দিল্লিতে উত্তপ্ত পরিস্থিতি: ককরোচ পার্টির বিক্ষোভের আগে যন্তর মন্তরে ২৪ ঘণ্টার ইন্টারনেট ও যোগাযোগ বন্ধ

নয়াদিল্লি, ০৯ অক্টোবর – ভারতের রাজধানী দিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) পূর্বঘোষিত বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আয়োজিত এই বিক্ষোভের ঠিক আগে যন্তর মন্তরসহ কেন্দ্রীয় দিল্লির বিস্তীর্ণ এলাকায় ২৪ ঘণ্টার জন্য মোবাইল ইন্টারনেট সেবা বন্ধের কঠোর নির্দেশ দিয়েছে পুলিশ। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) রাত ১০টা থেকে শুরু হওয়া এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে শনিবার রাত ১০টা পর্যন্ত।
ইন্টারনেট নিষেধাজ্ঞা ও পরিধি
দিল্লি পুলিশের উপকমিশনারের কার্যালয় থেকে জারিকৃত নির্দেশনা অনুযায়ী, জনপথ ও কর্তব্য পথের সংযোগস্থল থেকে চার কিলোমিটার ব্যাসার্ধের এলাকায় এই নিষেধাজ্ঞা বলবৎ করা হয়েছে।
মোবাইল অপারেটর: এয়ারটেল, ভোডাফোন-আইডিয়া, জিও ও এমটিএনএলকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সব প্রযুক্তির মোবাইল ইন্টারনেট সেবা বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিবের অনুমোদনেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
প্রভাবিত এলাকা: কনট প্লেস, মান্ডি হাউজ, প্রগতি ময়দান, গুরুদ্বার বাংলা সাহিব, বারাখাম্বা রোড, খান মার্কেট, লোধি রোড ও জংপুরার বিভিন্ন অংশ এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে।
বিক্ষোভের মূল কারণ ও সুপ্রিম কোর্টের প্রশ্ন
ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে সিজেপি ও বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন এই আন্দোলনের ডাক দিয়েছে। তবে নির্বাচন কমিশন ও ক্ষমতাসীন বিজেপি এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
এদিকে বিক্ষোভ ঠেকাতে ইন্টারনেট বন্ধের পাশাপাশি দিল্লি মেট্রোর ৫৭টি স্টেশনের প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ বন্ধ রাখা এবং ৬০টির বেশি ট্রেন বাতিলের সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ সরকারের উদ্দেশ্যে কড়া ভাষায় প্রশ্ন তুলেছে, “একটি মাছি মারতে হাতুড়ি ব্যবহার করার মতো পদক্ষেপ কেন নেওয়া হচ্ছে?” আদালত পরিষ্কার জানিয়েছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার নামে সাধারণ মানুষের চলাচলের মৌলিক অধিকার পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া গ্রহণযোগ্য নয়।
আইনশৃঙ্খলা বনাম জনদুর্ভোগ
পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও নিয়ন্ত্রণে রাখতেই এই ব্যাপক কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। অন্যদিকে, মানবাধিকার কর্মী ও সংবাদকর্মীরা বলছেন, ইন্টারনেট ও যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ থাকায় ঘটনাস্থল থেকে সঠিক তথ্য প্রচার এবং সংবাদ প্রকাশে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটছে। আদালতের পর্যবেক্ষণের পর শেষ পর্যন্ত প্রশাসনের পদক্ষেপে কোনো পরিবর্তন আসে কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
এনএন/ ০৯ অক্টোবর ২০২৬







