জাতীয়

ন্যাম ভবনে ২য় স্ত্রীর মৃত্যু: এমপি গাজী নজরুল, ১ম স্ত্রী ও মামার বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা

 

ঢাকা, ২১ সেপ্টেম্বর – রাজধানী শেরেবাংলা নগরের ন্যাম ভবনে সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মোছা. মরিয়ম খাতুনের (১৯) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় অবশেষে আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা হয়েছে। নিহত মরিয়মের বাবা মামলাটি দায়ের করার পর এমপি গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রীকে ইতিমধ্যে গ্রেফতার দেখিয়েছে পুলিশ।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর ভবনের ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাট থেকে ১৯ বছর বয়সী মরিয়মের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

এজাহারে বাবার গুরুতর অভিযোগ: বিয়ের পর থেকেই শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন

মামলার বাদী ও নিহত মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ শেরেবাংলা নগর থানায় দায়ের করা এজাহারে একাধিক বিস্ফোরক তথ্য তুলে ধরেছেন:

জুন মাসে বিয়ে: চলতি বছরের জুন মাসে ইসলামী শরিয়াহ অনুযায়ী এমপি জিএম নজরুল ইসলামের সঙ্গে ১৯ বছরের মরিয়মের বিয়ে হয়।

একই বাসায় বসবাস ও অমানবিক নির্যাতন: বিয়ের পর থেকে মরিয়ম তার স্বামী ও প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলামের সঙ্গে ন্যাম ভবনের ওই বাসায় বসবাস করছিলেন। বিয়ের পর থেকেই তুচ্ছ বিষয় নিয়ে তার ওপর অমানবিক শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হতো, যা তিনি মোবাইল ফোনে পরিবারের সদস্যদের জানাতেন।

৩ জনকে আসামি করে মামলা: মেয়ে হারানোর বিচার চেয়ে মরিয়মের স্বামী এমপি গাজী নজরুল ইসলাম, প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম এবং বিয়েতে মধ্যস্থতা করা মরিয়মের মামা মো. ওবায়দুর রহমানকে আসামি করা হয়েছে।

ন্যাম ভবনে রোববার বিকেলে ঠিক কী ঘটেছিল?

মরিয়মের বাবা এজাহারে প্রকাশ করেন কীভাবে তিনি ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছোটে যান:

জরুরি ফোনকল: রোববার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে এমপি নজরুল ফোন করে মরিয়মের বাবাকে দ্রুত ন্যাম ভবনের বাসায় যেতে বলেন।

বন্ধ দরজা ও গলায় ফাঁস: খবর পেয়ে মরিয়মের বাবা তার শ্যালিকা সুফিয়াকে নিয়ে সিএনজিযোগে ন্যাম ভবনে পৌঁছান। সেখানে গিয়ে জানতে পারেন মরিয়মের ঘরের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ এবং তিনি ওড়না পেঁচিয়ে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলে আছেন।

বিছানায় উদ্ধারকৃত চিরকুটে বিষাদ ও আক্ষেপ

পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি হাতে লেখা চিঠি উদ্ধার করেছে, যা মরিয়মের বিছানার ওপর পাওয়া যায়। এতে আত্মসম্মান ও প্রতারিত হওয়ার তীব্র যন্ত্রণা ফুটে উঠেছে:

“মায়ায় পড়েছি বলে বারবার তোমার কাছে নত হই… আমি অতি বিশ্বাস করে যুদ্ধে নেমেছিলাম, তার সঙ্গে জিততে পারিনি, হেরে গেলাম ময়দানে…”

আইনি পদক্ষেপে ডিসি তেজগাঁও

মরিয়মের বাবার স্পষ্ট দাবি—তার শ্যালক ওবায়দুর রহমানের প্ররোচনায় এই বিয়ে হয় এবং পরবর্তীতে এমপি ও তার প্রথম স্ত্রীর মারাত্মক শারীরিক-মানসিক নির্যাতন সহ্য করতে না পেরেই তার মেয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন।

মামলার বিষয়ে তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. ইবনে মিজান জানান, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী পরবর্তী কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

এনএন/ ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

Back to top button
🌐 Read in Your Language