সরকারি প্রাথমিকে আসছে বিশাল পরিবর্তন, টিফিনের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে নতুন ২ বই

ঢাকা, ১০ সেপ্টেম্বর – দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে বই-খাতার শিক্ষার পাশাপাশি শিশুদের পুষ্টি ও মানসিক বিকাশে আসছে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন। আগামী বছর থেকেই দেশব্যাপী একযোগে চালু হতে যাচ্ছে ‘স্কুল ফিডিং’ বা মিড-ডে মিল কর্মসূচি। তবে এটি কেবল শিশুদের খাবারের থালায় পুষ্টি জোগানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; সরকারের প্রধান লক্ষ্য এর মাধ্যমে শিক্ষা প্রশাসনে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সুশাসন নিশ্চিত করা।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) ঢাকার পিটিআই-এ আয়োজিত এক প্রশিক্ষণ কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ এসব সিদ্ধান্তের কথা জানান।
ভবন নয়, পরিমাপ হবে ‘শিশুর শেখা’ দিয়ে
ববি হাজ্জাজ অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় জানান, প্রাথমিকে সাফল্যের মূল মাপকাঠি এখন থেকে আর বহুতল অবকাঠামো বা নতুন ভবন দিয়ে হবে না।
শিক্ষার গুণগত মান: শুধু স্কুলে উপস্থিতিই শেষ কথা নয়; প্রতিটি শিশু শ্রেণি থেকে কতটুকু শিখছে, সেটাই হবে মূল হিসাব।
দুর্নীতিতে জিরো টলারেন্স: মিড-ডে মিল কর্মসূচির প্রতিটি ধাপে খাবার পৌঁছানোর মান ও পরিমাণ নিয়ে কড়া নজরদারি থাকবে, যেন অনিয়ম বা দুর্নীতির কোনো সুযোগ না থাকে।
জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থা: গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় প্রাথমিক শিক্ষা কাঠামোর শীর্ষ পর্যায় থেকে মাঠপর্যায় পর্যন্ত সর্বোচ্চ জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
২০২৭ সাল থেকে চতুর্থ শ্রেণিতে যুক্ত হচ্ছে নতুন ২ বই
শিক্ষার্থীদের পড়াশোনাকে কেবল মুখস্থবিদ্যার গণ্ডি থেকে বের করে আনন্দময়, বৈচিত্র্যময় ও বাস্তবভিত্তিক করতে ২০২৭ সাল থেকে চতুর্থ শ্রেণির পাঠ্যক্রমে দুটি নতুন বিষয় যুক্ত করা হচ্ছে:
- বাংলাদেশের সংস্কৃতি: যা শিশুদের দেশীয় ইতিহাস, ঐতিহ্য ও মূল্যবোধের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত করবে।
- খেলাধুলা: যা শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের পাশাপাশি দেশের ক্রীড়াঙ্গন সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা প্রদান করবে।
শিক্ষকদের পদোন্নতি ও বদলিতে আসছে নতুন নীতিমালা
মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা ও শিক্ষকদের জন্য একটি বড় স্বস্তির খবরও দিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী। শিক্ষক ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের কাজের ক্ষেত্র আরও সুসংহত করতে পৃথক দুটি নীতিমালা প্রণয়ন করা হচ্ছে:
- সমন্বিত শিক্ষক নীতিমালা
- প্রশাসনিক নীতিমালা
এসব নীতিমালায় শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের পদোন্নতি, বদলি এবং বেতন-স্কেলসহ চাকরিসংক্রান্ত জটিল বিষয়গুলো সুনির্দিষ্ট থাকবে। ফলে শিক্ষক ও কর্মকর্তা ব্যবস্থাপনায় একটি শৃঙ্খলিত ও আধুনিক কাঠামো গড়ে উঠবে।
কর্মশালায় উপস্থিত অন্যান্য বক্তারাও মনে করেন, প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থার এই শক্ত ভিত্তিই ভবিষ্যতে দেশের সামগ্রিক শিক্ষাঙ্গনের সমস্যা দূর করতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
এনএন/ ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬







