
তবে নির্বাচন ঘিরে ইসরায়েলি জনমতে দেখা যাচ্ছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া:
জোট গঠনের অনিশ্চয়তা: জনমত জরিপগুলোতে দেখা যাচ্ছে, সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় অন্তত ৬১টি আসন নিশ্চিত করার জায়গায় স্পষ্ট ব্যবধানে এগিয়ে নেই কোনো দলই।
ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় ভাটা: যুদ্ধ পরিচালনা ও সামরিক সহায়তার কৌশল নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের মধ্যে কিছু মতপার্থক্য সৃষ্টি হওয়ায় ট্রাম্পের ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তাও ইসরায়েলি ভোটারদের মধ্যে কিছুটা হ্রাস পেয়েছে।
বিরোধী শিবিরের সংস্কারের প্রতিশ্রুতি: বিপরীতে, ইসরায়েলি বিরোধী দলগুলো জনগণের অসন্তোষকে কাজে লাগিয়ে দেশে এক নতুন ও দায়িত্বশীল রাজনৈতিক অধ্যায় শুরুর প্রতিশ্রুতি নিয়ে ভোটারদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা করছে।
এনএন/ ১৯ অক্টোবর ২০২৬







