যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি শিক্ষার্থী-সাংবাদিকদের ভিসার মেয়াদ কমানোর নিয়ম স্থগিত

ওয়াশিংটন, ১৫ সেপ্টেম্বর- যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি শিক্ষার্থী, গবেষক ও সাংবাদিকদের ভিসার মেয়াদ কমিয়ে আনার ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার আগেই স্থগিত করেছেন দেশটির একটি ফেডারেল আদালত। ফলে আপাতত আগের নিয়মেই যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানের সুযোগ পাচ্ছেন বিদেশিরা।
সোমবার ডিস্ট্রিক্ট জাজ ডেনিস সেলার প্রস্তাবিত নতুন ভিসা বিধির ওপর প্রাথমিক নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। তবে নতুন নিয়মটি আইনসঙ্গত কি না, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেননি তিনি। আগামী ২ অক্টোবর মামলাটির পরবর্তী শুনানি হবে।
মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস) নতুন বিধিটি প্রস্তাব করেছিল। এতে বিদেশি শিক্ষার্থীদের যুক্তরাষ্ট্রে থাকার অনুমতি সর্বোচ্চ চার বছরে সীমাবদ্ধ করার কথা বলা হয়। চার বছর পর পড়াশোনা চালিয়ে যেতে চাইলে তাদের ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর জন্য নতুন করে আবেদন করতে হতো।
বর্তমান ব্যবস্থায় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা সাধারণত পড়াশোনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে থাকার সুযোগ পান। নতুন নিয়ম কার্যকর হলে সেই ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আসত।
বিদেশি সাংবাদিকদের জন্যও ভিসার মেয়াদ উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোর প্রস্তাব ছিল। নতুন বিধিতে তাদের যুক্তরাষ্ট্রে থাকার মেয়াদ সর্বোচ্চ ২৪০ দিন বা প্রায় আট মাস নির্ধারণের কথা বলা হয়। এরপর একই সময়ের জন্য ভিসা নবায়নের আবেদন করার সুযোগ রাখা হয়েছিল। বর্তমানে বিদেশি সাংবাদিকেরা সর্বোচ্চ পাঁচ বছর পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে থাকার সুযোগ পান।
চীনা সাংবাদিকদের ক্ষেত্রে প্রস্তাবিত নিয়ম ছিল আরও কঠোর। তাদের প্রথমে ৯০ দিনের ভিসা এবং পরে আরও ৯০ দিনের জন্য মেয়াদ বাড়ানোর সুযোগ দেওয়ার কথা ছিল।
এই বিধির বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়, শিক্ষক ও সাংবাদিকদের বিভিন্ন সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত একটি জোট আদালতে মামলা করে। তাদের অভিযোগ, নতুন নিয়ম বিদেশি শিক্ষার্থী ও পেশাজীবীদের জন্য অনিশ্চয়তা বাড়াবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রম ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
মামলার শুনানিতে বিচারক সেলারও নতুন বিধির বিভিন্ন দিক নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। রায়ের সঙ্গে দেওয়া স্মারকে তিনি বলেন, গত কয়েক দশকে বিপুলসংখ্যক বিদেশি শিক্ষার্থী ও গবেষক যুক্তরাষ্ট্রে এসে বিজ্ঞান, চিকিৎসা ও প্রযুক্তিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। একই সঙ্গে তারা দেশটির অর্থনীতিতেও বড় ভূমিকা রেখেছেন।
বিচারকের পর্যবেক্ষণ, বিদ্যমান ব্যবস্থার উন্নতির পরিবর্তে প্রস্তাবিত নিয়ম বিদেশি শিক্ষার্থী, গবেষক, শিক্ষক ও সাংবাদিকের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দিতে পারে। বিশেষ করে ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন নাকচ করার ক্ষেত্রে ডিএইচএসকে ব্যাপক ক্ষমতা দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
সেলার বলেন, সীমিত ও অস্পষ্ট কিছু মানদণ্ডের ভিত্তিতে একজন কর্মকর্তা কোনো বিদেশি নাগরিকের পড়াশোনা, গবেষণা বা শিক্ষকতার কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়ার মতো সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। এমন সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কার্যকর আপিলের সুযোগ না থাকায় বিষয়টি আরও উদ্বেগজনক বলে মনে করেন তিনি।
বিদেশি সাংবাদিকদের ক্ষেত্রেও একই ধরনের ঝুঁকি রয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন বিচারক। বিশেষ করে সরকারের সমালোচনাকারী বিদেশি সাংবাদিকদের ভিসা নবায়ন না করার আশঙ্কা রয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
নতুন বিধির পক্ষে জাতীয় নিরাপত্তার যুক্তি দেখিয়েছিল ডিএইচএস। তবে বিচারক সেলার এ যুক্তি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তাঁর মতে, অল্প কয়েকটি ঘটনার ওপর ভিত্তি করে জাতীয় নিরাপত্তার যে যুক্তি দেওয়া হয়েছে, তা যথেষ্ট শক্তিশালী নয়।
ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতির অংশ হিসেবেই বিদেশি শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের ভিসায় এই কড়াকড়ির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে ১১ লাখের বেশি আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী রয়েছেন। ফলে নতুন বিধি কার্যকর হলে দেশটির উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা খাতেও এর প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এস এম/ ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬







