টানা ৩ মাস কমে ১০ মাসের সর্বনিম্নে মূল্যস্ফীতি, আগস্টে নেমে এলো ৮.২৬ শতাংশে

ঢাকা, ২০ সেপ্টেম্বর – কয়েক মাসের তীব্র মূল্যস্ফীতির চাপ সামলানোর পর অবশেষে দেশের বাজারে দাম বাড়ার গতি কমার ধারাবাহিক প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, টানা তৃতীয় মাসের মতো আগস্টে সার্বিক মূল্যস্ফীতি কমে ৮.২৬ শতাংশে নেমে এসেছে, যা গত ১০ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন। খাদ্য মূল্যস্ফীতিও কমে ৭ শতাংশের ঘরে চলে আসায় সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় মূল্যচাপ কিছুটা হলেও প্রশমিত হওয়ার ইঙ্গিত মিলছে।
পরপর ৩ মাসের পতন ও মূল্যস্ফীতির পরিসংখ্যান
বিবিএস সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের মে মাসে মূল্যস্ফীতি সর্বোচ্চ ৯.৪২ শতাংশে ওঠার পর গত তিন মাসে তা ১.১৬ শতাংশীয় পয়েন্ট কমেছে।
সাম্প্রতিক মূল্যস্ফীতির গ্রাফ ও পরিসংখ্যান:
- সর্বশেষ আগস্ট: ৮.২৬ শতাংশ (জুলাইয়ের চেয়ে ০.০৬ শতাংশীয় পয়েন্ট কম)
- জুলাই: ৮.৩২ শতাংশ
- জুন: ৯.১৬ শতাংশ
- মে (সর্বোচ্চ): ৯.৪২ শতাংশ
- খাদ্য মূল্যস্ফীতি: জুলাইয়ের ৭.১৬ শতাংশ থেকে আগস্টে নেমে এসেছে ৭.০২ শতাংশে (যা গত বছরের আগস্টে ছিল ৭.৬০%)
- গ্রাম ও শহর: আগস্টে গ্রামে সার্বিক মূল্যস্ফীতি কমে দাঁড়ায় ৮.৩১ শতাংশ (জুলাইয়ে ছিল ৮.৩৬%) এবং শহরে কমে হয়েছে ৮.২০ শতাংশ (জুলাইয়ে ছিল ৮.২৪%)।
“মূল্যস্ফীতি কমার অর্থ পণ্যের দাম সরাসরি কমে যাওয়া নয়; বরং আগের চেয়ে দাম বাড়ার গতি মন্থর হওয়া। এই গতি কমে আসা অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতার সংকেত দেয়।” — অর্থনৈতিক বিশ্লেষকগণ
যেসব পদক্ষেপ কমাচ্ছে মূল্যচাপ
বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ বাড়ানোর পাশাপাশি সরকারের বিভিন্ন নীতিগত ও সামাজিক নিরাপত্তা উদ্যোগ এই মূল্যচাপ কমাতে কার্যকর ভূমিকা রাখছে।
বাজেট ও কর ছাড়: ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে প্রায় ৬০টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর উৎসে কর হ্রাস করা হয়েছে।
সামাজিক সুরক্ষা: কম আয়ের মানুষের সহায়তায় খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি এবং টিসিবির ফ্যামিলি কার্ড ও ওএমএস (OMS) কার্যক্রম ব্যাপক হারে সম্প্রসারণ করা হয়েছে।
টিসিবির নতুন উদ্যোগ: তুলনামূলক কম দামে আমদানি করা পণ্য ভর্তুকি ছাড়াই সরাসরি বাজারে বিক্রির পরিকল্পনা করছে টিসিবি।
লক্ষ্যমাত্রা ও আগামীর প্রত্যাশা
সরকার ২০২৬-২৭ অর্থবছরে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ৭.৫ শতাংশে নামিয়ে আনার সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। আগস্টের এই ধারাবাহিক পতন সেই কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যের দিকে অগ্রগতির ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে। খাদ্য ও খাদ্যবহির্ভূত উভয় খাতেই পণ্যের সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হলে এই নিম্নমুখী ধারা আরও শক্তিশালী হবে বলে মনে করছেন নীতি-নির্ধারকরা।
এনএন/ ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬







