ইয়েমেনের তাইজে সংঘর্ষে ২০০ জনের বেশি হুতি যোদ্ধা হতাহত, দাবি সেনাবাহিনীর

সানা,১৫ অক্টোবর- ইয়েমেনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় তাইজ প্রদেশে সরকারি বাহিনী ও হুতি বিদ্রোহীদের মধ্যে সংঘর্ষে ২০০ জনের বেশি হুতি যোদ্ধা হতাহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে ইয়েমেনের সেনাবাহিনী। বুধবার দিনভর চলা এই সংঘর্ষে হুতিদের সামরিক যান, ট্যাংক ও একটি ড্রোন ধ্বংস করার দাবিও করেছে তারা।
তাইজ মিলিটারি অ্যাক্সিসের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বুধবার সকাল থেকে প্রদেশটির পশ্চিমে ধুবাব ফ্রন্ট এবং দক্ষিণে আল-আকরুদ ও আল-শাকাব ফ্রন্টে তীব্র লড়াই শুরু হয়। বিকেলের দিকে সংঘর্ষ আরও তীব্র হয়ে ওঠে।
আল-মিসরাখ জেলার রাস আল-নাজদ এলাকায় হুতিদের ট্যাংক ও সামরিক যানবহর লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালানো হয়। এ ছাড়া বুধবার ভোরে তাইজ শহরের পূর্বে সোফিতেল পাহাড়ের কাছে হুতিদের অবস্থান লক্ষ্য করে দুটি বিমান হামলা চালানো হয়।
ইয়েমেনের সেনাবাহিনীর দাবি অনুযায়ী, বুধবার রাতে শহরের পশ্চিমে ধুবাব ফ্রন্টে একটি ট্যাংক ও একটি সামরিক যান লক্ষ্য করে আরও দুটি বিমান হামলা চালানো হয়। দিনভর সংঘর্ষে হুতিদের ২০০ জনের বেশি যোদ্ধা হতাহত হয়েছেন। এ ছাড়া তাদের একটি সামরিক যান ধ্বংস করা হয়েছে, দুটি ট্যাংক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, একটি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে এবং একটি সশস্ত্র যানবহর ধ্বংস করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
তবে হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতির এসব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে হুতি বিদ্রোহীরাও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার চলতি মাসের শুরুতে হুতিদের নিয়ন্ত্রণে থাকা এলাকাগুলো পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে ‘ডন অব ইয়েমেন’ নামে একটি সামরিক অভিযান শুরু করে। রাজধানী সানাসহ বিভিন্ন এলাকা পুনর্দখল করা এই অভিযানের অন্যতম লক্ষ্য।
সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের সমর্থনে পরিচালিত এই অভিযান শুরুর পর ইয়েমেনের একাধিক রণাঙ্গনে সংঘর্ষ বেড়েছে। বিশেষ করে তাইজে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান ও সরবরাহপথের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সরকারি বাহিনী ও হুতিদের মধ্যে লড়াই আরও তীব্র হয়েছে।
২০১৪ সালে হুতি বিদ্রোহীরা ইয়েমেনের রাজধানী সানা দখল করার পর থেকে দেশটিতে সংঘাত চলছে। ওই সময় আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে রাজধানী থেকে সরে যেতে বাধ্য হতে হয়। পরে ২০১৫ সালে ইয়েমেন সরকারের সমর্থনে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট দেশটিতে হস্তক্ষেপ করে।
দীর্ঘদিন ধরে চলা এই সংঘাতের মধ্যে নতুন করে সামরিক অভিযান জোরদার হওয়ায় ইয়েমেনের বিভিন্ন অঞ্চলে লড়াই আরও তীব্র হয়েছে। তবে তাইজে সর্বশেষ সংঘর্ষে প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতি ও হতাহতের সংখ্যা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।
এস এম/ ১৫ অক্টোবর ২০২৬







