মেইল ভোটের নতুন নিয়ম কার্যকর করতে ট্রাম্প প্রশাসনের আবেদন খারিজ সুপ্রিম কোর্টে

ওয়াশিংটন, ১৫ সেপ্টেম্বর- মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মেইল ভোটে বিধিনিষেধ আরোপের উদ্যোগে বড় ধাক্কা দিয়েছে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। সোমবার আদালত ডাক বিভাগের (ইউএসপিএস) মেইল ব্যালটসংক্রান্ত নতুন নিয়ম কার্যকর করার অনুমতি দেয়নি। নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে নিয়মটি কার্যকর করার চেষ্টা করছিল ট্রাম্প প্রশাসন।
মেইল ভোটসংক্রান্ত ওই বিধি কার্যকর করতে বিচার বিভাগের করা আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিরা। এর ফলে বোস্টনের ফেডারেল জেলা আদালতের বিচারক ইন্দিরা তালওয়ানির দেওয়া নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকল। ওই নিষেধাজ্ঞায় আইনি চ্যালেঞ্জের নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ইউএসপিএসকে নতুন নিয়ম কার্যকর করা থেকে বিরত রাখা হয়েছিল।
ট্রাম্প মার্চে মেইল ভোটের নিয়ম আরও কঠোর করার লক্ষ্যে একটি নির্বাহী আদেশ জারি করার পর ইউএসপিএস নতুন বিধিটি গ্রহণ করে। আদালত এক সংক্ষিপ্ত আদেশে জানিয়েছে, নিম্ন আদালতের দেওয়া নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে সরকারের চ্যালেঞ্জ সফল হওয়ার সম্ভাবনা কম।
সুপ্রিম কোর্টের রক্ষণশীল বিচারপতি স্যামুয়েল আলিটো ও ক্ল্যারেন্স থমাস সিদ্ধান্তটির বিরোধিতা করেছেন। তবে আর কোনো বিচারপতি প্রকাশ্যে ভিন্নমত জানাননি। সুপ্রিম কোর্টে বর্তমানে ছয়জন রক্ষণশীল ও তিনজন উদারপন্থী বিচারপতি রয়েছেন।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, মেইল ব্যালটের প্রাপকদের তালিকা ডাক বিভাগকে দিতে হতো অঙ্গরাজ্যগুলোকে। পাশাপাশি ডাক বিভাগের অনুমোদিত বিশেষ খাম ব্যবহার করতে হতো, যাতে আলাদা বারকোড থাকার কথা ছিল। তালিকায় থাকা ভোটারদের সঙ্গে মিল না থাকলে বা নির্ধারিত মান পূরণ না করলে ডাক বিভাগ ব্যালট পাঠাতে অস্বীকৃতি জানাতে পারত।
সমালোচকদের আশঙ্কা, এতে নভেম্বরের নির্বাচনের আগে হাজার হাজার বৈধ ব্যালট পাঠানো বাধাগ্রস্ত হতে পারে। অনেক অঙ্গরাজ্য এরই মধ্যে যোগ্য ভোটারদের কাছে মেইল ব্যালট পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, নতুন নিয়মের মাধ্যমে ভোট জালিয়াতি ঠেকানো সম্ভব হবে। তবে যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাপক ভোট জালিয়াতির প্রমাণ খুবই বিরল।
৪ সেপ্টেম্বর বিচারক তালওয়ানি নতুন নিয়মের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেন। তাঁর মতে, বিধিটি মার্কিন সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, কারণ দেশটির সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব অঙ্গরাজ্যগুলোর। একই সঙ্গে ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচন দ্রুত এগিয়ে আসায় অঙ্গরাজ্যগুলোর পক্ষে এত অল্প সময়ে নতুন নিয়ম বাস্তবায়ন করাও সম্ভব নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।
এর একদিন আগে ওয়াশিংটন ডিসির আরেক ফেডারেল বিচারক কার্ল নিকোলসও ইউএসপিএসের এই বিধির বিরুদ্ধে রায় দেন। গত বৃহস্পতিবার প্রথম সার্কিট আপিল আদালত তালওয়ানির আদেশ স্থগিত করার আবেদনও প্রত্যাখ্যান করে। আদালত বলেছিল, নতুন নিয়মটি দেশজুড়ে বিপুলসংখ্যক ভোটারের ভোটাধিকার প্রয়োগে বাধা সৃষ্টি করতে পারে, অথচ ভোট জালিয়াতি ঠেকাতে এর সম্ভাব্য সুফল খুবই সীমিত।
সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি ব্রেট কাভানাও সোমবারের সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত হয়ে আলাদা বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি বলেন, ডাক বিভাগের এখতিয়ারের মধ্যে এই বিধি পড়ার ‘যথেষ্ট সম্ভাবনা’ রয়েছে। তবে ২০২৬ সালের নির্বাচনের আগে অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় নির্বাচন কর্মকর্তাদের পক্ষে এটি বাস্তবায়নের জন্য পর্যাপ্ত সময় নেই।
অন্যদিকে ভিন্নমত জানিয়ে বিচারপতি আলিটো বলেন, নতুন বিধির বিরুদ্ধে করা কিছু আইনি চ্যালেঞ্জ সফল হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। ডাক বিভাগের ডাক ব্যবস্থাপনার ওপর ব্যাপক ক্ষমতা রয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
ট্রাম্প প্রশাসনের মেইল ভোট নিয়ে উদ্যোগের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য, ওয়াশিংটন ডিসি এবং ভোটাধিকার নিয়ে কাজ করা একাধিক সংগঠন আদালতে মামলা করেছে। গত ৬ সেপ্টেম্বর প্রশাসন সুপ্রিম কোর্টের কাছে জরুরি আবেদনে নতুন বিধি কার্যকরের অনুমতি চেয়েছিল। তাদের দাবি ছিল, ভোট জালিয়াতিতে ডাকব্যবস্থা ব্যবহারের সুযোগ ঠেকাতে এই বিধি প্রয়োজন।
মেইল ভোট নিয়ে এই আইনি লড়াই ট্রাম্প প্রশাসনের নির্বাচনী ব্যবস্থায় কেন্দ্রীয় সরকারের ভূমিকা বাড়ানোর ধারাবাহিক প্রচেষ্টার অংশ। গত ২৪ আগস্ট সুপ্রিম কোর্ট বিচারক তালওয়ানির আরেকটি আগের নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছিল, যেখানে ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশ এবং পরবর্তী সময়ে প্রস্তাবিত ইউএসপিএস বিধি আটকে দেওয়া হয়েছিল।
এস এম/ ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬







