জাতীয়

অভিযোগের মধ্যে ডব্লিউএইচওর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের পরিচালকের পদ ছাড়লেন সায়মা ওয়াজেদ

সায়মা ওয়াজেদ

ঢাকা, ১০ সেপ্টেম্বর- অনিয়ম ও জালিয়াতির অভিযোগ ওঠার পর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের পরিচালকের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) রয়টার্সের দেখা তার পদত্যাগপত্র থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

২০২৪ সালে পাঁচ বছরের জন্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পান সায়মা ওয়াজেদ। তবে গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার পতনের পর বাংলাদেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের মধ্যে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সায়মা ওয়াজেদের বিরুদ্ধে প্রতারণার মামলা করে।

একই সময়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও তার বিরুদ্ধে চীন সফরের খরচে জালিয়াতি, ভুয়া শিক্ষাগত যোগ্যতার তথ্য দেওয়া এবং অনিয়ম করে জমি বাগিয়ে নেওয়ার অভিযোগে তদন্ত শুরু করে। এরপর গত জুলাইয়ে তাকে অবৈতনিক ছুটিতে পাঠানো হয়।

২০২৬ সালের ৩ জুলাই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কাছে সায়মার আইনজীবীদের পাঠানো একটি চিঠি রয়টার্স দেখেছে। ওই চিঠিতে বলা হয়, চীনে তার সফরসংক্রান্ত ব্যয়ের বিষয়ে আর্থিক প্রতারণা এবং তার শিক্ষাগত যোগ্যতা সম্পর্কে ভুল তথ্য দেওয়ার অভিযোগ তুলেছিল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। তবে সায়মা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

সায়মার পদত্যাগপত্র অনুযায়ী, বাংলাদেশে একটি জমি অবৈধভাবে অধিগ্রহণের অভিযোগও তার বিরুদ্ধে তুলেছিল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। সায়মা জানান, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থায় যোগ দেওয়ার আগেই তিনি ওই জমি অধিগ্রহণ করেছিলেন। দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়া এবং দীর্ঘদিন বেতন বন্ধ রাখার কারণে তিনি সংস্থার প্রধানের প্রতি সব আস্থা হারিয়ে ফেলেছেন।

আর্থিক টানাপোড়েনের কারণে তিনি স্বেচ্ছায় দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও তাৎক্ষণিকভাবে মন্তব্যের অনুরোধের জবাব দেয়নি। গত মাসে সংস্থাটি জানিয়েছিল, সায়মা ছুটিতে রয়েছেন। তবে বিষয়টির গোপনীয়তা বজায় রাখার স্বার্থে তার বিষয়ে আর কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি তারা।

এর আগে দুটি সূত্র জানিয়েছিল, সায়মাকে আনুষ্ঠানিকভাবে পদ থেকে সরানোর পরিকল্পনা করছে জাতিসংঘের সংস্থাটি। তাদের একজন জানান, ১২ অক্টোবর নতুন আঞ্চলিক পরিচালকের পদের জন্য মনোনয়ন আহ্বান করা হবে। ডিসেম্বর মাসে প্রার্থীদের যোগ্যতা যাচাই করা হবে এবং ২৪ জানুয়ারি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তবে বিষয়টির সংবেদনশীলতার কারণে সূত্র দুটি তাদের নাম প্রকাশ করতে রাজি হয়নি।

আঞ্চলিক পরিচালকেরা বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যনীতি নির্ধারণে ভূমিকা পালন করেন। রোগের প্রাদুর্ভাব ও জরুরি পরিস্থিতিতে সাড়া দেওয়া এবং স্থানীয় পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নীতি বাস্তবায়ন করা তাদের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের সদস্যদেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ ও ভারত রয়েছে। সদস্যদেশগুলো প্রতি পাঁচ বছর পরপর আঞ্চলিক পরিচালক নির্বাচন করে।

জুলাইয়ের চিঠিতে সায়মা তার আইনজীবীদের মাধ্যমে চীনে সফরসংক্রান্ত আর্থিক প্রতারণার অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, নিয়মিত ব্যয়ের অর্থ ফেরত পাওয়ার প্রক্রিয়ায় তার একজন সহকারী প্রশাসনিক ভুল করেছিলেন। ওই অর্থের পরিমাণ ছিল ৯০১ মার্কিন ডলার।

শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে সায়মা বলেন, বাংলাদেশে স্বায়ত্তশাসন ও অটিজম নিয়ে তার কাজের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি একটি সম্মানসূচক ডক্টরেট পেয়েছেন। এই যোগ্যতার বিষয়ে তিনি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক টেড্রোসকে অবহিত করেছিলেন বলেও জানান।

এস এম/ ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

Back to top button