ভারত সমর্থিত ৭ সন্ত্রাসী নিহত! খাইবার পাখতুনখাওয়া ও বেলুচিস্তানে পাক সেনাবাহিনীর জোড়া অভিযান

ইসলামাবাদ, ২৯ সেপ্টেম্বর – পাকিস্তানের দুই অস্থির সীমান্ত প্রদেশ খাইবার পাখতুনখাওয়া ও বেলুচিস্তানে সেনাবাহিনীর বড়সড় পৃথক অভিযানে নিহত হয়েছে ভারত সমর্থিত সাত সন্ত্রাসী। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) পাকিস্তান সেনাবাহিনীর গণমাধ্যম শাখা এবং দেশটির নিরাপত্তা সূত্রের বিবৃতির বরাতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। দুই অঞ্চলেই গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে সন্ত্রাসীদের গোপন আস্তানা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।
চাগাই জেলায় তাণ্ডব ও সেনাবাহিনীর পাল্টা অ্যাকশন
বিজ্ঞপ্তি সূত্রে জানা যায়, বেলুচিস্তানের চাগাই জেলার ‘নোকচা’ এলাকায় সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের একটি দল আক্রমণ চালায়। তারা স্থানীয় দুটি খালি পানির ট্যাংকে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি জাতীয় মহাসড়ক এন-৪০ (National Highway N-40)-এর বিভিন্ন স্থানে নাশকতামূলক অগ্নিসংযোগ করে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল। খবর পেয়ে দ্রুত এলাকা ঘেরাও করে সেনাদল। সেখান থেকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টাকালে সেনা অভিযানে দুই সন্ত্রাসী নিহত হয়।
উল্লেখ্য, ঠিক একই ধরনের নাশকতার চেষ্টার জবাবে গত ৩১ আগস্টও ওই অঞ্চলে বড় অভিযান চালিয়ে ১১ সন্ত্রাসীকে নিপাত করেছিল পাক সেনাবাহিনী। সেনা সূত্রে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, পুরো বেলুচিস্তান থেকে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোকে পুরোপুরি নির্মূল না করা পর্যন্ত তাদের এই চিরুনি অভিযান থামবে না।
খাইবার পাখতুনখাওয়ায় ‘ফিতনা আল-খারেজি’র আস্তানা ধ্বংস
অন্যদিকে খাইবার পাখতুনখাওয়ার বারা শহরে সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে আলাদা একটি আইবিও (Intelligence-Based Operation) পরিচালনা করা হয়। সেখানে নিষিদ্ধ সন্ত্রাসী গোষ্ঠী ‘ফিতনা আল-খারেজি’-র পাঁচ সদস্যকে হত্যা করতে সক্ষম হয় সেনাদল। নিহত সন্ত্রাসীদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ সামরিক অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধারের পাশাপাশি তাদের একটি গোপন আস্তানা সম্পূর্ণ মাটির সাথে মিশিয়ে দেওয়া হয়।
আফগান সীমান্ত ও পাকিস্তান-তালেবান দ্বন্দ্ব
পাকিস্তানের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম জিও টিভি (Geo TV)-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২১ সালে আফগানিস্তানে তালেবান ক্ষমতায় আসার পর থেকে পাকিস্তানে সন্ত্রাসী হামলা ও সহিংসতা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। পাকিস্তান সরকারের দাবি, তালেবানের সরাসরি পৃষ্ঠপোষকতায় সীমান্ত পেরিয়ে আফগানিস্তান থেকে এসে সন্ত্রাসীরা পাকিস্তানে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড চালায়। তবে কাবুলের তালেবান প্রশাসন শুরু থেকেই ইসলামাবাদের এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
এনএন/ ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬







