তাইওয়ানের সঙ্গে পুনঃএকত্রীকরণের লক্ষ্য এগিয়ে নিতে কাজ বাড়ানোর আহ্বান শি চিনপিংয়ের

বেইজিং, ০১ অক্টোবর- তাইওয়ানের সঙ্গে পুনঃএকত্রীকরণের লক্ষ্য বাস্তবায়নে আরও জোরালোভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিং। একই সঙ্গে তাইওয়ান প্রণালির দুই পাড়ের মধ্যে যোগাযোগ ও সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।
চীনের জাতীয় দিবসের আগের দিন বুধবার বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপলে দেওয়া এক ভাষণে এসব কথা বলেন শি। চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া জানিয়েছে, অনুষ্ঠানে কয়েকশ অতিথি উপস্থিত ছিলেন। ভাষণে তাইওয়ানের স্বাধীনতার পক্ষে থাকা বিচ্ছিন্নতাবাদী তৎপরতার বিরোধিতা করেন চীনা প্রেসিডেন্ট। একই সঙ্গে তাইওয়ান ই্যাহত রাখতে হবে এবং জাতীয় পুনঃএকত্রীকরণের লক্ষ্য সামনে রেখে প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। তাইওয়ানের স্বাধীনতস্যুতে বাইরের শক্তির হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধেও অবস্থান জানান তিনি।
শি বলেন, দুই পাড়ের সম্পর্কের শান্তিপূর্ণ উন্নয়ন অব্যাহত রাখতে হবে এবং জাতীয় পুনঃএকত্রীকরণের লক্ষ্য সামনে রেখে প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। তাইওয়ানের স্বাধীনতাপন্থী শক্তির বিরুদ্ধে দৃঢ় পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও তার বক্তব্যে উঠে আসে।
চীন তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ হিসেবে দাবি করে আসছে। অন্যদিকে তাইওয়ান নিজস্ব সরকার ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় পরিচালিত হয়।
বেইজিং দীর্ঘদিন ধরে দ্বীপটির সঙ্গে পুনঃএকত্রীকরণের লক্ষ্য ঘোষণা করে আসছে এবং প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগের সম্ভাবনাও নাকচ করেনি। তাইওয়ান ইস্যুতে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যেও সাম্প্রতিক সময়ে আলোচনা হয়েছে। গত সপ্তাহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে শি ওয়াশিংটনকে তাইওয়ানের স্বাধীনতার বিরোধিতা করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে ‘বিচক্ষণতা’ অবলম্বনের অনুরোধ করেন তিনি।
তাইওয়ানের নিরাপত্তায় যুক্তরাষ্ট্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এবং দ্বীপটি দেশটির কাছ থেকে সামরিক সরঞ্জাম ও অস্ত্র কিনে থাকে।
তবে তাইওয়ানের জন্য বড় অঙ্কের একটি অস্ত্র চুক্তি ওয়াশিংটন স্থগিত রাখায় বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। সে সময় ট্রাম্প চীনের সঙ্গে আলোচনায় অস্ত্র বিক্রির বিষয়টিকে দর-কষাকষির হাতিয়ার হিসেবেও উল্লেখ করেছিলেন।
১৯৪৯ সালের ১ অক্টোবর দীর্ঘ গৃহযুদ্ধের অবসানের পর কমিউনিস্ট বাহিনীর বিজয়ের মধ্য দিয়ে গণপ্রজাতন্ত্রী চীন প্রতিষ্ঠিত হয়। পরাজিত জাতীয়তাবাদী কুওমিনতাং বাহিনীর সদস্য ও সমর্থকদের একটি বড় অংশ পরে তাইওয়ানে আশ্রয় নেয়। এরপর থেকেই দুই পক্ষের মধ্যে রাজনৈতিক বিরোধ অব্যাহত রয়েছে।
জাতীয় দিবসের প্রাক্কালে দেওয়া বক্তব্যে চীনের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কথাও তুলে ধরেন শি। তিনি বলেন, দেশটি বর্তমানে জটিল অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এ অবস্থায় উন্নয়নের নতুন কাঠামো তৈরির কাজ আরও দ্রুত এগিয়ে নেওয়া প্রয়োজন।
চীনের পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের নীতি বজায় রাখার কথাও জানান শি। একই সঙ্গে পরিবর্তনশীল ও অস্থিতিশীল বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে চীনের আরও ইতিবাচক ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
এস এম/ ০১ অক্টোবর ২০২৬







